পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রহর অতীত হইল। শয়ন করতে যাইবে বলিয়া রাইচরণ উঠিয়া দাঁড়াইয়াছে, এমন সময় উঠানে একজন অপরিচিত ব্যক্তি প্রবেশ করিয়া বলিল—“বন্দে মাতরম।” রাইচরণ সেই শব্দে চমকিয়া উঠিল। উঠানের দিকে চাহিয়া দেখিল, আগন্তুকের অঙ্গে সন্ন্যাসীর গৈরিকবসন। মসতবে পাগড়ি। স্কন্ধদেশ হইতে ঝুলি ঝুলিতেছে। শঙ্কিত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করিল—“আপনি কে " উত্তর হইল—“আমি সন্ন্যাসী।” রাইচরণ তখন ব্যস্ত হইয়া উঠানে নামিয়া আগন্তুককে প্রণাম করিয়া বলিল-আসন আসন। উপরে উঠে বসন।" আহসান মত সন্ন্যাসী রোয়াকে উঠিয়া আসিলেন। ডিবার আলোকে রাইচরণ দেখিল, সন্ন্যাসীর বয়স বিংশতিবষের অধিক হইবে না। গৌরবণ দেহখানি হইতে লাবণ্য যেন ঝরিয়া পড়িতেছে। এরাপ কমনীয় কান্তিযুক্ত সন্ন্যাসী রাইচরণ আর কখনও দেখে নাই। তাহার মনে অত্যন্ত ভক্তির উদয় হইল। তাড়াতাড়ি একখানি পীড়ি পাতিয়া দিয়া বলিল —“ঠাকুর, বসতে আজ্ঞা হোক ৷” সন্ন্যাসী উপবেশন করিলেন। রাইচরণ জোড়হন্তে বলিল-“কি মনে করে ঠাকুরের আগমন হয়েছে ?” যবেক সমিল্টস্বরে বললেন—“আজ রাত্রির মত আমাকে একটা পথান দিতে পারলে ?” রাইচরণ সাগ্রহে বলিল—“যখন দয়াকরে অধমের ঘরে পার ধলো দিয়েছেন, তখন পথান অবিশ্যিই দিতে পারব। পটর মা—ও পটের মা—ঠাকুরের পা ধোবার জন্যে একঘটি জল নিয়ে আয় ত।” ~ - পটের মা আহারান্তে বারের নিকট অন্ধকারে দাঁড়াইয়া ব্যাপারটা দেখিতেছিল। ঐ কথা শুনিয়া তাড়াতাড়ি গিয়া একঘাট জল আনিয়া দিল। রাইচরণ, সন্ন্যাসীর পদযুগল ধৌত করিতে লাগিল। তাঁতিনী বলিল—“ঠাকুর, আপনার বোধ হয় সেবা হয়নি ?" “আহারের কথা বলছ ?” “शाँ।” সন্ন্যাসী একটু হাসিয়া বলিলেন—“রীতিমত আহার যে হয়েছে তা বলতে পারিনে । পথে কিছু ফলমল খেয়েছিলাম। আমাদের সমিতির একটা নিয়ম এই যে, ক্ষুধা তৃষ্ণা সহ্য করা অভ্যাস করতে হবে। তাই আমি অনেক সময়, খাদ্য উপস্থিত থাকলেও খাইনে। আজ আর কিছর খাব না।” - রাইচরণ তাঁহার পা মছাইয়া দিয়া বলিল—“তাও কি হয় ঠাকুর : গহন্থের বাড়ী সাধুসন্ন্যাসী এসে উপবাসী থাকলে ভারি অপরাধ হয়। গ্রহস্থের অকল্যাণ হয়। বাবা, আমাদের দয়া করন।” পটের মা বলিল—“আমরা বড় গরীব বাবা। আমরা যে আপনার সেবা করি সে সাধ্য আমাদের নাই। তবে ঘরে চলে ডাল আছে, আল আছে—যদি দয়া করে সেবা করেন ত আমরা কৃতাৰ্থ হই।” দরিদ্র গহন্থের এরপে আগ্রহাতিশয্য দেখিয়া যবেক সন্ন্যাসী বলিলেন—“আচ্ছা বেশ —সব যোগাড় করে দাও—আমি রোধে খাই।” W. এ কথা শনিয়া রাইচরণ স্মীকে বলিল—“তুই যা, পুকুর থেকে এক কলসী জল নিয়ে আয়। আমি তাঁতঘরের রোয়াকে ততক্ষণ একটা উনান কাটি।”—বলিয়া রাইচরণ খন্তা খুজিয়া বাহির করিল। তৃতীয় পরিচ্ছেদ ॥ বাবার দয়া হইল দেখিতে দেখিতে সমস্ত আয়োজন সম্পর্ণে হইল। সন্ন্যাসীঠাকুর রন্ধন কাষে প্রবত্ত হইলেন। তাঁতি ও তাঁতিনী সসম্প্রমে কিয়ন্দরে বসিয়া রহিল, অতিথির কখন কি - - - Ե Եr l