পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যে ব্রাহ্মণ এ ব্যাপারে পৌরোহিত্য করেন, তাঁহার নাম ও দক্ষিণা দই-ই বাড়িয়া যায়। এমন কি দেশীয় রাজপরষগণ জাঁকজমকের সহিত সতীদাহপথানে আসিয়া দশ করপে দণ্ডড়ায়মান হন। বিধবারা শুধ সাময়িক কৃত্রিম উত্তেজনার বশেই এরপ অস্বাভাবিক কায্যে প্রবত্ত হয় সন্দেহ নাই। তবে সব সময়ে একথা খাটে না । মেজর কাণাক বরোদারাজ্যে রেসিডেন্ট থাকার সময় নিম্নলিখিত ঘটনাটি ঘটিয়াছিল। বরোদা-নিবাসী একজন দক্ষিণী ব্রাহ্মণ, গোয়ালিয়র-রাজ দৌলং রাও সিন্ধিয়ার অধীনে কারকুণের কম করিতেন। ১৮১৫ সালে তাঁহার পত্নী (বরোদায়) এক রজনীতে সবগুন দেখিলেন, যেন তাঁহার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে। সবগুন দশন করিয়া কয়েকদিন অবধি তাঁহার মন অত্যন্ত চঞ্চল হইয়া রহিল। একদিন কাপ হইতে জলের কলসী মাথায় করিয়া তিনি গহে ফিরিতেছিলেন। গলার হারই সে দেশে সধবার চিহ্ন, সেটি তিনি কলসীর গলায় রাখিয়া আনিতেছিলেন। হঠাৎ একটা কাক,পড়িয়া কলসীর গলা হইতে সেই হার মখে লইয়া উড়িয়া পলাইল। এইরুপ দনিমিত্ত ঘটায় ভয়ে ও চিন্তায় ব্রাহ্মণকন্যা অতিশয় কাতর হইয়া পড়িলেন। কলসী সেখানেই আছাড়িয়া ফেলিয়া গহে আসিয়া বলিলেন, “আমি সতী হইব।” রেসিডেন্ট সাহেব এই সংবাদ পাইবামার, সেই ব্রাহ্মণগহে গিয়া সীলোকটিকে অনেক বাঝাইলেন, এ কায হইতে তাঁহাকে বিরত করিবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিলেন, কিন্তু কোনও ফল হইল না। সাহেব তখন বরোদা মহারাজের নিকট গিয়া সমাদয় বিবরণ কহিলেন। তাঁহার অনুরোধক্ৰমে মহারাজও স্বয়ং সেই ব্রাহ্মণের বাড়ীতে গিয়া সীলোকটিকে অনেক প্রকারে বঝোইলেন। বলিলেন, “তোমার স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে এমন সংবাদ কিছুই পাওয়া যায় নাই, কেন তুমি অকারণ আত্মহত্যা করিতে যাইতেছ? যদি সত্য সত্যই তোমার স্বামী মরিয়া থাকেন, তুমি যাবতজীবন রাজসরকার হইতে খোরপোষ পাইবে, তোমার স্বামীর উপাজনের উপর আর যাহার যাহার অশনবসন নিভীর করিত, সকলকেই আমি প্রতিপালন করিব, তুমি এ সংকল্প পরিত্যাগ কর।” কিন্তু তথাপি তিনি অটল রহিলেন। মহারাজ তখন নিজ সিপাহীগণকে আদেশ দিয়া আসিলেন—“তোমরা এ বাড়ীর চারিদিকে অণ্টপ্রহর পাহারা দাও, সাবধান যেন কোনওক্লমে সীলোকটি বাহিরে মা যাইতে পারে।” মহারাজ প্রস্থান করিলে, সিপাহীগণকে ব্রাহ্মণকন্যা অনেক কাকুতি মিনতি করিলেন —“কেন তোমরা আমায় আটকাইয়া রাখিয়াছ, ছাড়িয়া দাও।” কিন্তু সিপাহীরা রাজতাজ্ঞা লঙ্ঘন করিতে সাহস করিল না। অবশেষে সন্ত্রীলোকটি একখানা ছোরা আনিয়া সিপাহীদিগকে বললেন—“তোমরা যদি আমায় ছাড়িয়া না দাও, এই ছোরা আমি নিজের বকে মারিব। ব্ৰহ্মরক্তপাতে তোমাদের রাজ্য ছারখার হইয়া যাইবে r—তখন ভয়ে সিপাহীরা *थ शक्लिग्ना निल । রমণী তখন প্রকাশ্য রাজপথ দিয়া ধীরে ধীরে নদীতীরাভিমুখে অগ্রসর হইলেন। সেখানে পে'ছিয়া তিনি আত্মীয় বন্ধগণের আগমন প্রতীক্ষা করিতে লাগিলেন। ক্লমে সকলে আসিয়া পেপছিল। চিতা রচিত হইল। স্বামীর একটি অন্নগঠিত মত্তি প্রস্তুত করিয়া, সেটি চিতায় স্থাপন করিয়া, রমণী নানাদি ক্লিয়া সমাপন করিলেন। তাহার পর অবিকল্পিত পদে, চিতায় উঠিয়া অন্নমত্তি-বামীর পদতলে উপবেশন করিলেন। তাহার পর, চিতা জৰলিয়া উঠিল। ダ আশচয্যের বিষয় এই যে, এই ঘটনার তিন সপ্তাহ পরে, সীলোকটির স্বামীর মৃত্যুসংবাদ আসিল, লোকে হিসাব করিয়া দেখিল, ব্রাহ্মণের মৃত্যুর সময়টি, তাঁহার সাধনী }শাঁর স্বপ্নদর্শন-সময়ের সহিত মিলিয়া গিয়াছে। - ఫిఫె