পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পেরে উঠিনে যে ! প্রতিবৎসর তিনবার করে—একবার ইংরাজি নববৰে, একবার বাগলা নববর্ষে, একবার নিজের জন্মদিনে—প্রতিজ্ঞা করি আর মদ পশ করব না। কিছুদিন Eল থাকি-ও। তারপর থে-কে সেই "—বলিয়া নলিনী আবার মুস্তক আনমিত করিল। কিয়ৎক্ষণ উভয়ে নিস্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিলেন। শেষে বিপিনবাব বলিলেন, “দেখ তুমি যদি ছাড়তে চাও, তা হলে, শধ মদ ছাড়ব প্রতিজ্ঞা করিলেই হবে না। দলটি পর্যন্ত ছাড়তে হবে। সেই দলে মিখবে—অথচ প্রতিজ্ঞাটি বজায় থাকবে—এ অসাধ্য—অসম্ভব । দুলটি ছাড় ।” معا is "তাই ছাড়ব । এক সপ্তাহ ওদিকে মোটে যাইনি ; আমি আজ এক সপ্তাহ মদ খাইনি --ত জান বিপিনদা ? এবারে সত্যি সীতা ছাড়তে পারলাম, কিংবা অন্য অন্য বার যেমন হয়েছে, এবারও তেমন হবে—এখনও বলতে পারিনে। নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছি। নিজেকে বেধে রেখেছি বলে অসহ্য যাতনা ভোগ করছি । দিনে রাতে পনের ষোলবার চা ধাই। এই তুমি চা দিলে, থেয়ে একটু সন্থবোধ করছি। এবার মদ না ছেড়ে হামার উপায় নেই-এবার ভরাডুবি হতে বসেছি—তা জান ?” বিপিনবাব বলিলেন, “না-কি হয়েছে ?” &. “বাড়ী তিনখানা কয়েক বছর থেকে মহাজনের কাছে বাঁধা পড়ে আছে। তারা নোটিস সুদয়েছে, এক মাসের মধ্যে যদি টাকা পরিশোধ না করি তা হলে তারা ফোরক্লোঞ্জ করবে।” "বিশ হাজারের উপর তা ?—বল কি -এই ক-বছরে এই কাণ্ডাঁট করে বসেছ ?” নলিনী নিমন্তব্ধ হইরা রহিল। কিয়ৎক্ষণ পরে বলিল, “আর এক পেয়ালা চা আনাও ভাই—বেশ কড়া করে ।” বিপিনবাব ভূত্যকে ডাকিয়া চা আদেশ করিয়া বলিলেন, “এখন উপায় ?” নলিনী কম্পিত সত্বরে বলিল, “ভাই, উপায় তুমি। তাই আমি আজ তোমার কাছে এসেছি । তিন বছর এদিকের রাতা মাড়াইনি--আজ এসেছি। তুমি ত ছেলেবেলা থেকে আমার শত অপরাধ ক্ষমা করেছ, আমার দোষ নিও না। তুমি আমায় টাকাটা ধার দাও, আমি বাড়ীগুলো উদ্ধার করি। নইলে আমার সবই গেল। ছেলেপিলে নিয়ে গাছতলায় দাঁড়াতে হবে।”—বলিয়া নলিনী মুখে নত করিল। তাহার দুই চক্ষ দিয়া টস টস করিয়া জল পড়িতে লাগিল। বিপিনবাব অন্যদিকে মুখ ফিরাইলেন। চা আসিল। পান করিতে করিতে নলিনী তাহার বাল্যবন্ধর পানে চাহিয়া তাঁহার মনের গতি বঝিতে চেষ্টা করিতে লাগিল। বিপিনধাব যেন একট অনামলক। চা পান শেষ করিয়া নলিনী বলিল, “বিপিনদা, কি বল ? আমি শধ্যে হাতে টাকা চাচ্ছিনে। তুমিই বাড়ীগুলো বন্ধক রাখ-রেখে টাকা দাও ”—বলিয়া সে বিপিনকার বিপিনবাব ফিরিয়া, ধীরে ধীরে বললেন, “একটা গত্ত কেটে অন্য গন্তু বাজিয়ে কি লাভ ? তার চেয়ে বরং একখানা ভাড়াটে বাড়ী বিস্ত্রী করে ফেলনা কেন ?” “তাতে কুলোবে না বিপিনদা। ভাড়াটে দখানা বাড়ীই যদি বিক্ৰী করা যায় তা হলে হতে পারে বটে—বরং হাজার পাঁচেক টাকা উদ্বত্তও থাকে। কিন্তু তার পর ? বাড়ী দখোনার ভাড়া থেকে, ধর, আমার সংসার খরচটা চলে যায়। আমি ত প্রতিজ্ঞা করেছি, L BBBB BBBB BBBB BBBB BBB BBBB BBBS BB BB B BBBB BBB যেমন করে হোক মাসে হাজার দেড় হাজার টাকা রোজগার করেছেন। তিনি যে সব হোসের সঙ্গে কাজ করতেন, আমি সে সব হোঁসের সাহেবদের সঙ্গে এ কাঁদনে দেখাও করেছি। বাবার নাম শনে, তাঁরা সকলেই আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তব অনিশ্চিতের উপর নিভর করাটা ঠিক নয়। মনে কর, আমি যদি দুদিন পরে মরেই যাই, আমার ছেলেপিলে খাবে কি ? বাড়ী দাখানা যতদিন আছে, ততদিন মোটা ভাত মোটা কাপড়ের জন্যে లి -