পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


না : জটলো না ?”— এই অভাবনীয় ঘটনায় বাড়ীর লোকে ক্ষণকালের জন্য হতবুদ্ধি হইয় গেল। তাহার পর মহা গণ্ডগোল আরম্ভ হইল। অল্পবয়স্ক বালিকারা কাঁদিয়া ছটিয়া কেহ খাটের নীচে, কেহ সিন্দকের আড়ালে লুকাইল। বাডীর ঝি বসিয়া বাসন মাজিতেছিল, সে বাসন ফেলিয়া—“ওরে খনন কল্লে রে—খন কল্পে রে-সেপাই-এ সেপাই-এ পাহারাওয়ালা”—বলিয়া উদ্ধনশবাসে ছটিয়া রাস্তায় বাহির হইয়া পড়িল। বাড়ীর অপর মেয়েরা আসিয়া রসময়াকে ধরিয়া ফেলিল। রসময় তখন গহিণীকে ছাড়িয়া তাহাদের উপর কিল চড় ও নিষ্ঠীবন-বটি করিতে লাগিল। কাহারও কাপড় ছিড়িয়া দিল, কাহারও চল ছিড়িয়া দিল, কাহাকেও খামচাইয়া দিল, কাহাকেও কামড়াইয়া দিল। হাঁফাইতে হাঁফাইতে বুলিতে লাগিল—“কনেটি গেল কোথা ? তাকে একবার বের কর না। চোখ দটো গেলে দিয়ে যাই। নাকটা কেটে দিয়ে যাই। দাঁতগুলো ভেঙ্গে দিয়ে যাই।” বিনোদিনী এতক্ষণ চপ করিয়া দাঁড়াইয়াছিল। ক্ৰমে সদর দরজায লোক হৈ হৈ করিতে লাগিল। তখন সে বলিল, “রসময়ী থাম থামা—ক্ষ্যামা দে বোন—খবে হয়েছে। চল বাড়ী চল।” ঝি ছটিয়া বাড়ীতে প্রবেশ করিয়া যলিল—“ওগো যেতে দিওনি-—থানায় খবর দিয়ে এসেছি, দারোগা আসছে।" পলিসের নাম শুনিয়া রসময়ী বলিল—“চল দিদি, চল।” “যাবে কোথা—দারোগা আসকে তবে যেও।”—বলিয়া দই তিনটি স্ত্রীলোক রসময়াকে ধরিতে অগ্রসর হইল । রসময়ী এক লাফে উঠানের কোণ হইতে অশিবটিখানা সংগ্রহ করিয়া মাথার উপর সবেগে ঘরাইয়া বলিল-—“খন চেপেছে—আমার খন চেপেছে—সবাইকে গন করে ফসি সুবি ।” ইহা দেখিয়া সমস্ত সীলোক “মা গোঃ” বলিয়া ছটিয়া ঘরে ঢকিয়া দয়ার বন্ধ করিয়া দিল। “পাহারাওয়ালা—এ পাহারাওয়ালা—আসামী পালায়”—বলিয়া চীৎকায় করিতে করিতে ঝি পনশচ রাস্তায় বাহির হইয়া পড়িল । রসময় তঙ্গল দিদির সহিত খিড়কী দরজা দিয়া বাহির হইয়া গাড়ীতে উঠিয়া বলিল —“পারঘাটে চল ।” চতুর্থ পরিচ্ছেদ বলা বাহুল্য হরিশচন্দ্ৰবাব ক্ষেত্রমোহনকে কন্যাদান করিলেন না। তাঁহার গহিণী বলিলেন—“সে খনে মেয়েমানুষ, বিয়ে দিলে আমার মেয়েকে খন করে ফেলবে। তুমি অন্যত্র চেষ্টা দেখ।” - পরদিন কাছারীতে গিয়া হরিশবাবর মুখে ক্ষেত্রমোহন সকল কথাই শ্রবণ করিলেন। রাগে তাঁহার সববাঁশরীর জম্বলিতে লাগিল । কাছারি হইতে বাড়ী ফিরিয়া, হাত মুখ ধুইয়া, অন্তঃপরে বসিয়া ক্ষেত্রবাব তামাক খাইতেছিলেন, এমন সময় হঠাৎ ঝড়ের মত রসময় আসিয়া প্রবেশ করিল। কয়েক মহন্তে নিবাক হইয়া ক্ষেত্রমোহনের পানে দটিপাত করিল—সেই প্রকার দটিপাত, যে দটিপাতে পর্বে মুনিঋষিরা লোককে ভস্ম করিয়া ফেলিতেন। ক্ষেত্ৰবাব বললেন—“কি মনে করে ?” রসময়ী অসম্ভব সংযমের সহিত উত্তর করিল-“একটা শ্রান্ধের যোগাড় করতে।" তাহার ওঠযগল ক্ৰোধে কম্পিত হইতে লাগিল। তামাক টানিতে টানিতে ক্ষেত্রমোহনবাব বললেন-শ্ৰোদ্ধটা কার?” ৬২ i