পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“আচ্ছা খড়ো মশায়-ভূতে কখন চিঠি লেখে :“ খড়া মহাশয় বলিয়া উঠিলেন-“ভূত বলতে নেই-ভূত বলতে নেই—উপদেবতা বল। রাঘব রামচন্দ্ৰ।" জয় দইজনেই নিবাক। অবশেষে খড়া মহাশয় বললেন—“দেখ—কারর বদমাইসি নয় ত ? এমনটাই কি হতে পারে? অনেক রকম ভৌতিক উপদ্রবের কথা শুনেছি বটে— কিন্তু—এরকমটা-কখনও ত শোনা যায়নি। আচ্ছা-বউমার হাতের লেখা আগেকার চিঠিপত্র কিছ আছে কি? লেখাটা মিলিয়ে দেখলে হয়।" ক্ষেত্রমোহন বলিলেন-পরাণো চিঠি আছে বই কি।”—বলিয়া বাটির মধ্যে প্রবেশ করিয়া চারি পাঁচখানা বাহির করিয়া আনিলেন। খড়া মহাশয় চশমার কাঁচ দুইখানি কোঁচার কাপড়ে ভাল করিয়া মাজ’না করিয়া লইলেন। পরে পত্রগুলি লইয়া অত্যন্ত সাবধানে হসন্তাক্ষর মিলাইতে লাগিলেন। অবশেষে সেগুলি টেবিলের উপর ফেলিয়া, দীঘ নিশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া বলিলেন—“একই হাতের লেখা ত দেখছি।” খামখানা উটিয়া পার্টিয়া দেখিতে লাগিলেন। এক পয়সার ছয়খানাওয়ালা সাধারণ শাদা খাম। তাহাতে একখানি দুইপয়সার টিকিট অটিা আছে। ক্ষেত্রমোহনের হাতে খামখানি দিয়া বলিলেন--"কোথাকার ছাপ দেখ ত ?” ক্ষেত্রবাব বাঙ্গলানবীশ মোঃার হইলেও ইংরাজি ছাপার অক্ষর পাঁড়তে পারিতেন । ছাপ পরীক্ষা করিয়া বলিলেন--"হগলির ছাপ। কালকের তারিখ।" খড়া মহাশয় চপ করিয়া বসিয়া রহিলেন। মাঝে মাঝে কেবল অসফট স্বরে বলিতে লাগিলেন—“জয় রাম-শ্রীরাম-সীতারাম।" কাছারির বেলা হয় দেখিয়া মোক্তারবাব স্নান করিয়া আহারে বসিলেন–কিন্তু কিছুই খাইতে পারিলেন না। রান্নাঘরের বারান্দায় যেখানে বসিয়া তিনি আহার করিতেছিলেন, সেখান হইতে বটগাছটার অগ্রভাগ দেখা যায়। খান, আর মাঝে মাঝে সেই গাছটার পানে চাহেন। একসময় গাছের একটা ডাল খড় খড় করিয়া নড়িয়া উঠিল। কাহার যেন হাসিরও শব্দ শনা গেল। ক্ষেত্রমোহনবাবরে আর খাওয়া হইল না। উঠিয়া পড়িলেন। মাখ প্রক্ষালন করিয়া বাহিরে আসিয়া বটগাছটার পানে কিছুক্ষণ চাহিয়া রহিলেন । দই তিনটা কাঠবিড়ালী ডালে ডালে পরস্পরকে তাড়া করিয়া ফিরিতেছে। গোটাকতক কাক উচ্চশাখায় বসিয়া জাতীয় সংগীত গাহিতেছে। ইহা ভিন্ন আর কিছুই দেখিতে পাইলেন না। ৰষ্ঠ পরিচ্ছেদ সেই দিন সন্ধ্যাবেলায় ক্ষেত্রমোহনের শয়নকক্ষে খড়া-ভাইপ্লো বসিয়া কথোপকথন করিতেছিলেন। দিবসে খড়া মহাশয় কপাটের বাহিরে এবং ভিতরে দেওয়ালময় রামনাম লিখিয়া দিয়াছেন। আদ্য দুইজনেই এক শয্যায় শয়ন করিবেন। বালিসের তলায় একখানি : আল দি লা গা গায়াছে। ক্ষেেেমাহন বলিলেম-"তা হলে খড়ো মহাশয়, কি করা যায় ? বিবাহটা বন্ধই করে দেওয়া যাবে ?” - খড়া মহাশয় বলিলেন—“আমি ত তার দরকার দেখছিনে।" "যদি কোনও উপদ্রব অত্যাচার হয় ?" খড়া মহাশয় কিয়ৎকাল চিন্তা করিলেন। শেষে বলিলেন-“ভয়ের কোনও কারণ দেখিনে।” "ঐ যে বলেছে ইচ্ছা করে তোমার গলাটা টিপে দিই?" "মাঃ--তা পারবে না। হাজার হোক স্বামী ত বটে.।” "আর যে বলেছে বিয়ে কোরো না, করলে তোমার অশেষ দগতি হবে ?” "অশেষ দগতি হবে, তার মানে এ নাও হতে পারে যে আমি তোমার অশেষ দগতি করব। ওর মানে বোধ হয় এই যে, অধিক বয়সে বিবাহ করলে যে সমস্ত সাংসারিক ఎ=a &&.