পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কথাটা শনিয়া সীতানাথ জ্বলিয়া উঠিলেন বলিলেন—“ভায়া হে, আমাকে কি অবিশ্ববাস করলে ? জিনিসগুলি আটক করে ব্রাহ্মণকে মনঃক্ষণ করে ফিরিয়ে দিলে কি তোমার মঙ্গল হবে ?” হষীকেশ বেহাইয়ের চরিত্র পববাবাঁধই তেন। তিনি যখন ধরিয়াছেন গহনা লইয়া যাইব, তখন যে না লইয়া ফিরিবেন এমন আশা নাই। সুতরাং আর আপত্তি উথাপন করা নিস্ফল মনে করিলেন। বলিলেন—“তবে নিয়ে যান।” সীতানাথের মুখ প্রফুল্লভাব ধারণ করিল। বলিলেন,--“আহারাদির পর সকাল সকাল আজই বেরতে হবে। তুমি তবে সেগুলো বের করে ঠিক করে রাখ, আমি গঙ্গাসমানটা সেরে আসি।” গঙ্গার ঘাটে আসিয়া অনেক দর হইতে মাঝিকে উচ্চস্বরে সীতানাথ বলিলেন—“ও মাঝি যে বিয়ের সম্মবন্ধ করতে এসেছিলাম, সে তারা রাজি নয়। বলে অভ্যত গরীবের ঘরে আমরা মেয়ে দেব না। নৌকো ঠিক করে রাখ, খাওয়া দাওয়ার পর ছাড়া যাবে।”—বলিয়া ধত্তে ব্রাহ্মণ চারিদিকে চাহিয়া দেখিল, ঘাটসমৃদ্ধ লোক তাহার কথাগুলি শুনিতে পাইয়াছে কি না। যেরপে উচ্চকণ্ঠে কথাগুলি উচ্চারিত হইয়াছিল তাহাতে নিতান্ত বধির ভিন্ন আর কাহারও না শুনিতে পাইবার সম্ভাবনা ছিল না। লোকে মুখ চাওয়া চাওয়ি করিতে লাগিল । - «... তাহার পর সীতানাথ গঙ্গানান সমাপ্ত করিয়া অত্যন্ত আড়ম্বরের সহিত ঘাটে আহিক করতে বসিলেন। আজ দেবতাগণের বড়ই শুভাদষ্ট। এরূপ ভক্তিবাহসূল্যের সহিত পতা সীতানাথ অনেককাল করেন নাই। বাড়ী ফিরিয়া গিয়া আহারাদি শীঘ্র শীঘ্ৰ শেষ করিলেন। বড়ার আর দেরী সহে না। হর্ষ ক্লেশকে বললেন—“ভাই এইবার জিনিষগুলি নিয়ে এস, দাগ বলে সকাল সকাল যাত্রা করি।” - হষীকেশ অন্তঃপরে প্রবেশ করিয়া বড় বিলব করিতে লাগিলেন। সীতানাথ ভাবিলেন সেই দিতেই হইবে, তব কেমন যে কৃপণের স্বভাব, যতক্ষণ পারে ততক্ষণ দেরী করিতেছে। যাহা হউক মনটার অবস্থা বেশ উৎফুল্ল থাকার দরুণ সীতানাথ গুণ গণ করিয়া একটা রাগিণী ধাঁরলেন— ছাড়ো মন বিষয়েরি ভাবনা অসার, শধ রাধানাথো পদো করো চিন্তা অনিবার। হষীকেশকে রিক্তহস্তে ফিরিয়া আসিতে দেখিয়া সীতানাথের গান সহসা বাধাপ্রাপ্ত হইল। বিস্মিত হইয়া বলিলেন—“কি হল ?” “হল না ।” “সে কি ?” হৃষিকেশ ব্যাপারখানা বুঝাইলেন—“মুখুজ্যে মশাই, জিনিষগুলি আপনাকে দিতে প্রস্তুতই হয়েছিলাম। গিন্নীকে গিয়ে বলতে প্রথম তিনি কেঁদে ভাসিয়ে দিলেন। শেষে বললেন-চাবি ত নেই, চাবি আমার মায়ের কাঁকালে ছিল, সে তাঁরই সঙ্গে চিতায় উঠেছে।" সীতানাথের বিশ্বাস হইল না। রাগিয়া বলিলেন—“সে আমি শনেব না। চাবি না থাকে বাক্স ভাগ। জিনিষ আমি না নিয়ে যাচ্ছিনে।" হৃষিকেশ বললেন—“যদি না যান তবে বসে থাকুন। চাবি নেই আমি কি করব ? এই ত অবস্থা। এর ওপর কি কামার ডেকে এনে দমাদম করে সিন্দক ভাতগান ভাল দেখায়, না সেটা করান আপনারই কৰ্ত্তব্য কম হয় ?” সীতানাথ মুখ চোখ বিকৃত করিয়া চে'চাইয়া বলিলেন—“না, আমার কন্তৰ্যকৰ্ম্ম হয় না। ব্রাহ্মণকে ফাঁকি দেওয়াটাই তোমার কত্ত্বকম হয়। দেবে কি না দেবে সেটা খোলসা করে বল দেখি। যদি না দাও তবে পৈতে ছিড়ে অভিশাপ দিয়ে যাব, উচ্ছল যাবে, や》