পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"অবশেষে চার তাহাকে নিজনে ডাকিয়া লইয়া প্রেমের দোহাই দিয়া কত মিনতি করিল। কিন্তু মড তথাপি স্বীকৃত হইল না। “তখন চার বলিল-আমার প্রতি তোমার ভালবাসা ষেরপ ঐকান্তিক বলিয়া আমি বিশ্বাস করিতাম, তাহা যদি যথার্থ হইত, তবে আমাদের মিলনের কোন বাধাই তোমায় নিরস্ত করিতে পারিত না। আমার সে বিশ্বাস কি তবে ভুল ?’ “মড় এ কথার প্রতিবাদ করিল না। “চার বলিল—বঝিয়াছি। বিচ্ছেদ যখন অপরিহার্য্য, তোমার অচল ভালবাসা BBB BB BB BBBB BBBB BBBB BBBB BBBBeS BB BBBB BBBB তুমি আমার বঞ্চিত করিলে " “মড তথাপি এ কথার কোন প্রতিবাদ করিল না। “চার তখন মডের দক্ষিণ হস্তখনি নিজ হতের মধ্যে ধারণ করিয়া, তাহার উপর অজস্র চাবন ও অনাবিল অশ্র বর্ষণ করিতে লাগিল। তাহার পর জন্মের মত বিদায় লইল।” এই শোক কাহিনী শুনিতে শনিতে আমারও চক্ষ জলভারাক্লান্ত হইয়া আসিয়াছিল। মিস ক্যাম্বেল নীরব হইলেন। কণ্টে বাক্যস্ফীত্তি করিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “তাহার পর " কয়েক মহত্ত্ব মিস ক্যাম্বেলও কথা কহিতে পারলেন না। তাঁহার গণ্ডযগল দিয়া বড় বড় অশ্রবিন্দ গড়াইতে লাগিল। আমি এ দশ্য দেখিয়া মস্তক অবনত করিলাম। কিয়ৎক্ষণ পরে বন্ধের ক্ষীণ কণ্ঠস্বর আবার আমার কণে প্রবেশ করিল—“মড় তখন প্রতিবাদ করে নাই, কিন্তু একদিন প্রতিবাদ করবে। পরলোকে আবার যখন চারার সহিত দেখা হইবে-তখন প্রতিবাদ করিবে বলিয়া সে প্রতীক্ষা করিয়া আছে। চার চলিয়া গেলে পর মড় অত্যন্ত পীড়িত হইয়া পড়িয়াছিল। তাহার জীবনের কোন আশা ছিল না। কিন্তু যে দভাগিনী, অত সহজে সে মরিবে কেন? দেশ হইতে আনাইয়া চার, তাহাকে দই জোড়া সোনার চড়ি দিয়াছিল। সেই চড়ি সৰ্ব্বদা সে পরিয়া থাকিত। কয়েক বৎসর হইল, একদিন হঠাৎ সে একখানি ভারতীয় সংবাদপত্রে দেখিল, তাহার বাঞ্ছিত ইহজগতে আর নাই। সেই দিন সে হাতের চড়িগলি খলিয়া ফেলিল। সে শনিয়াছিল, হিন্দবধ বিধবা হইলে হাতে আর চড়ি পরে না। মডের শয়নকক্ষে তাহার প্রণয়ীর একখানি তৈলচিত্র আছে। তাহাই দেখিয়া, ইহজগতের পরপারে চিরমিলনের প্রতীক্ষা করিয়া সে জীবন ধারণ করে।” বলিয়া মিস ক্যাবেল নীরব হইলেন। আমি আশ্রমোচন করিয়া, পাববৎ অবনত মস্তকে ভাবিতে লাগিলাম—কে সেই ব্যারিস্টার । কলিকাতার অধিকাংশ প্রবীণ ব্যারিইটারকেই ত আমি চিনি। কোন বৎসরের এ ঘটনা জানিতে পারলে, ল-লিট দেখিয়া । নিশ্চয়ই ধরিয়া ফেলিতে পারিব। তাই জিজ্ঞাসা করিলাম—“কোন বৎসর এ ঘটনা ঘটিয়াছিল ?” কোনও উত্তর নাই ! আমি তখন মাথা তুলিয়া দেখিলাম, মিস ক্যাবেল নিম্পন্দ–তাঁহার চক্ষ পলকশন্য —তাঁহার মস্তক একদিকে ঢলিয়া পড়িয়াছে। সব্বনাশ -ইনি মচ্ছিতা। ভিত্তিগাত্রলনি ঘণ্টার ফিতা ধরিয়া ভয়ানক জোরে টান দিলাম। দাসী ছটিয়া আসিয়া বলিল—কি মহাশয় ?” - “তোমার ঠাকুরাণী মচ্ছে গিয়েছেন; জুল—জল আন।” দাসী ছটিয়া জল আনিতে গেল। আমি সমস্ত জানালাগলো খলিয়া দিলাম। বরফের মত শীতল বাতাস কক্ষে প্রবেশ করিতে লাগিল। মিস ক্যাবেলের অঙ্গ হইতে শালটা খুলিয়া ফেলিয়া দিলাম। ল আল কুফলে দল