পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাদলী প্রথম পরিচ্ছেদ ॥ ছাঁপোষা ভট্টাচায্য দগোপর গ্রামে পৰ্ব্বকালে সহস্ৰাধিক তন্তুবায় বাস করিত। গ্রামের মধ্যভাগে একটা - চত্বরাকৃতি পথানে সপ্তাহে দুইবাব করিয়া হাট বসিত। সেই হাটে বিস্তর দেশী ধতি, ; শাড়ী উড়ানি বিক্রয় হইত। দর দরতর হইতে পাইকারগণ আসিয়া সেই সকল বস্ত্র ক্ৰয় করিয়া লইয়া যাইত। দগাপরের কাপড় যে খুব সক্ষে বা মসৃণ ছিল তাহা নহে-- পোষাকী কাপড় এখানে অলপই প্রস্তুত হইত। তবে এখানকার কাপড় দীর্ঘকাল স্থায়ী, হয় বলিয়া একটা প্রসিদ্ধি ছিল। আটপৌরে ধতি শাড়ী দগোপরের হইলেই অধিক । আদর পাইত। সে কালে দগাপরের তাঁতিরা সমদ্ধিশালী ছিল। তাহারা দোল দাগোৎসব করিত, অনেকের ইন্টক-নিৰ্ম্মিত বাসভবন ছিল, কেহ কেহ ভূসম্পত্তিও করিয়াছিল। তখনকার দিনে তাহার নিবোধ মাখ বলিয়া বিখ্যাত ছিল না। দই কলম লিখিতে পড়িতে জানে এমন তাঁতি অনেক ছিল। কিন্তু কালের কি বিচিত্র গতি! সে সকল কথা এখন সবনের মত—উপকথার শ্রেণীভুক্ত। দেশে বিলাতী কাপড়ের বহল প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে তাহদের ব্যবসায় মাটী হইল। কুমে তাহারা নিরন্ন হইয়া পড়িল। এখনও দগাপরে তাঁতি আছে—তবে সংখ্যায় অলপ। সকলে আর জাতিব্যবসায় করে না। যাহারা করে, তাহারা কোনরুমে দিনপাত করে মাত্র। আজ দগোপরের হাটে রাইচরণ বসাক ধতি বিক্ৰয় করিতে আসিয়াছে। জ্যৈষ্ঠ মাস —স্যদেব সমস্ত দিন পথিবীর উপর অগ্নিবর্ষণ করিয়া এখন ক্ষাত হইবার উপক্ৰম করিতেছেন। একটা বটগাছের ছায়ায়, ঘাসের উপর রাইচরণ বসিয়া আছে। তাহার সমখে একখানি গামছা বিছান-সেই গামছার উপর দই জোড়া মাত্র নীল মাখানো কোরা কালাপেড়ে ধতি সাজানো রহিয়াছে। এত অলপ পরিমাণ জিনিষ লইয়া রাইচরণ পর্বে কখনও হাটে আসে নাই। কিন্তু আজ তাহার বড় অথর্ণভাব। ঘরে যাহা কিছ ছিল সমস্ত জটাইয়া পাটাইয়া গতকল্য সে জমিদারের খাজনা দিয়াছে। রাইচরণের বয়স চল্লিশ পার হইয়াছে। দেহখানি শীর্ণ। মাথার চলগুলি বড় বড়, চক্ষযগলের নিম্নভাগের অস্থিদ্বয় অত্যন্ত উচ্চ হইয়া উঠিয়াছে—গাল দুইটি গহবরাকৃতি। তাহার মখখানি আজ যে এমন শকে দেখাইতেছে, রৌদ্রতাপই তাহার একমাত্র । কারণ নহে। আজ বেচারীর আহার হয় নাই। ঘরে চাউল ছিল না। উঠানের গাছ হুইতে । দুইটা পাকা গাব পাড়িয়া, তাহাই খাইয়া হাটে আসিয়াছে। কাপড় বিক্রয় করিয়া চাউল কিনিয়া লইয়া যাইলে তবে রান্না চড়িবে। গহে তাহার দী ও দুইটি শিশসন্তান আছে। রাইচরণের বড় কট। দশক্লোশের মধ্যে দগাপরের হাটই প্রধান i বহগ্রোমের লোক হাট করিতে আসিয়াছে। জনতার অন্ত নাই। সকল পশরার নিকটই ক্লেতার ভিড়—কেবল রাইচরণ ভশন কণ্ঠে ডাকিতেছে—“বাব মশায় কাপড় নেবেন ? উৎকৃষ্ট কচি ধতি। হাতে বহরে আছে।” –কিন্তু তাহার এ আহদানে কেহই কৰ্ণপাত করিতেছে না। অবশেষে একজন বন্ধ দাঁড়াইল। কাপড় দেখিল—দর জিজ্ঞাসা করিল। রাইচরণ বলিল-আড়াই টাকা করে জোড়া পড়বে বাবা।”—দর শনিয়া বন্ধ অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সহিত ধতি ফেলিয়া দিয়া হেলিতে দলিতে সেস্থান পরিত্যাগ করিয়া গেল। রাইচরণ কত ডাকিল--”বাব-ও বাব মশায়—আপনি কত দেবেন ?—আপনি কত বলেন বাবা ?”—কিন্তু বন্ধ আর ফিরিয়াও চাহিল না। রাইচরণ মুখখানি লান করিয়া বসিয়া রহিল। বাড়ী ফিরিবার জন্য তাহার প্রাণ ছটফট করিতেছে। তাহার তিন বৎসরের মেয়ে পট,মণি ও পাঁচ বৎসরের ছেলে হরিদাস সকলে এপল কৰি দিন অন আ টু ইলি এতক্ষণ ভাতের