পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেখছি—এরই ত দাম পাঁচশো টাকা হবে । এই ইন্ট দিয়ে মন্দির তৈরি করলে, সে একেবারে চিরস্থায়ী। (উচ্চৈঃস্বরে) রাইচরণ—আমি দরই বাড়িয়ে যাচ্ছি—দরই বাড়িয়ে যাচ্ছি দেখে তুই বোধ হয় ঠাউরেছিস—আমার ভারি গরজ ? আচ্ছা বলি শোন । এই ইটগুলো সন্ধে যদি আমায় দিস, তবে হাজার টাকা দেব বস-—আর এক পয়সা না। কোথা পাব আমি এর বেশী ? আমি ছাঁপোষা মানুষ—হাজার টাকা দিতেই আমার জিব বেরিয়ে যাবে। যদি হাজার টাকায় হয় ত বল, নইলে বাবা মহাদেব মাথায় থাকুন-মন্দির প্রতিষ্ঠে করা আমার বারা হল না।”—বলিয়া তীক্ষ দটিতে রাইচরণের পানে চাহিয়া রহিলেন । রাইচরণ কিছই বলে না। তখন তিনি তাহাকে ছাড়িয়া তাঁতনীকে ধরিলেন: বলিলেন—“বলি তাঁতিবউ, রাইচরণ না হয় বড়ো হয়েছে-ভীমরতি হয়েছে। তোমার স্থা এখনও যাবত্ব বয়েস। তুমি কি বুঝতে পাচ্ছ না—এ ভিটে, যা অন্য কেউ একশো টাকা দিয়েও কিনবে না—তার জন্যে আমি হাজার টাকা পৰ্যন্ত উঠছি। এমন নয় যে বাড়ীখানি বেচে ফেলে কোথা তোমরা দাঁড়াবে তার ঠিকানা নেই। একখানা বাড়ী পয্যন্ত দিচ্ছি। নীল বাগ কৈবত্তর সেই বাড়ী—দেখেছ ত ? হাজার টাকা দিতে চাচ্ছি—তব্যও রাজী নয়। তুমিই না হয় ওকে বঝিয়ে সঝিয়ে বল। হাজার টাকা কি অলপ টাকা ? —তোমার ঐ যে ভাতের হাঁড়ি রয়েছে, ওরই এক চড়ি টাকা, বরং বেশী। আজ আমি এখন চললাম। সন্ধ্যা-আহ্যিক করবার সময় বয়ে যাচ্ছে। ওকে বেশ করে বুঝিয়ে কাল সকালে এস, তারপর সদরে গিয়ে রীতিমত ই-ট্যাম্প কাগজে লেখাপড়া করে, কওলা করে দিও—হাজার টাকা নগদ নিয়ে গ্যটি হয়ে এসে বস। এখন চললাম।” পরদিন প্রাতে তাঁত কিবা তাঁতিনী কেহই ভট্টাচায্য মহাশয়ের কাছে উপস্থিত হইল না। তখন তিনি লোক দিয়া তাহাদিগকে ডাকাইয়া পাঠাইলেন। তাহারা আসিলে বলিলেন—“কি গো ? কি পরামর্শ হল তোমাদের " রাইচরণ বলিল—“পরামর্শ আর কি হবে দাদাঠাকুর, ভিটে বেচতে পারব না।” “কেন শনি।” - “বাপরে, সাতপর ষের ভিটে কি কেচতে পারি? আমার ছেলেপিলের অমঙ্গল হবে।” “ঈস-ভারি যে পণ্ডিত হয়েছিস রে । অমঙ্গল হবে ? কেন, অমঙ্গল হবে কেন ? কেউ কি ? ভিটেতে কসাইখানা খলেছে ? শিবের মন্দির হবে, দিন রাত ধপধনো পড়বে, পজো হবে, কসির ঘণ্টা বাজবে—তোর সাতপুরষ উদ্ধার হয়ে যাবে তা জামিস " রাইচরণ পত্ৰবাবৎ নীরব। কিয়ৎক্ষণ অপেক্ষা করিয়া ভট্টাচায্য বলিলেন—“আচ্ছা কত হলে তুই দিস, তাই বলা না। তোর দরটাই শনি।” রাইচরণ কথা কহে না। ভট্টাচায্য হাসিতে হাসিতে বলিলেন—দ হাজার নিবি?" রাইচরণ পাববৎ। x - ভট্টাচায্য তখন গম্ভীরভাবে বলিলেন--"হাসি ঠাট্টা নয়--সত্যিই আমি দহোজার পয্যন্ত উঠব। আসল কথাটা তবে তোকে খুলে বলি। বাবা মহাদেব আমায় সবগুন দিয়েছেন, --বলেছেন, রাইচরণ তাঁতির ঐ ভিটেটি বড় পবিত্র পথান-ঐ ভিটেতে একটি মন্দির তুলে তুমি আমায় স্থাপনা কর। তাই তোর ভিটেখানির উপর আমার এত ঝোঁক । নইলে দনিয়ায় আর শিব প্রতিষ্ঠে করবার কি জায়গা পেলাম না ? আমার নিজের বাড়ীতেই ত করতে পারি। আজ সকাল সকাল খাওয়া দাওয়া করে নে—চল দুজনে সদরে যাই। কাল দিনটেও ভাল আছে। কাল রেজেক্টরি হাকিমের সমখে, এক হাতে তোর কওলা নেব, অন্য হাতে দ হাজার খানি টাকা দেব। কি বলিস " রাইচরণ বলিল—“আজ্ঞে, সেটি পারব না।" ভুট্টাচায্য একটি দীঘনিশ্বাস ত্যাগ করিয়া বলিলেন—“শাস্ত্ৰে যে আছে অদষ্ট ছাড়া । পথ নেই—তা ঠিক । তো আল মই ফুলজের এমন বর্ধিই বা হবে কেন ?