পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নভেম্বর মাসে দেশে ফিরিবে। অপর যুবকটির নাম অতুলচন্দ্র মিত্র। সে ধনীর সন্তান। আজ ছয় বৎসর বিলাতে আছে—এখনও পাস-টাস বিশেষ কিছই করিতে পারে মাই। দেশ হইতে আসিবার সময় ইহার অভিভাবকেরা বলিয়া দিয়াছিলেন, বিলাতে পেপছিয়া সিভিল সাভিসের জন্যও চেষ্টটা করিবে, বারেও নাম লেখাইবে । সিভিল সাভিসে কুতকাৰ্য্য হও উত্তম; না হও, ব্যাবিটার হইয়া ফিরিবে।. অতুলচন্দ্র বিলাতে আসিয়া সিভিল সাভিসের জন্য "চেণ্টা” করিতে লাগিল, কিন্তু আজি কালি করিয়া বারে ভত্তি হওয়া আর হইল না। বারে ভত্তি হইবার বার্ষিক ফাঁ দেড়সহস্র পরিমাণ রজতমদ্রোরপে পক্ষিশাবক যাহা অানিয়াছিল, ইতিমধ্যে ক্রমে তাহদের পক্ষোভেদ হওয়াতে সেগুলি উড়িয়া গেল। তিন বৎসর অতীত হইল। অতুলচন্দ্র উপযাপরি দুইবার সিভিল সাভিস পরীক্ষায় ফেল করিল। তাহার পিতামাতা লিখিলেন, তবে এইবার ব্যারিস্টারির সনদ লইয়া শীঘ্ৰ ফিরিয়া আইস। তখন অতুল বাড়ীতে লিখিতে বাধ্য হইল, ব্যারিস্টারির জন্য এখনও ভত্তি হওয়াও হয় নাই। টাক চাই।--ব্যারিস্টারির পড়াও তিন বৎসর হইয়া গিয়াছে। কিন্তু এখনও পরীক্ষাদি দিবার কোনই আয়োজন অতুলচন্দ্র করিয়া উঠিতে পারে নাই। সে বলে লন্ডন বড়ই চিত্তবিক্ষেপকর। তাই খানকতক চকচকে নতন বহি কিনিয়া লইয়া, দইমাসের জন্য এডিনবরায় যাইতেছে। সেখানে নিজনে ভাল করিয়া পাঠ অভ্যাস করবে, এই মহৎ সঙ্কল্প এখন তাহার মনে জাগরকে । গোড়ীখানি জেটির কাছে পেপছিল। দুইজনে নামিয়া, মটিয়ার সাহায্যে জিনিষপত্রগলি জাহাজে তুলিল। নিজ নিজ নিদিষ্ট ক্যাবিনে জিনিষ গোছাইয়া উভয়ে উপরে ডেকে গেল। তখন বেলা দশটা মাত্র। আরোহী অতি অলপসংখ্যকই আসিয়াছে। অনেকে জিনিষপত্র অগ্রিম জাহাজে পাঠাইয়া দিয়াছে, নিজেরা যথাসময়ে আসিবে। যবেক দইজন সিগারেট মুখে করিয়া ডেকের উপর ইতস্ততঃ পরিক্রমণ করিতে লাগিল । হঠাৎ একপথানে সতপেীকৃত কতকগুলি বাক্স পেটারার মাঝে একটা জিনিষ হেমের দটি আকষণ করিল। অতুল সে সময়ে কিয়ন্দরে জাহাজের রেলিং ধরিয়া যাত্রীগণের আগমন নিরীক্ষণ করিতেছিল। হেম ডাকিয়া বলিল—“ওহে অতুল, দেখ দেখ।" অতুল উৎসকে হইয়া নিকটে আসিল। হেম দেখাইল, একটি তেরঙ্গের আঞ্জটায় লেবেল বাঁধা রহিয়াছে, তাহাতে লেখা আছে—“Miss Roy." অতুল বলিল, “মিস রায় কে বিলেতে এসেছেন আমি ত ঠিক করতে পারছিনে ?" হেম বলিল, “আমিও ত শনিনি :” তখন দুইজনে কলিকাতাথ রায়-পরিবারগণের একে একে নামোল্লেখ করিয়া আন্দাজ করিতে লাগিল, কিন্তু কোনও কুলকিনারা পাইল না। অতুল বলিল, “চল একবার সমস্ত জাহাজটা ঘরে দেখি, মানুষটা কি রকম।” হেম বলিল, "এত লোকের মাঝে চিনতে পারবে ?” অতুল বলিল, “শত শত কুমন্দ কহল্লারের মধ্যে একটি পদ্ম যদি ফটে থাকে, তবে কি তাকে বেছে বের করা শক্ত :" - হেম হাসিয়া বলিল, “কি অবিচার । এমন সন্দের সন্দের ইংরেজের মেয়েরা হল কুমদে কহয়ার, আর তোমার বাঙ্গালীর মেয়ে হল পাম?" “নিশ্চয়। কোথায় এমন মধ্য বিনা বঙ্গ-কুসমে। রবি ঠাকুরের ব্রজাঙ্গনা কাবো না কিসে পড়েছিলাম।” হেম অতুলের পিঠ চাপড়াইয়া বলিল, “ধন্য তোমার বাঙ্গলাসাহিত্যজ্ঞান। ধন্য তোমার সবজাতিপ্রীতি !” অতুল বলিল, "চল, একটু খুজে দেখা যাক।” দুইজনে তখন জাহাজের নানাপথনে খাজিল, কিন্তু একখানি সনি্ধ, সলজ, শ্যামবর্ণ মখ কোথাও দেখা গেল না। দুইজনে হতাশ হইয়া আবার ডেকে ফিরিয়া আসিল । 8& o