পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“আমি ও জায়গায় একটি শিব প্রতিষ্ঠে করব মনে করেছি। কি বল, দেবে ? তোমার কিছ লোকসন নেই, বরং লাভই আছে। অমন ভাল বাড়ী, গাছপালা, অমনি পাচ্ছ।” রাইচরণ কয়েক মহত্ত্বে নীরব থাকিয়া বলিল—“অজ্ঞে পৈত্রিক ভিটে সাতপরষ ওখানে বাস করেছে—” ভট্টাচাৰ্য্য মধর হাস্য করিয়া বললেন—“হে’ঃ-তাতিবন্ধি কিনা ! সাতপুরষ বাস করেছে ত কি হয়েছে রে ; আমন ভাল ঘরদোর মাংগনা পাচ্ছিস-অমন গাছপালা । আমাদের কেউ দিতে চাইলে ত আমরা বত্তে যাই।” রাইচরণ কথা কহে না। ঘাড় গজিয়া দাঁড়াইয়া রহিল। আবার মন-কড়িয়া-নেওয়া হাসি হাসিয়া ভট্টাচাৰ্য্য বলিলেন—“তোর মনের ভাবখানা আমি বুঝতে পেরেছি। তুই মনে করেছিস, আমার ভিটেটা কিছ না হবে ত এক বিঘে জমির উপর। নীল বাগের যে বাড়ী দশ কাঠা হবে কিনা সন্দেহ: বেশীট দিয়ে আমি কমটা কেন নিই। এই মনে করছিস ত?” আর কোনও উত্তর ভাবিয়া না পাইয়া রাইচরণ বলিল—“আজ্ঞে হ্যাঁ।” তখন ভট্টাচাৰ্য্য হে হে কবিয়া হাসিয়া বলিলেন-কে বলে তাঁতির বন্ধি নেই ? আচ্ছা বাপ তোর ভিটেতে যেমন জমি বেশী আছে—তেমন না হয় দ একশো টাকাই ধরে নিবি। কেমন, সন্তোষ হলি ত ?” রাইচরণ তথাপি কিছ বলে না। ভট্টাচাৰ্য্য বলিলেন—“তাঁতবউয়ের সঙ্গে পরামর্শটা না করে কিছু বলতে পারছিসনে বঝি ? আচ্ছা যা, পরামর্শ করে, ওবেলা এসে আমায় বলিস। নগদ দশো আর নীল রাইচরণ প্রণাম করিয়া বিদায় লইল । অপরাহ্লে ভট্টাচায্য সাগ্রহে তাহার প্রতীক্ষা করিলেন, কিন্তু সে আসিল না। সৰ্য্যোস্তের সময় তাই তিনি বেড়াইতে বেড়াইতে স্বয়ং রাইচরণের গহে পদধলি দিলেন। “কিরে রাইচরণ ? কত্তাগিন্নীতে পরামর্শ করে কি ঠিক করলি ?” রাইচরণ মুখখানি নীচ করিয়া বলিল—“অজ্ঞে, সাতপরষের বাস্তুভিটে কেমন করে ಇಗೆಳು এক কথা শিখে রেখেছিস-সাতপর ষের বাস্তুভিটে।”—বলিয়া ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় উঠানের চতুদিকে পাইচারি করিয়া বেড়াইতে লাগিলেন; অবশেষে বললেন—“একটি শিব প্রতিষ্ঠে করব বলে নিতান্ত ঝোঁকটা হয়েছে আমার, তাই তোর অত খোসামোদ করছি ! নইলে এ ভিটে নিয়ে আমি আর কি করব ? আচ্ছা যদি দশো টাকায় তোর মন না ওঠে —তা হলে না হয় আরও কিছু বেশী নে, পাঁচশো টাকা আর নীলর সেই বাড়ী।” । রাইচরণ নিবাক। ভট্টাচাষ, তাহার মুখের পানে কিয়ৎক্ষণ চাহিয়া রহিয়া বললেন“কি বলিস ?” "আজ্ঞে—আমার কেমন মনটা সরছে না। আমার মনে হচ্ছে এ পৈতৃক ভিটে বেচে ফেললে আমার আর ভদ্রপথতা থাকবে না ।” ভট্টাচাৰ্য্য ব্যঙ্গস্বরে বলিলেন—“হঃ—ভারি ভদ্রপথতা আছে কিনা ! এ দিকে ত রাত পোয়ালে কি খাবি তার ঠিক নেই। পাঁচ পাঁচশো টাকা দিতে চাচ্ছি—যত দিন বাঁচতিস পায়ের উপর পা দিয়ে বসে খেতিস। তোর কপালে নেই সখি, লোকে কি করবে বল ?”—বলিয়া ভট্টাচাৰ্য চারিদিকে আবার পায়চারি করিতে লাগিলেন। যেখানে রাইচরণের পবেীপরাষগণের পাকাবাড়ী ভগ্নস্তপ হইয়া পড়িয়া ছিল, সেখানে দড়িাইয়া ভট্টাচাৰ্য মহাশয় যেন আপন মনেই বলতে লাগিলেন-"এই যে সব ইণ্ট পড়ে রয়েছে, ছোট ছোট পাতলা ইন্ট-এ সব সেকেলে ই’ট ভারি পোক্ত হয়। এমন ইট আর একালে তৈরি হয় না। একালের ইট হাত থেকে মাটিতে পড়লে ভেঙ্গে যায়। সে কালের এ সব ইট এখনও এত মজবত ষে শাবল মারলেও ভাঙ্গে না। ইন্ট যা পড়ে আছে Sలి