পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তন্মধ্যে একখানি তাঁহার মাতার জবানী লিখিত সেখানি এইরপ— শ্ৰীশ্ৰীদগণ সহায় কল্যাণপরে পরম শুভাশীব্বাদ– বাবা রামনিধি, আমি তোমায় দশ মাস দশ দিন জঠরে ধারণ করিয়াছিলাম, তাহার কি এই প্রতিফল তুমি আমায় দিতেছ: বাবা, ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়ের মখে শনিয়াছিলাম, তুমি নাকি খাটান হইতে মনস্থ করিয়াছ। এই সংবাদ শুনিয়া, অন্নজল পরিত্যাগপৰ্ব্বক কলিকাতায় ছটিয়াছিলাম, কিন্তু তুমি এমন পাষাণ যে আমাদের সঙ্গে দেখা পৰ্য্যন্ত করিলে না। পরদিন আবার আমরা গিয়াছিলাম, গিয়া শানিলাম তুমি কোথায় চলিয়া গিয়াছ। সেই দিন বাড়ী ফিরিয়া আসিয়া ধরা-শয্যা গ্রহণ করিয়াছি। দবারবানগণকে টাকা দিয়া অনেক কটে গোবিন্স সরকার তোমার কটকের ঠিকানা সম্প্রতি লইয়া আসিয়াছেন। তাই আজ তোমাকে পত্র লিখিতে সমর্থ হইলাম। আমার এ বন্ধ শুরীরে সামথা নাই, থাকিলে এখনই আবার কটকে ছুটিতাম। আর একবার তোমাকে ফিরাইয়া আনিবার চেন্টা করিতাম। বাবা, তুমি কি খাটান হইয়াছ ? যদি হইয়াই থাক, প্রায়শ্চিত্ত করিয়া তোমাকে জাতিতে তুলিয়া লইব, ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় বিধান দিয়াছেন। যদি এখনও খাটান না হইয়া থাক, তবে তোমায় মিনতি করিয়া বলিতেছি, হইও না। আমার বকের ধন বকে ফিরিয়া এস। তাহা যদি না আস, তবে মাতৃহত্যার পাতক তোমায় লাগিবে। তোমার পাদ্রাসাহেবকে জিজ্ঞাসা করিও, মাতৃহতা করায় কি কোনও পণ্য আছে ? আমি কাঁদিয়া কাঁদিয়া অন্ধ হইয়াছি। আমার অন্ধের নয়নমণি, ফিরিয়া এস। তোমার দুঃখিনী মা লেখক—শ্ৰীগোবিন্দচন্দ্র সরকার। পত্র পাঠ করিয়া রামনিধিবাক একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিলেন। তখনই কাগজ কলম লইয়া মাকে লিখিলেন- মা, আমি এখনও খাটান হই নাই। খাটনি হইবার বাসনাও আর নাই। তোমার অধম সন্তান শীঘ্রই তোমার শ্রীচরণে ফিরিয়া যাইবে।” চিঠি ডাকে দিয়া, মহাতি পরিবারের নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়া, ইংরাজি পোষাক ফেলিয়া দিয়া ধতি চাদর পরিয়া, গোরর গাড়ী ভাড়া করিয়া সেই দিনই রামনিধিবাব পরে যাত্রা করিলেন। সেখানে মাথা মড়াইয়া, প্রায়শ্চিত্ত করিয়া, জগন্নাথ দশন করিয়া, সপ্তাহ পরে গহে প্রত্যাবত্তন করিলেন। { বৈশাখ, ১৩১৬ ] প্রবাসিনী প্রথম পরিচ্ছেদ জন মাস। বালসায্যের কনকরমিত্বে লন্ডন নগর উদ্ভাসিত। পথে পথে পপবালিকারা রাশি রাশি ফল বিক্রয় করিতেছে। একখানি ফোর-হাইলারে চড়িয়া, মালপত্র সহ দুইজন বঙ্গীয় যবেক টেমস নদীর একটি জেটিতে উপনীত হইল। অদ্য বেলা বারোটার সময় এই ঘাট হইতে এডিনবরা অভিমখে একখানি জাহাজ ছাড়িবে। যবক দুইটি গ্রীমাবকাশে তথায় বেড়াইতে যাইতেছে। * একজনের নাম হেমচন্দ্র দত্ত। সে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিভাশালী ছাত্র ছিল। বিলাতে আসিয়া কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হইতে উচ্চ সম্মানের সহিত উপাধিলাভ করিয়া, গত বৎসর সিভিল সাভিস পরীক্ষাতেও কৃতকাৰ্য্য হইয়াছে। অ 86.