পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাগ করিলেন,–কিন্তু কিছতেই অন্নদার মন টলিল না। - - অন্নদার অন্তরঙ্গ বন্ধুবান্ধবগণকে খোসামোদ করিয়া তাহাদের দ্বারায় অনুরোধ চলিতে লাগিল। পনবার দারগ্রহণের বিরুদ্ধে অন্নদা যত প্রকার যুক্তির অবতারণা করিল, তাহার বনধরা সেগুলি, যখন যেরপে সুবিধা হইল, সতক বা কুতকের সাহায্যে একে একে খণ্ডন করিল। কায্যের কথা ছাড়িয়া যখন ভাবের কথা আসিয়া পুড়িল, তখন তাহারা বিজয়ীর মত অবজ্ঞাহাস্য করিয়া চতুদিক হইতে শোকবিহবল মতপত্নীকের দ্বিতীয় দারগ্রহণের অজস্র উদাহরণ আনিয়া তপেীকৃত করিল। “দেখ, অমুক সত্ৰীবিয়োগের পর সন্ন্যাসী হইয়া গহত্যাগ করিয়া গেল, বনে জঙ্গলে পাহাড়ে পাহাড়ে লোটা কমবল কাঁধে করিয়া ঘরিয়া বেড়াইল, কিন্তু এক বৎসর যাইতে না যাইতে ফিরিয়া আসিয়া নিজে মেয়ে দেখিয়া বিবাহ করিল।—দেখ, অমুক সন্ত্রীবিয়োগের পর এক জন যশস্বী কবি হইয়া পড়িল, বঙ্কিমবাব হইতে আরম্ভ করিয়া দেশসন্ধ সকলেই সমস্বরে বলিল, বাংগালা ভাষায় একখানা কাব্য জমিয়াছে বটে, কিন্তু সে-ই আবার একটা আধটা নয়, দই দইটা বিবাহ করল!”—ইত্যাদি প্রকারের যুক্তিক-সমরে অন্নদা শেষে, পরাজয় বীকার করিল বটে, এ দিকে আর সময় নাই। ভূধর চট্টোপাধ্যায় দশদিন মাত্র সময় দিয়াছিল। ২০শে শ্রাবণ বিবাহের শেষ দিন। তাহার তিন দিন কাটিয়াছে, সপ্তাহ মাত্র বাকী । - ছেলে যখন কিছতেই রাজি হইল না, তখন বাপ বলিল, “তবে আমিই বিবাহ করব। দ-দহাজার টাকার গহনা আমি কোন মতেই হাতছাড়া করিতে পারিব মা; ইহাতে আমার কপালে যাহাই থাকক।” - - . .. • এই সংবাদ গ্রামে রাষ্ট্ৰ হইবামাত্র একটা মহা হাসি টিটুকারি পড়িয়া গেল। লোকে । বলিল, গহনা হারান, নৌকা উলটান সব ছল মাত্র। সন্দেরী যাবতী মেয়েটিকে দেখিয়া হারাইয়াছে বড়ার মন, আর উলটাইয়াছে বড়ার বধিসদ্ধি। কেহ বলিল, বড়াকে চেনা ভার, দধটকু মরিয়া ক্ষীরটকু হইয়াছে। কেহ বলিল, দীনবন্ধ মিত্রের একখানা "বিয়ে পাগলা বড়ো” নাটক কিনিয়া উহাকে প্রেজেণ্ট কর! কেহ বলিল, বড়ার প্রাণের ভিতরটা যে এমন করিয়া হামাগড়ি দিতেছে তাহা ত আমরা জানিতাম না! একজন গান বাঁধিতে জানিত, সে বহলোকের অনুরোধে এই উপলক্ষে একটা মজাদার গান বধিয়া দিল । যাহারা সমাজের বিজ্ঞ লোক বলিয়া খ্যাত, তাঁহাদের দই একজন আসিয়া সীতানাথকে বলিলেন, “মািখয্যে মশাই আপনি ত বিবাহ করতে যাচ্ছেন, তাবা যদি আপনাকে মেয়ে না দেয় ? - আপনি কিঞ্চিৎ বয়সপ্রাপ্ত হয়েছেন কিনা, হঠাৎ মেয়ে দিতে সক্ষমত নাও হতে পারে।” a- - সীতানাথ বলিলেন—“ও পাজি যে বিবাহ করবে না তা আমি আগে থেকেই জানতাম। ছেলে যদি বিবাহ না করে, তবে আমি বিবাহ করলেও অলঙ্কার দেখে বলেছে। পেল্লায় মেয়ে এত বড়, অর্থাভাবে আজও বিবাহ হয়নি, তাদের আর জাত থাকে না যাবো বড়ো বিচার করলে তাদের কি করে চলবে ?" পাড়ার লোকের গ্রামের লোকের যতই আমোদ হউক, বাড়ীর লোকের মাথায় এ কথা শনিয়া যেন বজ্রাঘাত হইল। চাাঁর ছেলে চারি বধ ভাবিয়া ব্যাকুল হইয়া উঠিল। তাহারা স্বতঃ পরতঃ নানা উপায়ে নানা প্রকারে বড়াকে বঝাইতে লাগিল । সীতানাথ বললেন—“দেখ, আমার বিবাহ করবার কিছমাত্র প্রয়োজন নেই। তোমর অন্নদাকে রাজি কর, আমি ছেলের বিবাহ দিয়ে সোণার চাঁদ বউ ঘরে অনি।" . অন্নদা বেচার কিয়ং পরিমাণে রেহাই পাইয়াছিল, এই কথার পর বিগণ উৎসাহের গাঁহত আবার তাহার উপর উৎপীড়ন আরম্ভ হইল। শেষে অন্নদা চোখ মুখ লাল করিয়া রাগিয়া বলিল—“তোমরা যদি আম.ক এমন করে দিক করবে, তবে আমি বিবাগী হয়ে এক দিক পানে চলে যাব।” বড় বধ, রাগিয়া বলিলেন—“ঢ়ের দেখেছি ঢের দেখেছি ঠাকাপো এই বয়সে কত দেখলাম বাঁচি ত আরও কত দেখবো। এখন এ রকম করছ, at . Woo -