পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তেরাত্তির পোয়াবে না।" বৈবাহিক-প্রবরের মুখচোখের ভঙ্গিমা দেখিয়া হৃষীকেশ বড় অপমান বোধ করিলেন; মনে মনে ভারি ঘণা হইল। স্বয়ং গিয়া কামার ডাকিয়া আনিলেন। দোতলার উপর তাহাকে লইয়া গিয়া সিন্দকে ভাঙ্গাইলেন। মেয়ের মা এই নিষ্ঠর কাণ্ড দেখিয়া মাটিতে লটাপটি করিয়া কাঁদিতে লাগিলেন। - বৈবাহিক গহনা লইয়া বিদায় হইলে হৃষীকেশও শয্যাতলে আশ্রয় গ্রহণ করিলেন। সে দিন আর এই দম্পতীর মখে অন্নগ্রাস উঠিল না। তৃতীয় পরিচ্ছেদ ॥ বড়া বর ভাগীরথীর তীরে বাক্ষরাজিবেটিত নবগ্রাম। ভোর হইয়াছে। সকল পাখী এখনও প্রভাতী কলকজন আরম্ভ করে মাই। একখানি ছোড়া বালাপোষ গায়ে দিয়া মাথায় পাগড়ি বধিয়া বন্ধ সীতানাথ ধীরে ধীরে স্বীয় ভবনাভিমুখে চলিতেছেন। পবেরাত্রির বষ্টিজল বক্ষপল্লব হইতে টপ টপ করিয়া ঝরিয়া তাঁহার পাগড়ি ও বালপোষ ভিজাইয়া দিতেছে। ক্ৰমে তিনি নিজবাটীর সদর দরজার সম্মখে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। দরজা বন্ধ। দই পাশে দুইটি ইন্টকনিমিত দেউড়ি বা বসিবার পথান। তাহা বহুকাল । সংস্কারের অভাবে ক্ষতবিক্ষতাঙ্গ হইয়া পড়িয়াছে। দই দিকে দাইটি কলিকাফলের গাছ এক গা করিয়া ফলের গহনা পরিয়া দুড়িাইয়া আছে। বোরে উপস্থিত হইয়া ক্ষীণরগনকণ্ঠে সীতানাথ ডাকিলেন—“নিতাই।” একবার, দুইবার, তিনবার ডাকাডাকির পর বাড়ীর ভিতর হইতে উত্তর পাওয়া গেল—“যাই গো।” নিতাই ছটিয়া আসিয়া দরজা খলিয়া দিল। প্রভুর পানে চাহিয়া সে অবাক। সপ্তাহের মধ্যে আকার প্রকার যেন একবারে পরিবত্তিত হইয়া গিয়াছে। সে ছাতা নাই, লাঠি নাই, ব্যাগ নাই, এ বালাপোষ কোথা হইতে আসিল! ভাবিয়া নিতাই কিয়ই ঠিক করিতে পারিল না। নিতাই তাঁতির ছেলে ভূত্য বালক—এপ্রেন্টিসি করিতেছিল, মাহিনা পায় না, "প্রসাদ” পায় মাত্র। সীতানাথ জিজ্ঞাসা করিলেন–“কি রে নিতাই, বাড়ীর সব छाळ्न ?” নিতাই বলিল-“ভাল। আপনার লাঠি আর ছাতী কই ?” বন্ধ অতি করণভাবে মিতাইয়ের প্রতি নেত্রপাত করিলেন। নিতাই বলিল—“ফেলে এসেছেন বুঝি ?” বন্ধ কাঁদ কাঁদ হইয়া বলিলেন—“হাঁ নিতাই, সে গেছে।” পাকা বাঁশের লাঠিগাছটির উপর নিতাইয়ের অনেক দিন হইতে লোভ পড়িয়াছিল। একদিন সুযোগ পাইলে লাঠিখানি সে চরি করিয়া বুড়ী রাখিয়া আসিবে, অনেক দিন হইতেই ইহা তাহার মনে মনে ছিল। সেই জন্য সে কিঞ্চিৎ দুঃখ অনুভব করিল। মনে করিল নিশ্চয়ই সেই মতিগঞ্জের বাড়ীর কোনও ছোঁড়া চাকরের কায, সেই লইয়াছে, লোভ সামলাইতে পারে নাই। কিন্তু ছাতাটাও লইল । সে ছাতা এমন ছোড়া ছিল যে তাহা মনিব তাহাকে বখসিস করলেও নিতাই লইত কি না সন্দেহ। যদিও বা লইত, তবে তাহার বেতের শিকগুলি খালিয়া লইয়া ধনকের তীর করা চলিত মাত্র, সে ছাতা আর কোনও কাযে লাগিত না। সীতানাথ একবারে নিজের ঘরে গিয়া বাঁসলেন। নিতাই চকমকি ঠকিয়া সোলায় আগন ধরাইল। তামাক সাজিয়া কত্তার হাতে দিল। কত্তা হ:কাটি কলঙ্কধরা পিতলের বৈঠকের উপর রাখিয়া দিলেন। তাম্নকটের প্রতি তাঁহার এতাদশ বিরাগ ইতিপথের কখনও দেখা যায় নাই। চক্ষ নত করিয়া মাথাটি নাড়িয়া নাড়িয়া, সদেীঘ* নিঃশ্বাসের সহিত বলিলেন,— & &