পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশান্তি উপস্থিত হয়, তাই তোমারও আদলেট ঘটবে।" ক্ষেত্রমোহনবাব চপ করিয়া রহিলেন। মনে ভয়ও ধথেষ্ট আছে--অথচ দিলাঙ্গ করিবার লোভটিও সম্বরণ করা তাঁহার পক্ষে অসাধা। পরদিন আশীব্বাদ হইয়া গেল। কিন্তু ক্ষেত্রমোহন যে ভৌতিক পত্র পাইয়াছেন সে । কথাও রাষ্ট্র হইতে বিলম্ব হইল না। নায়েব রজনীবাবরও কণে ক্ৰমে এ কথা পৌছিল । বলিয়াছি তিনি ইংরাজি জানা ব্যক্তি,—শুনিয়া হাঃ হাঃ করিয়া হাসিয়া উঠিলেন। বলিলেন —“ভূত! এই বিংশ শতাব্দীতে ভূত বিশ্ববাস করতে হবে ?" বিবাহের দিনন্থির হইয়াছে ৮ই ফাল্গন। আর পাঁচ দিনমার বাকী আছে। উভয় পক্ষ হইতে সমস্ত আয়োজনাদি হইতেছে। বিকালে বৈঠকখানায় ক্ষেত্রবাব জনকয়েক বন্ধবোন্ধব সহ বসিয়া ছিলেন।—ইহাদের মধ্যে একজন সরকারী উকিল-নাম মনোহরবাব। লোকটির বয়স চলিশ পার হইয়াছে। চোখে সোণার চশমা । মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চল—মুখমণ্ডল প্রচার গোঁফদাড়িতে আবত-হাতে বড় বড় নখ-এক কথায়,-- লোকটি থিয়জফিস্ট। ক্ষেত্রবধর ভৌতিক পত্রপ্রাপ্তির সমাচার অবগত হইয়া অবধি, মনোহরবাব ইহার সঙ্গে একটু ঘনিষ্ঠতা পথাপন করিয়া লইয়াছেন —অপর একজন নব্যযুবক—নাম সুরেন্দ্রনাথ। ইনি এল-এ ফেল করা শিক্ষিত মোক্তার। বিস্তর ইংরাজী উপন্যাস পাঠ করিয়াছেন। সরেন্দ্রনাথ বলিলেন—"ক্ষেত্রবাব একটা কথা আমার মনে হচ্ছিল । অনেক উপন্যাসে পড়া গেছে, একটা দীঘটনা ঘটে গেল, যেমন রেলে কলিশন বা নৌকাডুবি বা আর কিছ. সকলেই মনে করছে অমুক লোকটা মরে গেছে, মৃত্যুর চাক্ষরুষ সাক্ষীরও অভাব নেই— কিন্তু বইয়ের শেষ দিকটায় দেখা গেল সে বেচে আছে। তাই আমার মনে হয় হয় আপনার দী এখনও বেচে আছেন নয় এ চিঠি জাল। কিন্তু আপনার দঢ় বিশ্বাস এ চিঠি তাঁরই হাতের লেখা—জাল নয়। সুতরাং আপনার দী বেচে আছেন বিশ্বাস করা ছাড়া আর উপায়ান্তর নেই। কারণ, এ বিংশ শতাব্দীতে, ভূতের অস্তিত্ব কোন মতেই বিশ্ববাস করতে পারা যায় না।" থিয়জফিট উকিলবাবটি ইহা শুনিয়া বলিলেন—“কেন মশাই—বিংশ শতাব্দীতে “ভূতের অস্তিত্ব কোন মতেই বিশ্ববাস করতে পারেন না কেন ?" নবীন মোক্কারবাব বললেন—“কারণ আমি কখনও দেখিনি।” শনিয়া মনোহরবাব বিজ্ঞভাবে হাস্য করিয়া বলিলেন—“সম্রাট সপ্তম এডোয়াড়কে কখনও দেখেছেন : “না, দেখিনি : “তিনি আছেন বলে বিশ্বাস করেন ?” , “করি। তার কারণ, আমি না দেখলেও, হাজার হাজার লোক তাঁকে দেখেছে। তাঁর দশ বিশখানা ছবিও দেখেছি। কিন্তু ভূত আমি নিজে দেখেছি এমন কথা আজ পৰ্যন্ত কাউকে বলতে শুনলাম না। সবাই বলে, খুব বিশ্বপত লোকের মুখে শুনেছে যে তারা স্বয়ং ভূত দেখেছে।” মনোহরবাব তাঁহার সঘন দাড়ির মধ্যে দীঘনিখ অংগ,লিগুলি চালনা করিতে করতে বলিলেন—“আপনি বললেন, হাজার হাজার লোক সম্রাটকে দেখেছে। তেমনি হাজার হাজার লোক অশরীরী আত্মাকেও প্রত্যক্ষ করেছে। আপনি বললেন যে সম্রাটের দশবিশখানা ছবি দেখেছেন। তেমনি দশবিশখানা ভূতেরও ছবি আপনাকে আমি দেখাতে পারি। যদি দেখতে চান, একদিন আমার বাড়ীতে যাবেন। আমার একখানা বইয়ে কেটি কিংএর ছবি আছে। প্রথম চালসের সময় কেটি কিং নামে একটি মেয়ে জীবিত ছিলেন । ষোল বৎসর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। গত শতাব্দীর মধ্যভাগে আমেরিকা ও ইউরোপের. নানা পথানে অনেক সেয়াসে, কেটি কিং পথলশরীর ধারণ করে আবিভূতি হয়েছিলেন। তাঁর নাল পরীক্ষা কৰা হচ্ছে তাঁর শাকুরি ময় দিয়ে দেখা হয়েছে ঠিক