পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“নগদ চার হাজার ” “অ্যর নীলবাগের সে বাড়ীখানাও ?” “সে বাড়ীখানাও।” “আচ্ছা দাদাঠাকুর, অত করে যখন বলছেন—তবে না হয় দিচ্ছি—কিন্তু আরও এক হাজার উঠতে হচ্ছে। নগদ পাঁচ হাজার টাকা আর নীলবাগের ঐ বাড়ীখানা।” এ কথা শুনিয়া ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় রাইচরণের পাঠ চাপড়াইয়া লন—“ভালা রে মোর বাপরে! কে বলে তাঁতির বন্ধি নেই ? আচ্ছা আমি রাজি। পাঁচ হাজার টাকাই পাবি। আর নীলবাগের বাড়ীখানা। তা হলে আজই চল, দগর্ণ বলে বেরিয়ে পড়া যাক। সদরে গিয়ে কালই লেখাপড়া হবে।” “যেমন আজ্ঞে করেন।” পরদিন ভট্টাচায্য সদরে রাইচরণকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা দিয়া দলিল রেজিটারি করাইয়া লইলেন। পঞ্চম পরিচ্ছেদ ॥ নতন শাস্ত গ্রামে ফিরিয় রাইচরণ নিজের সামান্য জিনিষপত্র—আর তাঁতখানি, নীলবাগের বাড়ীতে উঠাইয়া আনিল। সন্ন্যাসীর নিকট প্রতিশ্রুতি অনুসারে, তাঁতশালা নিম্নমাণ সম্বন্ধে কি করিবে, তাহাই চিন্তা করিতে লাগিল। এইরপে সপ্তাহ অতীত হইল। সে দিন সন্ধ্যার পর রোয়াকের উপর বসিয়া রাইচরণ ধুমপান করিতেছিল, এমন সময় একজন ভদ্রবেশধারী যবেক উঠানে আসিয়া দাঁড়াইয়া বলিল—“বন্দে মাতরম।" তাহার অঙ্গে কামিজের উপর ছিটের কোট, গলায় ময়লা রেশমী চাদর, পরিধানে মোটা ধতি, পায়ে কানপরের বটজতা। ༣. སྨར་སྟོད་ལྟ་ཨམ་ হকার ডাক বন্ধ হইযা গেল। অবাক হইয়া সে আগন্তুকের প্রতি চাহিয়া - l যবেক বলিল—”কিন্তু বন্ধ চিনতে পারলে না ? পাঁচ হাজার টাকা পাইয়ে দিলাম, এরি মধ্যে ভুলে গেলে ?” গলার সবর চিনিয়া রাইচরণ বলিল—“কে, সন্ন্যাসী ঠাকুর ?” যবধ হাসিয়া বলিল—“হ্যাঁ, সেদিন সন্ন্যাসী ঠাকুরই ছিলাম বটে—আজ ইয়ং বেংগল । যখন যেমন তখন তেমন ।” রাইচরণ বিস্ময়ে দিশাহারা হইয়া বলিল—“আসন আসন উপরে আসন। বসতে আজ্ঞা হোক।” যবেক বাঁসলে রাইচরণ জিজ্ঞাসা করিল—“বাবার আজ এ বেশ কেন ?" - যবেক বলিল—”এই আমার সাধারণ প্রতিদিনকার বেশ। সেবার গ্রামে গ্রামে স্বদেশী মন্ত্র প্রচার করিতে বেরিয়েছিলাম, তাই সন্ন্যাসীর বেশে এসেছিলাম।” রাইচরণ কথা ভাল বঝিতে পারিল না ; সংশয়ের সহিত বলিল—“আজ কি মনে করে আগমন ?” “আজ দেথতে এসেছি তুমি ভট্চায্যি বড়োর টাকাগুলো নিয়ে কি করছ। এখনও ত তাঁত টাত কিছই বসাতে আরম্ভ করনি দেখছি। আর দেরী করছ, কেন ? সমখে পজো—বিস্তর দেশী কাপড় বৈকুী হবে। ভগবানের ইচ্ছায় এবার পজোতে বিদেশী কাপড় খুব কম লোকেই কিনবে। তাঁত চালাও—তাত চালাও । নইলে কেমন করে তাঁতের উন্নতি করবে ? এবার সবদেশীর জয়জয়কার।” রাইচরণ জিজ্ঞাসা করিল—“আপনি—কি—তবে সন্ন্যাসী নন ?” “না গো কত্তা, সন্ন্যাসী কেন হতে যাব ? বালাই ষাট!" রাইচরণের বিস্ময় ক্ৰমেই বাড়িয়া চলিতেছিল। ভয়ে ভয়ে বলিল—“আচ্ছ, আপনি যদি সন্ন্যাসী নন, তবে আমায় পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ালেন কি করে? আমার সেই ভিটে - Stు