পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বয়স, আর হইবার ভরসাও নাই। অনেকদিন হইতে তাঁহার মাসী পিসী প্রভৃতি পনবার বিবাহ করিবার জন্য তাঁহাকে অনুরোধ করিতেছেন। ক্ষেত্রমোহনের আন্তরিক বাসনও তাহাই ਜੋকিন্তু রসময়ীর ভয়ে এ পয্যন্ত এ বিষয়ে কোনরপে চেন্টাচরিত্র করিতে সাহস করেন নাই । ইতিমধ্যে সামান্য একটা ঘটনা উপলক্ষ্যে রসময়ী ভয়ানক বিপ্লবের সটি করিয়া ক্ষেত্রমোহনকে দইদিন গৃহছাড়া করিল। অবশেষে নিজে তাহার পিত্ৰালয় হালিসহরে- চলিয়া গেল। ক্ষেত্রমোহন তখন সাহসে ভর করিয়া গহে ফিরিয়া আসিলেন এবং প্রতিজ্ঞা করিলেন রসময়ীর আর মুখদর্শন করিবেন না—অন্যত্র বিবাহ করিবেন। এ বাড়ীতে রসময়ীকে আর ঢাকিতে দিবেন না—এই শেষ । দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হালিসহর গ্রামটি হুগলীরই অপর পারে—মধ্যে গঙ্গা প্রবাহিতা। চৌধুরীপাড়ায় রসময়ীর পিত্ৰালয়। অনেক দিন হইল তাহার পিতামাতার কাল হইয়াছে। এখন সে বাড়ীতে রসময়ীর বিধবা দিদি বিনোদিনী এবং তাহার দুইটি ছোট ভাই নবীন ও সবোধ বাস করে। নবীন কাঁচড়াপাড়ার কারখানায় কম বরে: সবোধ ইস্কুল ছাড়িয়া এখন বাড়ীতেই বসিয়া আছে-এখনও কিছ জাটে নাই। মাসাধিক কাল রসময়ী হালিসহরে বাস করিতেছে। পর্বে পাবে এরপে স্থলে দইচারি দিন বা বড় জোর এক সপ্তাহ পরে, দন্তে তৃণ করিয়া ক্ষেত্রমোহন আসিয়া উপস্থিত হইতেন এবং কত সাধ্যসাধনা করিয়া সীকে গহে ফিরাইয়া লইয়া যাইতেন। কিন্তু এবাৰু -সে নিয়মের ব্যতিক্ৰম দেখিয়া রসময়ী কিছ চিন্তিত হইয়া পড়িয়াছে। পাড়ার একজন বালক প্রত্যহ নৌকাযোণে গঙ্গাপার হইয়া হুগলি ব্রাঞ্চ ইস্কুলে পড়তে যাইত। সে ছেলেটি গ্রামে প্রচার করিয়া দিল—ক্ষেত্রমোহনবাবরে বিবাহ; দিনসিথর হইয়া গিয়াছে। - এই কথা শুনিয়া রসময়ীর দিদি বনোদিনী একদিন বৈকালে ছেলেটিকে বাড়ীতে ডাকিয়া আনিলেন। তাহাকে সন্দেশ ও রসগোল্লা খাইতে দিয়া বললেন—“বাবা, শনলাম নাকি আমাদের ক্ষেত্তর আবার বিয়ে করছে ? এ কথা কি সাঁতা?” বালক বলিল—“হ্যাঁ সত্যি বইকি । আমাদের ক্লাশে সরেশ বলে একটি ছেলে পড়ে, চচড়োয় তার মামার বাড়ী। তারই মামাতো বোনের সঙ্গে বিয়ে।” ' “ঠিক জান ??? “জানি বইকি। সরেশই ত আমাকে বলেছে। দিনপিথর পয্যন্ত হয়ে গেছে।” "তার মামার নাম কি ?” “নাম হরিশ্চন্দ্র চাটয্যে। জজ আদালতে কুৰ্ম্ম করেন।” “তাদের বাড়ীটি তুমি চেন বাবা ?” “হাঁ চিনি বইকি । সুরেশের সঙ্গে কতবার গিয়েছি।” “কত বড় মেয়ে ?” "এই আমাদের বয়সীই হবে।”—বালকটির বয়স ত্রয়োদশ বৎসর। “কেমন দেখতে ??? “তা—বেশ সন্দের।” বিনোদিনী কিয়ৎক্ষণ চিন্তা করিলেন । শেষে বলিলেন—“আচ্ছা, কাল একবার আমাদের দ্য বোনকে সে বাড়ীতে নিয়ে যেতে পার বাবা ?” “কেন ?” “তাদের একবার মিনতি করে বলে কয়ে দেখি। বিয়ে হলে আমার বোনটিরও সখ হবে না—তার মেয়েও জলে পড়বে। কাল একবার আমাদের নিয়ে চল।” - - هوام