পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"আচ্ছা দাও—কত দাম ?”-বলিয়া ভট্টাচাষ ধতিগুলির জমি পরীক্ষা করিতে লাগিলেন । রাইচরণ বলিল—-এ দু-জোড়ার দাম চার টাকা ।” ভট্টাচাষ হা হা করিষা হাসিয়া বলিলেন- “চার টাকা কিরে ? খন্দের যে আমায় চার টাকা দেবে না।” i "কেন দেবে না দাদাঠাকুর : আশা-নবই নম্বর সতের কাপড়, বিক্ৰী করে আপনার পাঁচ টাকা হবে।” ভট্টাচায্য বলিলেন—“ক্ষ্যাপা ! পাঁচ টাকা কে দেবে - আর কি সে দিন আছে ? দটীকা জোড়া বিলাতী ধতির জমিটে একবার মিলিয়ে দাখ দেখি ; সে ছেড়ে, আড়াই টাকা জোড়া দেশী কাপড় কে কিনবে বাপ বস্তু যদি দেয় ত সাড়ে চার টাকা দ জোড়ায় { তাও কতদিন পড়ে থাকবে বলা যায় না। হয় ত পুজোর এ দিকে কাটবেই না।" রাইচরণ বলিল—“তা কাটনে দাদাঠাকুর, খুব কাটবে। এ দজোড়া হিসেবে না চড়িয়ে, আজ আমায় নগদ চারটি টাকা দিন " " “নগদ : কোথা পাব রে - বিক্ৰী হোক তবে ত পানি।” রাইচরণ তখন হাত দুইটি জোড় করিয়া বলিল—“দাদাঠাকুর, আপনি ব্রাহ্মণ-দেবতাতুল্য। আপনার কাছে মিথা বলছিনে। আজ আমার বড় দরকার-তাই নগদ টাকাটা চাচ্ছি।” “কি দরকার ?” ---, ------- “আজ আমার ঘরে চাল নেই বলে সমস্ত দিন সপরিবারের খাওয়া হয়নি। বাজার করে নিয়ে যাব তবে হাঁড়ি চড়বে।" ভট্টাচাৰ্য্য বলিলেন—“তা ত হল। কিন্তু আমার দিকটিও ত তোমার দেখা উচিত বাপ নগদ আমি যে চারটি টাকা দেব-আর পজো অবধি ও মাল যদি পড়ে থাকে, তবে এ কমাসে চার টাকার সদটা হিসাব কর দেখি ?" রাইচরণ বলিল—“সদের কথা ধরবেন না দাদাঠাকুর।” “না ধরলে চলে, কই বাপ ? আমিও ত ছাঁ-পোষা মানুষ। আচ্ছা আচ্ছা, তুমি যখন অত করে বলছ—তখন হিসেবে দটো টাকা নিয়ে যাও।”—বলিয়া ভট্টাচাষ্য মহাশয় বাক্স হইতে দুইটি টাকা বাহির করিয়া রাইচরণের হন্তে দিলেন। কিছু দরে তাঁহার জ্যেষ্ঠ পত্র মৃত্যুঞ্জয় বসিয়া দোকানের কাজ করিতেছিল। তাহার দিকে ফিরিয়া বললেন —“ওহে মৃত্যুঞ্জয়, লেখ ত, রাইচরণ বসাক তন্তুবায় জমা দই জোড়া আশী-নব্বই নম্বরের প্রমাণ ধতি বাবদ চার টাকা, খরচ দই টাকা গজেরং খোদ --- বলিয়া তিনি গভীরভাবে -তামাক টানিতে লাগিলেন। রাইচরণ প্ৰণাম করিয়া বিদায় গ্রহণ করিল। মৃত্যুঞ্জয় জমাখরচের খাতায় রাইচরণের নামে সত্তক আশী নম্বরের দই জোড়া ধতি আদেশ হইতে এই প্রকার ছাট বাদ দিয়া লেখাই এ দোকানের নিয়ম ছিল। মৃত্যুঞ্জয় পিতার উপষত্তে পত্র। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ॥ নৰীন সন্ন্যাসী রাইচরণ একটি টকা ভাঙ্গাইয়া, প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কয় করিয়া তাড়াতাড়ি বাড়ী আসিল। তখন সন্ধ্যা হয় হয়। অন্দরে পদাপণ করিবামাত্র তাহার সত্ৰী আসিয়া জিজ্ঞাসা রল—“কি গো—কাপড় বিক্ৰী হল ?” ক্ষয় স্বরে রাইচরণ বলিল-“হাটে খুদের জন্টল না। ভটচাষিার দোকানে দিয়ে এসেছি।” রাইচরণের হস্তস্থিত পটলির প্রতি চাহিয়া তাঁতনী বলিল—“দিলে নাকি কিছ ?” “দটি টাকা দিলে। একটি ভাঙ্গিয়ে আট আনার বাজার করে এনেছি।” واb