পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কথাবাত্ত কহিতেছিলেন—খড়া মহাশয় একখানি “বঙ্গবাসী" হতে ঘরের কোণে বসিয়৷ তামাকু সেবন করিতেছিলেন। এমন সময় ডাকপিয়ন আসিল, ক্ষেত্রমোহনবাবরে হতে একখানি পত্র দিয়া গেল। খামের উপর হস্তাক্ষরের প্রতি দষ্টিপাত করিয়া ক্ষেত্রমোহনের মাথা ঘুরিয়া গেল। দই চারিবার চক্ষ রগড়াইয়া বারবার খামখানির শিরোনামা পরীক্ষা করিতে লাগিলেন। কাছে আনিয়া, দরে সরাইয়া, নানা প্রকারে দেখলেন। অবশেষে কল্পিত হতে পত্ৰখানি খলিলেন। পড়িয়া তাঁহার মুখ বিবর্ণ হইয়া গেল । মক্কেলগণকে বলিলেন—“আচ্ছা, এখন তোমরা যাও—আজ সকালে সকালেই কাছারি সাব— সেইখানেই বাকি কথাবাত্তা হবে এখন।” মক্কেলগণ চলিয়া গেলে খড়া মহাশয় বলিলেন—“চিঠি এল ক্ষেত্তর ?” জড়িত সবরে ক্ষেত্রমোহন বলিলেন—“ সাঞ্জে হ্যাঁ।” “কোথাকার চিঠি ?” “তাই ত ভাবছি।” ক্ষেত্রমোহনের মুখভাব এবং কন্ঠস্বরের বিকৃতি লক্ষ্য করিয়া খড়া মহাশয় উঠিয়া নিকটে আসিলেন। তখন ক্ষেত্রমোহন পত্ৰখানি দ্বিতীয়বার পাঠ করিতেছেন। তাঁহার নিশবাস বন্ধ হইবার উপক্ৰম হইয়াছে, চক্ষ কপালে উঠিয়াছে। খড়া মহাশয় দ্রুতভাবে বলিলেন—“কি ? ব্যাপার কি ? কোনও দুঃসংবাদ নয় ত?” ক্ষেত্রমোহনবাব নীরবে পত্নখনি খড়া মহাশয়ের হাতে দিলেন। তিনি পত্র লইয়া চশমা অনুসন্ধান করিয়া চক্ষে পরিলেন। জানালার কাছে দাঁড়াইয়া খড়া মহাশয় পত্রখানি পড়িতে লাগিলেন। সাধারণ পাতলা চিঠির কাগজে, বেগনী রংঙের ম্যাজেটা কালি দিয়া লেখা—উপরে পথানের নাম নাই, তারিখ নাই—নিম্ন প্রকার লিখিত ঃ– শ্ৰীশ্ৰী দলগা সবহায় প্রণামপবেক নীবেদনটি বিসেস— তোমার মোতিশচন্য ধরিআছে। মোনে করিআছ রসমই মরিআছে আপোদ গিআছে এইবার বিবাহ করি। আমি মরিআছি বটে কিন্তু তাই বলিয়া তুমি নিকিতি পাইতাছ তাহা মোনেও করিও না। বাড়ির সনমন্খে যে বড় বটগাচ আছে তাইতে আমি আজ কাল বাস করিতেছি। তুমি কি কর কোতায় যাও সমপৰ্থই আমি সেখানে বসিয়া দেখিতেছি । রাত্তিরে গাচ হইতে নামিয়া মাজে মাজে তোমার সয়ন ঘরে যাই । তোমার খাটের চারিদিকে ঘুরিয়া বেড়াই। এক একবার ইচ্ছা করে গলাটা টিপিয়া দিয়া তোমাকেও আমার সঙ্গি করি। আমার একানে বড়ডো একলা বোধ হয়। আমার চেহারা একন ওfতশয় খারাপ হইয়া গিআছে ; আমার গাএর মাংসো চামড়া আর কিছুই নাই। খালি হাড় আছে তাও সাদা নয়। গংগাস্তিরে আমাকে জে পোড়াইআছিলে তাইতে হাড়গনো কালো কালো হইয়া গিআছে। যাহা হউক নিজের রূপ বন্ননা নিজের মুখে শোভা পায় না। বিবাহ করিও না করিলে তোমার নলীটে অসেস দগগতি নেকা আছে। রসমই পত্র পড়িয়া খড়া মহাশয়েরও মুখ কালিমাময় হইয়া গেল। ভীতস্বরে জিজ্ঞাসা করিলেন—“এ হাতের লেখা কার চিনতে পারছ ?” “খবে চিনি। তারই হাতের লেখা।” “অন্য কেউ জাল করেনি ত ?” “ভগবান জানেন ।” ميه খড়া মহাশয় নিকটস্থ চেয়ারে বসিয়া পড়িলেন। কিয়ৎক্ষণ ছাদের কড়িকাঠের পানে চাহিয়া বলিয়া উঠিলেন—“জয়রাম—সাঁতারাম—রাম রাঘব-রাবণারি--রাম—রাম—রাম।” খড়া মহাশয়কে এতদবস্থায় দেখিয়া, ক্ষেত্রমোহনের আরও ভয় হইল। বলিলেন • * v8