পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


आोर्न मिल । ভট্টাচাৰ্য্য পকেট হইতে চশমা বাহির কবিয়া চোখে দিয়া, ভূজপত্ৰখানি পাঠ করিলেন। হঠাৎ তাঁহার মাখের ভাব আশ্চৰ্য্য রপ পরিবত্তিত হইয়া গেল। হাত পা ঠক ঠক করিয়া কাঁপিতে লাগিল। নিকটস্থ তত্ত্বপোষে তিনি বসিয়া পড়িলেন। তাঁতিনী শতিকত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল—“দাদাঠাকুর, অমন করছ কেন ?" ভট্টাচাৰ্য্য দই হাতে কপাল টিপিয়া বলিলেন-হঠাৎ মাথাটা ঘরে উঠল।" “কাউকে ডাকব ; ” - - “না না-এখনি ভাল হয়ে যাবে। ভাল হয়ে গেছে। হ্যাঁ--তুমি কি বলছিলে ? মাদলীটি কোথায় পেয়েছিলে ?” “আমাদের বাড়ীতে বহনকাল ছিল। আমার বাশড়ীর কাছে শুনেছিলাম, সাতপ্রয় ধরে আমাদের ঘরে এ মাদলী আছে। আমার শবাশুড়ী তার শ্বাশুড়ীর কাছে পেয়েছিল, তার শবাশুড়ী তার বাশুড়ীর কাছে পেয়েছিল। আমার শবাশুড়ী মরবার সময় তামায় বলে গিয়েছিল, এটি সাবধানে রেখ, খাইও না—তুমি মরবার সময় তোমার বউকে দিয়ে, এই রকম সাবধান করে দিও " ভট্টাচায্য বলিলেন-ঈশ্য, তা হলে খাব পরোণো জিনিষ দেখছি। মন্তরটি যা লেখা রয়েছে, বড় ভাল মন্তর : এমন মন্তর আজকাল পাওয়াই যায় না। তা, এ ভূজপত্রটকু শুধু অন্য মাদলীতে পরে দিলেই ত চলবে না! ভাতগা হয়ে গেছে—ছোঁয়াছুয়ি হয়ে গেছে যে ! একে পুজো করে শোধন করতে হবে। তার জন্যে আবার পাঁজিপথি ঘেটে দিন দেখা দরকার। এক কাজ কর—এটি আমার কাছে এখন থাক। দিন দেখে শোধন করে, একটি তামার মাদলীতে ভরে দেব এখন।” তাঁতিনী বলিল—“তাই রাখ।” ভট্টাচায্য গলা ঝাড়িয়া মুখখনি অত্যন্ত সকরণ করিয়া বলিতে লাগিলেন—“আর তাও বলি তাঁতিবউ, তোমার বন্ধিটি বড় হালকা। বেশ ত, ঘরে ভাত ছিল না, আমাদের বাড়ী এসে চাইলে কি তোমার ছেলে মেয়ের জন্য দথালা ভাত পেতে না ? মাদলীটি বেচত গেলে কেন ? তাঁতিবন্ধি একেই বলে ।” - তাঁতনী বলিল—“বুদ্ধি থাকলে আর এমন দন্দশা হবে কেন দাদাঠাকুর!” “সেই কথাই ত বলাঁচ। আচ্ছা, এখন বেলা হল-দোকানে যাই।”—বলিয়া ভট্টাচাষ্য নিকান্ত হইয়া গেলেন। পরদিন প্রাতঃকালে ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় রাইচরণকে ডাকাইয়া পাঠাইলেন। রাইচরণ আসিয়া প্রণাম করিয়া বলিল—“দাদাঠাকুর ডেকেছেন ?" “হাঁ বস! একটা কথা তোমায় জিজ্ঞাসা করব বলে ডেকেছিলাম। তোমার ঘরদের -ঘা আছে তা ত দেখছি নিতান্ত ভাঙ্গাচোরা ।” “কি করব দাদাঠাকুর, পেটেই খেতে পাইনে ত ঘর সারাব কোথা থেকে ? মাটির ঘর বৈত নয়, বছর বছর না সারালে টেকে না।"- . “ঐ যে নীল বাগ বলে ওপাড়ার একঘর কৈবত্ত ছিল, সে অন্য গ্রামে গিয়ে বাস করছে, তার ভিটেটা আমি খরিদ করে নিয়েছি জান ত ?” “আজ্ঞে জানি।” “উচ রোয়াকওয়ালা বেশ শক্ত পোক্ত দখোন ঘর আছে, রান্নাঘর আছে, গোয়াল আছে, দুটো আমগাছ আছে—আরও সব অতিলাং আছে। আমি বলি কি, সেই বাড়ীতে গিয়ে তুমি বাস কর না কেন ? আমি তোমায় অমনি দিচ্ছি-যদি তোমার ভিটেটুকু আমায় ছেড়ে দাও।” সন্ন্যাসী ঠাকুরের ভবিষ্যৎবাণী ত্রিরাত্রি পোহাইতে না পোহাইতে ফলিতে লাগিল দেখিয়া রাইচরণের আপাদমস্তক কণ্টকিত হইয়া উঠিল। আত্মসমবরণ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল—“কেন দাদাঠাকুর, আমার ভিটে নিয়ে আপনি কি করবেন ?” - ৯২ -