পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাংগলায় গিয়া সফটমের সাহেবকে ভৌতিক পত্র তিনখানি দিলেন । তুলনার জন্য রসময়ীর কয়েকখানি পরাতন আসল পত্রও দিয়া আসিলেন। সাহেব বলিলেন– কল্য প্রাতে পরীক্ষার ফলাফল জানাইব।” পরদিন প্রাতঃকালে সরকারী উকীল মনোহরবাবকে সঙ্গে লইয়া ক্ষেত্রমোহন ত্যাবর ডাক-বাঙ্গলায় উপস্থিত হইলেন। সাহেব বলিলেন—“পরীক্ষাপন পত্র তিনখানি এবং আসল পত্রগুলি সমস্তই এক হস্তের লেখা ।” r ইহা শনিয়া ক্ষেত্রবাবর মুখখানি ছোট হইয়া গেল। মনোহরবাব বললেন—“সাহেব, অনুগ্রহ করিয়া একখানি সার্টিফিকেট লিখিয়া দিতে পারেন " সাহেব মনে করিলেন-নিশ্চয়ই এ পত্র লইয়া একটা মামলা মোকদ্দমা হইবে। আবাব সাক্ষী দিতে আসিয়া ফী পাওয়া যাইবে –সুতরাং আহসাদের সহিত তিনি সাটিফিকেট লিখিয়া দিলেন । r বাসায় বাইতে যাইতে মনোহরবাব ক্ষেত্রবাবকে বলিলেন– এই চিঠিগুলির নকল আর সাহেবের সার্টিফিকেট যদি আমাদের থিয়জফিক্যাল রিভিউ নামক মাসিকপত্রে ছাপাতে পাঠাই তাতে আপনার কোনও আপত্তি আছে কি : -আমরা যাকে পিরিট-রাইটিং বলি তার সন্দের অকাটা প্রমাণ হবে।” ক্ষেত্ৰবাব বলিলেন—“তাতে আমার আপত্তি নেই।” পরবত্তী সংখ্যা থিয়জফিক্যাল রিভিউ পত্রে সাটিফিকেট সহ চিঠিগুলি ছাপা হইয়া গেল। নানা থান হইতে বড় বড় থিয়জফিন্টগণ ক্ষেত্রমোহনবাবকে পত্র লিখিতে আরম্ভ করিলেন। কেহ কেহ হুগলীতে আসিয়া পত্রগুলি স্বচক্ষে দেখিয়া বিসময়ে অভিভূত হইতে লাগিলেন। অস্টম পরিচ্ছেদ থিয়জফিস্ট মহলে ক্ষেত্রবাবর পসারের আর সীমা নাই-কিন্তু ইহাতে তিনি কিছঃমাত্র সমত্বনা লাভ করিলেন না। পত্রগুলি জাল প্রমাণ হইলে তিনি বিবাহ করিয়া সখী হইতে পারিতেন। ভয়ে গয়ায় গিয়া পিণ্ডদান করিতেও পরিলেন না । তাঁহার অদচেট বঝি বিবাহ আর নাই! • চৈত্র মাস আসিল—বসন্তের বাতাস বহিতেছে। দোল উপলক্ষ্যে কাছারি বন্ধ । ক্ষেত্রমোহন বাড়ীতে বসিয়া নিজ দরদস্টের বিষয় চিন্তা করিতেছিলেন, এমন সময় একজন আসিয়া সংবাদ দিল, হালিসহরে তাঁহার শবশুরবাড়ীতে মহাবিপদ উপস্থিত। দোল উপলক্ষ্যে বাজি পোড়াইতে গিয়া, শুকটা বোম ফটিয়া তাঁহার ছোট সমবন্ধী সবোধ বিশেষ আঘাত প্রাপ্ত হইয়াছে। তাহাকে হুগলীর হাসপাতালে আনা হইয়াছে। ’ শনিয়া ক্ষেত্রবাব থাকিতে পারিলেন না—গাড়ী ভাড়া করিয়া হাসপাতাল অভিমুখে ছটিলেন। সেখানে গিয়া দেখিলেন, ছেলেটির অবস্থা সঙ্কটাপন্ন—বিছানার নীচে মেঝের উপর বসিয়া বিধবা বিনোদিনী রোদন করিতেছেন। ক্ষেত্রমোহনকে দেখিয়া তিনি আরও রোদন করিতে লাগিলেন। সমস্ত দিন ঔষধ-প্রয়োগ ও শশ্রেষ চলিল। সন্ধ্যার দিকে ডাক্তারেরা বলিল তার প্রাণের আশংকা নাই। - ক্ষেত্রমোহন শ্যালিকাকে বলিলেন—“ঠাকুরঝি সন্ধ্যা হল—এইবার বাড়ী চল।” বিনোদিনী বলিলেন—“আমি সবোধকে ছেড়ে বাড়ী যেতে পারব না।” "সমস্ত দিন অনাহারে আছ—সনানাহার পয্যন্ত হল না!" "তা না হোক! আমি যেতে পারব না।" অবস্থা বঝিয়া হাসপাতালের ডাক্তারেরা যলিলেন—“আপনাকে রাড়ী , যেতে হবে। এখানে ত রাত্রে থাকতে পাবেন না। কাল সকালে আবার আসবেন এখন। , আর কোন - 업e