পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেকালে এক ব্রাহ্মণ ছিল—ভারি গরীব ! অন্ন জোটে না, ছেলেপিলেকেও পেটভরে খেতে দিতে পারে না। ব্রাহ্মণ রোজ সকালে ভিক্ষে করতে বেরুত, সাত গাঁ ভিক্ষে করে সন্ধ্যেবেলা ঘরে ফিরত। একদিন এইরকম ফিরছে, আকাশ দিয়ে হরপাবতী রথে চড়ে যাচ্ছিলেন। দুগা বললেন-নাথ, ঐ ব্রাহ্মণের কাট দেখে আমার বড় দুঃখ হয়। রোন্দর নেই বটি নেই, রোজ এই রকম করে সাত গাঁ ভিক্ষে করে বেড়ায়, তব পেটভরে খেতে পায় না। ওকে তুমি কিছু ধন দাওনা কেন, যাতে ওর দুঃখ ঘোচে : মহাদেব হেসে BBBDSTBBS BB BBBB B BBSBB BB BB BBBBBS BBB BBBB —তোমার যেমন কথা! তুমি যদি ওকে ধন দাও তাহলে নাকি ওর ধন হয় না! মহাদেব লেন—আচ্ছা দেখবি-—তবে দ্যাখ্য। ৫ ষে পথে যাচ্ছে সেই পথে আমি একখান সোণার ইট ফেলে রাখছি, ও পায় কি না দাখা —বলে মহাদেব কিছু দরে একখান সোণার ই-ট ফেলে রাখলেন । চলতে চলতে ব্রাহ্মণেব হঠাৎ কেমন খেয়াল হল, সে মনে মনে ভাবলে --আমি ভিক্ষে করে এত বছর ধরে রোজ রোজ এই পথ দিয়ে ঘরে ফিরি-এ পথ আমার এমন অভ্যাস হয়ে গেছে যে বোধ হয় চক্ষ বজেও ঠিক চলে যেতে পারি। আচ্ছা দেখিই না কেন পারি কি না। বলে ব্রাহ্মণ চক্ষ, দুটি বৃক্তে পথ চলতে আরম্ভ করলে। যেখানে সোণার ইট পড়ে ছিল সেই জায়গাটা চক্ষ বজেই পার হয়ে গেল--তোদের হয়েছে তাই। দ, হাজারের বেশী আমি দিতে পারব না—আমায় কেটে ফেললেও না। আচ্ছা এখন যা, ভাল করে ভেবে চিন্তে দেখে-যা হয় ও বেলা আমায় বলিস এখন।” তাঁতি ও তাঁতিনী প্রণাম করিয়া প্রস্থান করিল। বাড়ী গিয়া তাঁতিনী বলিল—“ওগো দেখ, আমি বলি কি, ভট্চায্যি যে দী হাজার টাকা পৰ্যন্ত উঠেছে ওতেই রাজী হও। বেশী লোভ করতে গিয়ে একল ওকলে দকল যাবে।” রাইচরণ বলিল—“ঠাকুর ত বলে গেছেন পাঁচ হাজার টাকা আমি পাব।” “পাঁচ হাজার টাকা ভট্চায্যি দিতে পারবে কি ? বা পাওয়া য়াচ্ছে তাই যথেষ্ট। হাতেরটা ছাড়তে নেই।” "ওরে ক্ষেপি ] পাঁচ হাজার টাকা কি ভট্চায্যি আমায় দিচ্ছে ? পাঁচটা পয়সা দেয় মা ও পাঁচ হাজার টাকা! ও টাকা ভগবান দিচ্ছেন—ওর হাত দিয়ে দিচ্ছেন। ঠাকুর ত বলেই গেলেন।” তাতিনী চিন্তিত হইয়া বলিল—“ঠাকুর বলে গেলেন বটে—কিন্তু তিনি ত আর সাঁতা দেবতা নন, তিনিও মানুষ। তাঁর কথাই কি বেদ বাকি ? যদি শেষ পর্যন্ত না ফলে ?” রাইচরণ উত্তেজিত হইয়া বলিলেন—“ছি ছি এমন কথা বলিসনে পটের মা! তাঁরা হলেন সাধু পরষ—তাঁদের কথা মিথ্যে হবার যো আছে ? তাঁদের কথায় সন্দেহ করাও পাপ। আমি পাঁচ হাজার টাকাই পাব।” * বাসতবিকই তাহাই হইল। ভট্টাচাযৰ্ণ মহাশয় পরদিন তিন হাজার ও তৎপরদিন চার হাজারে উঠিলেন। তাহাতেও যখন রাইচরণ রাজী হইল না, তখন তিনি আবার তাহাকে ডাকাইয়া বলিলেন—“রাইচরণ তোর কি পরকালের ভয় নেই?" "কেন দাদাঠাকুর ?” "আমি যে এত করে তোর খোসামোদ করছি, ঐ জায়গাটির জন্যে চার হাজার টাকা পৰ্যন্ত দিতে চাচ্ছি—তুই রাজী হচ্ছিসনে। বাবা মহাদেব আমাকে স্বপ্ন দিয়েছেন, তোর ঙ্কিটের ঐ জায়গাটকু তাঁর বড় প্রিয় স্থান, ঐখানে আমি যদি তাঁর মন্দির প্রতিঠে করতে পারি তবে বাবা আমাকে এমন বর দেবেন বলেচেন, যাতে আমার বংশে কেউ কখন কট পাৰে সা-সবাই রাজার মত সুখে সবচ্ছদে থাকবে। তাই আমার এই আকিঞ্চন । তুই জমিটছু আমায় বেচলে একজন ব্রাহ্মণের বংশাবলীক্ৰমে উপকার করা হয়। আর যদি লা দিগ, আমার মনঃক্ষণ করিস, তবে ব্ৰহ্মশাপ কি তোর লাগবে না ভেবেছিস ?” রাইচরণ একট চপ করিয়া থাকিয়া বলিল—“চার হাজার বলছেন?” ఏd -