পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


.J. আবার গটাইয়া রাখিয়া বলিলেন—“আচ্ছা, পরে আমি ভাল করে দেখব এখন।" তাঁতনী বলিল—“আমরা মনে করেছিলাম যে ভট্টাচায্য মশায়ের কাছে গিয়ে এর বিধেন নেব, কিন্তু আমাদের খুব ভাগ্যি যে তুমি এসে পড়েছ বাবাঠাকুর, তুমিই এর বিধেন দাও। যাতে আমাদের কোন বিপদ আপদ না হয় এমন কর বাবা।” সন্ন্যাসী ঠাকুর নীরবে আপনার রন্ধনকাৰ্য্য করিয়া যাইতে লাগিলেন। মাদলী বিক্লয়ের করণ ইতিহাসটি তাঁহার হদয়কে অভিভূত করিয়া ফেলিল । - কিছুক্ষণ পরে সন্ন্যাসী হঠাৎ বলিলেন—“আচ্ছা দেখ, তোমরা যদি অনেক টাকা পাও ত কি কর ?” তাঁতিনী বলিল—‘কত টাকা বাবা ?” “এই হাজার—কি দ হাজার—কি পাঁচ হাজার।” তাঁতিনী সাগ্রহে জিজ্ঞাসা করিল--"বাবা ঠাকুর, তুমি কি সোণা তৈরি করতে জান ?” রাইচরণ গোপনে তাহার স্ত্রীর হাত টিপিয়া দিয়া চপে চপে বলিল--চপ কর । বোধ হয় বাবার দয়া হয়েছে।” পরে প্রকাশ্যে বালল—“যদি টাকা হয় বাবা-তবে তাঁপাধম’ করি।” “শধে তাই ? তা করলেই কি টাকার সদ্ব্যয় হয় ? রাইচরণ বলিল—“আমি মুখ্য মানুষ—আমি আর কি জানি বাবা ? আপনি উপদেশ "আমি যে রকম উপদেশ দেন তা যদি তুমি পালন করতে পার, তা হলে হয়ত ভগবান তোমায় পাঁচ হাজার টাকা দিতে পারেন। অবশ্য যদি তাঁর দয়া হয়।” রাইচরণ আগ্রহের সহিত বলিল-"হাঁ বাবা যে রকম বলবেন তাই করব।” পাক সমাপ্ত হইল। হাঁড়ি নামাইয়া রাখিয়া, হস্ত ধৌত করিয়া সন্ন্যাসী ঠাকুর তাঁতি ও তাঁতিনীর সক্ষমতখে আসিয়া বসিলেন । গম্ভীরভাবে বলিলেন—“যদি ভগবান তোমায় পাঁচ হাজার টাকা দেন-” তাঁতনী বাধা দিয়া বলিল—“কেমন করে দেবেন বাবা ” রাইচরণ তাড়া দিয়া বলিল—“চুপ কর মাগী !” যরক হাসিয়া বলিলেন—“ভগবান কি নিজে হাতে করে কাউকে কিছ দেন : কোন মানুষের হাত দিয়ে পাঠান। রাইচরণ, যদি ভগবান তোমায় পাঁচ হাজার টাকা দেন, তবে জেনো, তার মধ্যে কেবল এক হাজার টাকা তোমায় খেতে পরতে দিয়েছেন। সে তুমি নিজের জন্যে ব্যয় করবে। আর বাকী যে চার হাজার, সে তোমায় তাঁতের জন্যে ব্যয় করতে হবে। চার হাজার টাকায়, এই গ্রামে তুমি একটি তাঁতশালা পথাপন করবে। যত গুলো হয় তাঁত খাটিয়ে, এ গ্রামের তাঁতিদের ডেকে, তাদের রীতিমত মাইলে দিয়ে, প্রতিদিন কাপড় বোনাবে। সেই কাপড়, বিনা লাভে, বিক্ৰী করবে। কেমন এ কাজ তুমি পারবে ?” 3 * রাইচরণ অত্যন্ত উৎসাহিত হইয়া বলিল-“আন্দ্রে বাবাঠাকুর, খাব পারব, কেন পারব না ? আমার সাতপুরুষ ত ঐ কাজই করে এসেছে। বেশ পরব।” “লাভ করতে পাবে না। তৈরী করার যা খরচ, সেই হিসাব করে বেচতে হবে।” “আজ্ঞে, আমি যদি লাভ করি তবে সে যেন আমার পক্ষে গোরক্স ব্রহ্মরক্ত হয়।” “উত্তম কথা ! এক হাজার টাকা-সম্পণে তোমার। যে রকম ইচ্ছে খরচ করতে পারবে ।” “আজ্ঞে I” “তা হলে পাঁচ হাজার টাকা পাবে তুমি। কেমন করে পাবে বলে দিই। ভগবান তোমাকে ও টাকা ভট্চাযি মহাশয়ের হাত দিয়ে পাঠবেন।” তাঁতিনী বলিল—“ভটচাযি দিলে হয়—ও হয়ত নিজেই গাপ করবে।” সাল হসিয়া বালন-ভগবান জন্ম তু ক ল । কি রকমে টাকা