পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“তাই দেয় না। কত কাকুতি মিনতি করে নিয়েছি।” তাঁতিনী বলিল—“কেন আবার ভট্চায্যির দোকানে গেলে ? সে ঠক-জয়োচোর —তাকে কি এখনও চিনতে পারলে না ?” রাইচরণ ব্যস্ত হইয়া বলিল—“ছি ছি—আমন কথা মাখে আনিস নে পটের মা । ব্রাহ্মণের কি নিন্দে করতে আছে ? ব্রাহ্মণ হলেন কলির দেবতা।” “মদখে আগন কলির দেবতার। যে দেবতা হয় তার কি এমন ব্যাভার র দেবতা কি গরীবের সব্বনাশ করে ?” রাইচরণ একটু উষ্ণ হইয়া বলিল—“ও কথা বলিসনে। দাখ, এজন্মে আমরা এতু কষ্ট পাচ্ছি; ব্রাহ্মণের নিন্দে করে আর পাপ বাড়াসনে। নরকেও তাহলে স্থান হবে না।” তাঁতনী একট নরম হইয়া বলিল—“তা হাটে বিক্ৰী হল না যখন, কাপড় দজোড়া না হয় ফিরেই আনতে। সবসবটা ঐ ভটচাবি"ঞ্চে খাওয়ালে, তব তোমার সখ মিটল না ?” “ফিরে আনলে আজ ছেলেপিলেকে খাওয়াতাম কি ?" তাঁতিনী ধীরে ধীরে বলিল--“ওদের আমি খাইয়েছি। আজ তুমি হাটে চলে গেলে, পট হরিদাস ক্ষিধেয় লাটোপটি করে কাঁদতে লাগল। আমি আর সহ্য করতে না পেরে আমার গলার মাদলীটে বেচে পাঁচটা টাকা নিয়ে এলাম। চালু ডাঙ্গ কিনে এনে রোধে ಆಶ್ಲೆ শনিয়া রাইচরণ কপিতে কাঁপতে সেইখানে বসিয়া পড়িল বলিল—“আী ? —করেছিস কি ! সে মাদলী বিক্ৰী করেছিস্ ?” তাঁতিনী কাঁদ কাঁদ হইয়া বলিল—“আমি কি করব বল ? ছেলেটার পেট ধরে সে কান্না যদি তুমি দেখতে। আমার চোখের সমখে আমার ছেলে মেয়ের ক্ষিধের প্রাণ বেরিয়ে যাবে, মা হয়ে আমি কি সইতে পারি? তোমার ফিরতে সন্ধ্যে হবে জানি। কি দিয়ে তাদের থামাই? ঘরে আর কি ছিল যে বিরু করব ?"—বলিয়া তাঁতনী চক্ষে অঞ্চল “ੋਂ বলিল--"সে কি আজকের মাদলী ; কত পরষ ধরে ঐ মাদলী আমাদের ঘরে রয়েছে। ও মাদলীর এমনি গণ যে ছেলেপিলের অসুখ-বিসুখ হলে মাদলী ধয়ে সেই জল খাইয়ে দিলে অসুখ ভাল হয়ে যায়। সেই মাদলী তুই বিক্ৰী করলি। মাদলীর গণে কখনও আমাদের কোন বিপদ আপদ হয়নি। মাদলী গেল, এবার আমাদের স্বনাশ হয়ে যাবে-আমাদের বংশে বাতি দিতে কেউ থাকবে না।" তাতিনী বলিল—“তা কি আমি জানিনে ? আমি সব জানি। আমাদের পাড়া কপাল! কিন্তু দেখ, একটা কথা বলতে ভূলে গিয়েছি। স্যাকরা মাদলীটা ভেঙ্গে দেখলে, তার ভিতর পাকান গটান একটা ভুজিপত্র। আমাকে বললে তাঁতিবউ, এতে বোধ হয় কোন মন্তর তন্তর লেখা আছে -এটা নিয়ে যাও। সেটা আমি নিয়ে এসেছি। যা গণ সে ত সেই মন্তরের—সোণাটকের ত নয় ? একটা তামার মাদলীতে সেটা পরে নিলে হয় না ?” : রাইচরণ কতকটা সন্থ হইয়া বলিল—“তাত জানিনে। কোন ভাল লোককে জিজ্ঞাস করা যাবে। যা হয়ে গেছে তার ত আর উপায় নেই। হরিদাস, পট কোথা ?” "তারা খেয়ে ঘামিয়ে পড়েছে। তোমার জন্যে ভাত রেখেছি, হাত পা ধয়ে খেতে বস ।" “তুই খেয়েছিস ?” তাঁতনী ঈষৎ হাসিয়া বলিল—“তুমি উপসী রয়েছ, আমি কি খেতে পারি ? তুমি খাও--আমি পরে খর এখন।" - হস্তপদাদি ধৌত করিয়া রাইচরণ আহারে বসিল। আহারান্তে রোয়ুকে একখানি ছোড়া মাদর পতিয়া বসিয়া ভামাক খাইতে লাগিল। কুলুঙ্গিতে একটি কূেরেসিন তৈলের ডিবা অজস্র ধমোগার করিয়া মৎকিঞ্চিৎ আলোক বিতরণ করিতেছে। রাত্রি এক اهما