পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“হাঁ—বহৎ জরুরি কম হয়।” “আপ কোন হাঁয় প" | “বাব হামকে পড়ান্তে হে’ ” “বৈঠিয়েগা : আইয়ে।” -বলিয়া বারবান গজেন্দ্রগমনে অগ্রসর হইয়া বাবটিকে ভিতরে লইয়া গেল। বাগান পার হইয়া বহিববাটীর প্রশস্ত বারান্দা। সে বারান্দার একদিকে একটি কক্ষ, অপর প্রান্তে বিতলে উঠিবার সোপানাবলী। কক্ষ হইতে একখানি চেয়ার বাহির করিয়া বাবটিকে বাববান সেই বারন্দায় বসাইল । বাব জিজ্ঞাসা করিল—“বাবকে আনেমে দের হোগা ?” “নেহি—তাব জলদি আওয়েঙ্গে”—বলিয়া বারবান সরকাযে গেল। প্রায় কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করিবার পর গহস্বামী সান্ধ্যভ্রমণ করিয়া ফিরিলেন। আগন্তুক তাঁহাকে দেখিয়া দাঁড়াইয়া উঠিল। গহসবামী বলিলেন—“কে ?” ক্ষীণস্বরে উত্তর হইল—“আমি।” আলোক আগন্তুকের পশ্চাতে ছিল। গহসবমা সেই প্রায়ান্ধকারে তাহাব পানে নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। আগন্তুক তখন বলিল—“বিপিনদা, চিনতে পারলে না ?” বিপিনবাব বলিয়া উঠিলেন—“নলিনী —তাই বল! এস এস। কখন এলে ?” “এই কতকক্ষণ ।” "চল, উপরে চল।”—বলিয়া নলিনীর হাতটি ধরিয়া তিনি উপরে লইয়া গেলেন। একটি বিদ্যুৎ-আলোকিত সমসজিত কক্ষে গিয়া উভয়ে উপবেশন করিলেন। ভূত্য আসিয়া বিপিনবাবরে বট খালিয়া চটিজতা পরাইল, অলটার খলিয়া লইয়া আলোয়ান গায়ে জড়াইয়া দিল, শালের পাগড়ি মস্তক হইতে স্থানান্তরিত করিল। “তারপর নলিন—খবর কি বল। কতদিন যে এদিকে আসনি, মনেই পড়ে না। শেষবার যা এসেছিলে আমার বোধ হয়, দ বছর কি তিন বছর হবে। কালীঘাটের ফেরতা রউমাকে খকেণীকে নিয়ে একদিন এসেছিলে, মনে পড়ে ? খকেী কেমন আছে ?” “ভাল আছে। তারপর একটি ছেলেও হয়েছে।” "বটে—বেশ বেশ। কতদিনের হল ? “দ বছরের হয়েছে।" দেখ !—এ খবরটা পৰ্য্যন্ত আমায় দাওনি ! অথচ একসময় ছিল, যখন তোমার আমায় প্রতিদিন অন্ততঃ একটিরার করে দেখা না হলে দিনটে অন্ধকার মনে হত। এই বাড়ীর প্রত্যেক ঘর, বাগান, আস্তাবল পৰ্য্যন্ত ছেলেবেলায় দুজনে তোলপাড় করে বেড়িয়েছি। ওঃ—কি দস্টেই ছিলাম আমরা”—বলিয়া বিপিনবাব হা হা করিয়া হাসিতে প্লাগিলেন । - নলিনী সে হাসিতে যোগ দিবার চেষ্টা করিয়া বলিল—“আর, আজ তোমায় দারোয়ানটা ."ললে, বাব আপ কোন হায় ?” “ওর কি অপরাধ বল! তোমার যেমন ঘন ঘন যাতায়াত ! ও বেচারী এক বছর বাহাল হয়েছে বইত নয়। সে কথা যাক । বউমা ভাল আছেন ত ? একট চা খাবে?”— বলিয়া বিপিনবাব ভূর্ত্যকে ডাকিয়া দই পেয়ালা চা আনিতে আদেশ করিলেন। চা পান করিতে করিতে বিপিনবাব বলিলেন, “এখনও সে সকল পরো দমে চলছে নাকি ?”. নলিনী লক্ষজায় মস্তক অবনত করিল। বিপিনবাবু গভীরভাবে বলিলেন, “দেখ নলিনী, ও সবগলো ছাড়। বয়স হল-- এখন আর নব্য ছোকরাটি নও। ছেলেপিলের বাপ হয়েছ। যা করেছ তা করেছ—তার কেন ? একেবারে না ছাড়তে পাের—ক্রমে পরিমাণে কমাও । কমাতে কমাতে শেষে একধারে ধsধ করে দিও ” নলিনী আকুল নয়নে বলিল, “দেখ বিপিনদা, কি অসাধ আমি ছাড়ি? কিন্তু . Y -