পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গহিণী বামীর মাখের পানে চাহিলেন। অতুলবাব বুলিলেন-“প্রকাশ তোমাব কথায় আমাদের সম্পণে বিশ্বাস হয়েছে--অন্ততঃ আমার ত হয়েছে। তোমার প্রতি যা সন্দেহ করা হয়েছিল, তার জন্যে আমরা বিশেষ লজিত। তব আমি বলি, তুমি সে খাতাখানি এনে, সংশয়ের শেষ রেখা কার্য মনে যদি থাকে, মিটিয়ে দাও।” গহিণী বলিলেন—“আমারও মনে আর কোনও সংশয় নেই। খাতা এনে খেনো আমার জন্যে সম্পণ অনাবশ্যক। তবে যদি তুমি ইচ্ছে কর, এনে সপ্রভাকে দেখাতে পার। “বেশ, আমি চললাম”—বলিয়া প্রকাশ নিকান্ত হইল। অন্ধ ঘণ্টা পরে প্রকাশের গাড়ী ফিরিল। প্রকাশ খাতাখানি হাতে করিয়া দই তিনটা করিয়া সিড়ি ডিঙাইয়া উপরে উঠিতে লাগিল। ড্রয়িং রমে আসিয়া দেখিল, তাহা জনশন্য। বাহিরের অন্ধকারে খোলা বারান্দার কোণে কে যেন রহিয়াছে। প্রকাশ বাহিরে গিয়া দাঁড়াইল। কাহার চল হইতে যেন একটা সৌরভ ভাসিয়া আসিতেছে, রেশমি কাপড়ের খস খস শব্দও যেন শনা গেল। আরও কাছে সরিয়া গিয়া প্রকাশ চিনিতে পারল-সপ্রভা, তাহার কোলে বিমি। আরও কাছে গিয়া প্রকাশ ডাকিল—“সপ্রেভা ।” মদসবরে উত্তর হইল—“কেন ?" “খাতা এনেছি। এই দেখ।” সপ্রভা খাতাখানি লইয়া ছড়িয়া নীচে ফেলিয়া দিল। প্রকাশ ক্ষোভে ও অভিমানে বলিল—“খাতা দেখতে চাও না ? সন্দেহ মেটাতে চাও না ? এই তোমার বিচার ?” সপ্রভা তখন বিমিকে নামাইয়া দিয়া, প্রকাশের কাঠালিংগন করিয়া তাহার বক্ষে মখে লকাইল। [ আশিবন, ১৩১৮ ] বাল্যবন্ধ প্রথম পরিচ্ছেদ পৌষ মাস। ঠিক সন্ধ্যার সময় এক ব্যক্তি কালীঘাটের ট্রাম হইতে ভবানীপর থানার সমখে নামিয়া পড়িল। তাহার মাথায় আলবার্ট টেরি, গায়ে একজোড়া বাদামী রঙের শাল, পায়ে ফলমোজার উপর পম্প-স হাতে একগাছি রাপা-বাঁধানো বেতের ছড়ি। বয়স ত্রিশ্নের কাছাকাছি হইবে। তাহার পর প্রায় দশ মিনিট কাল পদচালনা করিয়া লোকটি প্রাসাদোপম এক বৃহৎ বাসভবনের বহিবারে আসিয়া উপস্থিত হইল। বারবানকে জিজ্ঞাসা করিল, “বাব: হায় ?” বারবান তাহার সেই সপেস্ট গোফ জোড়াটিতে অঙ্গলি-চালনা করিতে করিতে বাবটির পানে অন্ধ মিনিটকাল চাহিয়া থাকিয়া বলিল—“নেহি হাঁয়।” লোকটি বলিল, “বাব কাঁহা গিয়া ?” দবারবান কথাটা কাণে তুলিল না—পাবেীপবিচট খানসামার সহিত গল্প করিতে লাগিল। বড়লোকের বাড়ীতে যাহারা মোটর-কার বা জড়ি-গাড়ী বা অন্ততঃ নিজস্ব কম্পাস-গাড়ীতে চড়িয়া উপস্থিত হয়, তাহাদের দেখিয়া দবারবানেরা দাঁড়াইয়া উঠে, সেলাম করে —যাহারা ঠিকা-গাড়ীতে যায়, তাহাদেরও কতকটা খাতির করে, কিন্তু যাহারা পায়ে হাঁটিয়া যায়, তাহাদিগকে মানুষ বলিয়া গণ্যই করে না। লোকটি কিয়ৎক্ষণ অপেক্ষা কবিয়া ধলিল, “এ দারোয়ানজি, বাব কাঁহা 2" বাবটির বিনয় দেখিয়া বারবানের অনুগ্রহ হইল। বলিল—“বাব ময়দানমে হাওয়া থানেকো গয়ে হাঁয়। কাহে, কুছ কাম হায় ?” - SSS