পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আহারান্তে বৈঠকখানাতেই তাঁহার শয্যা প্রস্তুত হইল। হৰ্ষীকেশ রাত্রির মত বিদায় গ্রহণ করিলেন। পর্বেকথিত ভূতাবালক একপাশে কবল পাতিয়া শুইল। দশ্চিন্তায় সমস্তরাত্রি রাহ্মণের নিদ্রা হইল না। যে কাযের জন্য আসিয়াছেন, তাহা সফুল হইবে কি হইবে না, এই ভাবিয়া ভাবিয়াই রাত্রি কাটিল। তামাক সাজিতে সাজিতে চাকর ছোঁড়ার প্রাণান্ত হইল। রান্ত্রি তিনটার সময় যখন সীতানাথ তামাক সাজিলার জন্য আবার তাহাকে জাগাইলেন, তখন সে বলিল, “তামকে আর নেই ঠাকুর, সব ফরিয়ে গিয়েছে।” বেগতিক দেখিয়া শেষবারে তামাক সাজিবার সময় সে বাকী তামাকটকু জানালা গলাইয়া বাহিরে ফেলিয়া দিয়াছিল। দ্বিতীয় গরিচ্ছেদ ! কযোদ্ধার সকাল হইলে দাগ দগণ বলিয়া সাঁতানাথ গায়োখান করিলেন। বৈবাহিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হইল। ধুমপান করিতে করিতে সীতানাথ সিথর করিলেন এইবার বলি। মনোগত অভিপ্রায় ব্যক্ত করিবার সচনাটা এইরুপ হইল — “বেয়াই মশাই—অদ্যটি ছাড়া ত আর পথ নেই, আমাদের যা অদস্টে ছিল তা কে খণ্ডন করবে বল ? আমার আর চারটি বউ আছে, কিন্তু ছোট বউমা যেমন ছিলেন, তেমনটি কেউ নয়। আমার এত গণের বউকে গিনী দেখে যেতে পাননি, সেই দুঃখই চিরকাল থাকবে। মার আমার যেমন রপে তেমনি গণে ছিল। তাঁর গণে পশুপক্ষী পৰ্যন্ত বশ হয়েছিল। বাড়ীতে রাঙী বলে একটা গাই আছে, এমনি বজাং, তার ত্রিসীমানায় কেউ যেতে পারে না, শিঙ পেতে গ;তোতে আসে, কেবল ছোট বউমা কাছে গেলে সে কিছ বলত না। জীয়ে জায়ে ঝগড়া কলহ, এ ত চিরদিন সকল সংসারে চলে আসছে, কিন্তু আমার অন্য বউরা ছোট বউমাকে নিজেদের সহোদরা ভগনীর মত মনে করতেন। দুঃসংবাদট। শনে বড় বউমা একবারে আছাড় খেয়ে পড়েছিলেন। তিন দিন তিন রাত্রি, জলপশা করেন নি। আজও বলেন, আমার পেটের সন্তান গেলে এতটা হত না।” হষীকেশ চক্ষর জলে মাটি ভিজাইতেছিলেন। কামপতসবরে বলিলেন—“বেয়াই মশাই, থাক আর সে সব কথা কয়ে ফল কি. অন্য কথা বলন।” সীতানাথ চািপ করিলেন। তাঁহার ভূমিকাই তাঁহাকে মাটি করিয়া দিল। নীরবে নিজের বৃদ্ধিকে ধিক্কার দিতে লাগিলেন। কিয়ৎক্ষণ আবার এ কথা সে কথা পাঁচ কথায় কাটিল। এবার সীতানাথ নিজের উপর অত্যন্ত রাগ করিয়া, ভূমিকমাত্র বজ’ন করিয়া, কথাটা বলিয়া ফেলিলেন। শুনিতে এমন কাঠখোটা রকম ঠেকিল যে নিজেরই লজ্জা করিতে লাগিল। কথাটা আর কিছুই নয় বধমাতার অলঙ্কারগুলির কথা। তাহাই বন্ধ আদায় করিতে আসিয়াছেন। প্রস্তাবটা শনিয়া হাষীকেশ অনেকক্ষণ নিস্তবধ হইয়া রহিলেন। বৈবাহিকের আগমনসংবাদ প্রাপ্তিমাত্রই তিনি ইহা বঝিতে পারিয়াছিলেন।--আর এ ত জানা কথা। তব তাঁহার মনে এক একবার দর্শা উপস্থিত হইল, গহনাগুলি আটকাইবেন, দিবেন না। নাতিনীটি যদি বাঁচে-কুলীনের ঘরের মেয়ে, বাঁচিবারই ষোল আনা সম্ভাবনা—তবে তাঁহারই ঘাড়ে পড়িল । ঐ অলঙ্কারগুলি অবলম্বন করিয়া তাহার বিবাহ দিবেন। দই হাজার টাকার অলঙ্কার দিয়া তিনি যখন একমাত্র কন্যার বিবাহ দিয়াছিলেন, তখন তাঁহার অবস্থা খুব ভাল ছিল। উপযর্ন্যপবি কয়েক বৎসর ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া এখন সে অবস্থার পরিবত্তন হইয়াছে । তাঁহার ছেলেগুলাও কেহ মানুষের মত হয় নাই । তাঁহার অবত্তমানে, কি করিয়া যে তাহারা সংসার চালাইবে, তাহাই তিনি মাঝে মাঝে ভাবিয়া আকুল হইতেন। এই সকল পাঁচ রকম ভাবিয়া চিন্তিয়া তিনি অলংকারগুলি রাখিবার দরোশা মনোমধ্যে পোষণ করিয়াছিলেন। অন্ততঃ তাশদভসা কালহরণং যত বিলম্বব হয় তাহার &3