পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একটি রৌপ্যমুদ্রার জীবন-চরিত আমি একদিন রাত্রে আহারের পর রাস্তার ধারে বারান্দায় ঈজিক্ষৈরে অয়শয়া বস্থায় আলবোলার নলটি মাথে দিয়া ঢলিতেছিলাম। দারণ গ্রীমকাল, কিন্তু সেদিন সন্ধ্যা হইতে ঘণ্টা দই বেশ এক পশলা ব্যষ্টি হইয়া যাওয়াতে কিছু ঠাণ্ডা ছিল। পল্লীগ্রাম,—অধিক রাত্রি হইবার বহুপবেই পথে লোক-চলাচল বন্ধ হইয়াছে। হালদারদের বাগানের ভিতর একটা নারিকেল গাছে দইটা পেচক বাস করিত, তাহারাই মধ্যে মধ্যে ঝঙ্কার দিতেছিল, আর সব নিস্তবধ । ঢুলিতে চলিতে হঠাৎ যেন মনে হইল, আমার মাখনলটা আস্তে আস্তে বলিতেছে “বলি শুনিতেছ ? এত ত লেখ, আমার জীবনের ইতিহাসটা লিখিয়া ছাপাইয়া দাও না ; বেশ একটা গল্প হইবে।” আমি ঘমের ঘোরে বলিলাম—“তুমি অচেতন পদার্থ, একথান হইতে অন্য স্থানে যাতায়াত করিতে পার না—তোমার আবার ইতিহাস কি ?” সে বলিল—“আমি এখনই আচল হইয়াছি, চিরদিনই কি এমন ছিলাম ? যখন জীবিত ছিলাম, তখন আমি যেমন দ্রত পারে না কি !” আমি বলিলাম–“ভাল, তুমি না হয় সচলই ছিলে, তা বলিয়া তোমার ইতিহাস আবার কি ?” মনুখনল একমুখ হাসিয়া উত্তর করিল—“বথা এতকাল তোমায় ধমপান করাইয়াছি! মানুষেরই বঝি সুখ-দঃখ, বিপদ-সম্পদ, সোণার্যপার বঝি সে সব কিছুই নাই ? তবে আমার জীবনের কাহিনী শ্রবণ কর, তাহার পর বিচার করিও ” বলিয়া আরম্ভ করিল – আমার জন্মদিনটা ঠিক মনে নাই, বৎসরটা গায়ে লেখা ছিল, দেখিয়াছিলে কি ? আশিবন মাস—শীঘ্ৰ পাজার বন্ধ হইরে বলিয়া টাঁকশালে কাযের ভারি ধম পড়িয়া গিয়াছিল। দিবারান্ত্রি যন্ত্রের ঘটঘট শব্দে মনে হইত, যদি চিরবধির হইয়া জমিতাম সেই ভাল ছিল । আমার জন্মের তিন চারি দিন পরেই বড়বাজারের এক মাড়োয়ারি মহাজন বড় বড় থলি করিয়া দশ হাজার টাকার নোট ভাঙ্গাইয়া লইয়া গেল—আমাকেও সেই সঙ্গে যাইতে হইল। আমি তখন সংসারের ব্যাপার কিছুই জানি না ; মনে ধারলাম, ভারি মহাজনের দোকানে যাইতেছি, দোকানে বসিয়া কত কি দেখিতে পাইব, শনিতে পাইব, কত আমোদ হইবে। ও মহাশয়, গাড়ী হইতে নামিয়া দন্ট মহাজন দুইজন ভূত্যের সাহায্যে থলিগলা একটা অন্ধকাপের মত ঘরে লইয়া গিয়া মেঝেতে দমাদম করিয়া ফেলিল, তাহার পর ক্যাঁচকড়াৎ করিয়া একটা শব্দ হইল, তাহার পর ঘটাং করিয়া আর একটা শব্দ হইল, তাহার পর বলিল, “লে আও!” তাহার পর এক এক করিয়া থলিগলার নিম্নকণ দুইটা ধরিয়া লোহার সিন্দকে হাড় হড়া করিয়া ঢালিতে লাগিল। আমাদের শরীরটা শৈশব হইতেই কিছু কঠিন, নচেৎ সেই পতনেই, বিয়োগান্ত নাটকের পঞ্চমাকে রাজা বা রাণীর ন্যায়, মৃত্যু অনিবাৰ্য্য হইত। . *. মহাজন যখন সিন্দকে বন্ধ করিয়া চাবি দিয়া চলিয়া গেল, তখন আমরা সকলে নিতান্ত ভীত হইয়া পড়িলাম। সকলেই ছেলেমানুষ, সংসারের কিছুই জানি না। বাংগালীর ঘরের কচিমেয়ে স্বশরবাড়ী আসিলে তাহার যে কি মনে হয়, তাহা অন্তরে অস্তরে বেশ অনুভব করিতে পারিলাম। যাহা হউক, সকলে মিলিয়া নীরবে আপন আপন অদটের লিন্দা করিতেছি, এমন সময় মহাজল আসিয়া সিন্দকে খলিল। একমঠা টাকা বাহির করিয়া গণিয়া দেখিল, আরও দই তিনট লইল, লইয়া, সিন্দকে বন্ধ করিয়া চলিয়া গেল। তখন পাজার বাজার, প্রাতঃকাল হইতে রাত্রি দশটা বারোটা অবধি gেল্ল মিলে কি কম। অধিকাংশ লোকই নোট লইয়া S -