পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিপরীত দিকে মহাবেগে ছটিয়া যায়। চন্দ্রবাটীর ঘাটে একখানা মাল বোঝাই প্রকাণ্ড ভড়ে ঠেকিয়া ভাঙ্গিয়া গেল। গহনার বাক্স চাদর দিয়া সীতানাথের পিঠে বাঁধা ছিল। অচেতন অবস্থায় সীতানাথকে জল হইতে তুলিয়া ভূধর চট্টোপাধ্যায় তাঁহাকে গহে লইয়া যায়। শুশ্ৰুষা করিয়া তাঁহার প্রাণ বাঁচাইয়াছে, কিন্তু গহনার বাক্স দিল না। গ্রীনিবাস ভ্রকৃেঞ্চিত করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন—“গহনার কথা সে নিজমুখে স্বীকার করেছে ?” “প্রথম স্বীকার করেনি। আমার যখন জ্ঞান হল তখন জিজ্ঞাসা করলাম, আমার পিঠে যে একটা বাক্স বাঁধা ছিল সেটা কোথায় ? বললে, তা ত কই আমরা পাইনি। তখন আমি চীৎকার করে বললাম, আমার সববসব গেল রে, ব্ৰহ্মহত্যে করলে রে-বলে আনার আমি অজ্ঞান হয়ে যাই । ফের যখন জ্ঞান হল, তখন দেখি কোথা থেকে একটা ডাক্তার নিয়ে এসেছে—ডান্তারটি বললে তোমার কোনও ভাবনা নেই, তোমার বাক্স আছে । আমার সমস্ত পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে, নাড়ি দেখে ওষুধ দিলে, বলে গেল তোমার কোনও ভয় নেই, তিন দিনের মধ্যে তুমি সেরে উঠবে।” স্ত্রীনিবাস উৎসাহের সহিত বলিলেন—“তবে আদালতে নালিস করে ডাক্তারকে সাক্ষী মানব। কাণ ধরে ভূধর চাটয্যের কাছ থেকে গহনা আদায় করে নেব না ।” বন্ধ বলিলেন—“সে দফাও রফা রে, সে দফাও রফা। ডাক্তারের কাছে কি যাইনি, ডাক্তারের কাছেও গিয়েছিলাম। ডাক্কার বললে গহনার কথা সে কিছুই জানে না। কেবল আমায়, সান্ত্বনা করবার জন্যে মিছে করে বলেছিল। আদালতে নালিস করলে আর কি হবে, ডাক্তার ঐ কথা বলে বসবে৷” "তার পরে ভূধর চাটয্যে নিজেই বলেছে।” “স্বীকার করলে নিয়েছে, অথচ দিলে না ? বাঃ—বেশ লোক ত! তবে তার স্বীকার করবার উদ্দেশ্যটা কি ? অস্বীকার করাই ত তার পক্ষে সবিধে ছিল।” “উদ্দেশ্য আছে রে, উদ্দেশ্য আছে। বলে, তোমার ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দাও । তা হলে ঐ গহনাগুলি সব পাবে। আমি গরীব, আমার মেয়ের বিয়ে হয় না । তোমার গহনা তোমার ঘরেই যাবে; পরস্কারের সবরপে আমাকে কন্যাদায় থেকে উদ্ধার করবে ।” কথাটা শনিয়া শ্ৰীনিবাস বলিলেন—“তবেই ত দেখছি গোলযোগ।”—বলিয়া অভ্যাসবশতঃ গলফপ্রান্ত দন্তে দংশন করিতে প্রবৃত্ত হইলেন। সীতানাথের কনিষ্ঠ পত্রের নাম শ্রীমান অন্নদাচরণ। তিনি এল, এ, ফেল করা নব্যযবেক। মেজাজটা নিতান্তই সাহেবী ধরণের। প্রাতে ও সন্ধ্যায় বিস্কুট সহযোগে । নিয়মিতরাপে চা পান করিয়া থাকেন। গ্রামের বালকদিগের মধ্যে বিদ্বান বলিয়া তাঁহার যথেষ্ট খ্যাতি আছে। চেহারাটি দিব্য-রবীন্দ্রীয় কেশদাম তাঁহার কমনীয় মুখসৌন্দয্য । বহুগণ বন্ধিত করিয়াছিল। সত্ৰীবিয়োগের পর তিনি বিস্তর কবিত্ব প্রকাশ করিয়া, "ভগ্নহৃদয়ের মহাশোকাশ্র" নামধেয় একখানি চাঁট কবিতা পান্তক প্রণয়ন ও প্রকাশ করিয়াছেন। যতবার বিবাহের প্রস্তাব আসিয়াছে, অবজ্ঞাভরে প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন । বন্ধসমাজে পত্নীবৎসল বলিয়া তাঁহার সমানের আর সীমা নাই। তাঁহাকে এ বিবাহে রাজি করা যাইবে, এমন কোনও আশা ছিল না, তাই শ্রীনিবাস বলিয়াছিলেন—“তবেই ত দেখছি গোলযোগ।” - বন্ধ বলিলেন—“দেখ চেষ্টা করে, বলে কয়ে দেখ, নইলে এ বড়ো বয়সে অতগুলি টাকার গহনার শোক আমি সহ্য করতে পারব না, আমি মারা যাব। ওকে বোলো বিবাহ , লা করলে পিতৃহত্যার পাপ ওকে লাগবে।” অন্নদার চারিটি দাদা মালদাকে পাকড়াও করিয়া আনিয়া তাহাকে ঘিরিয়া বসিলেন । সমস্ত দিন ধরিয়া কত রক্ষণে তাহাকে বুঝাইলেন; কত মিনতি করিলেন, তক করিলেন 2مجة