পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রতিজ্ঞাভঙ্গ হইবে না। বৎসর পণে হইবার পবেই বিয়ারের পালা শেষ হইল, প্যাকিং কেসে গহ ভরিয়া উঠিল; খালি বোতল বিক্রয় করিয়া বাটীর ভূত্য যাহা জমাইয়াছিল, তাহা দিয়া সে সীর জন্য একজোড়া সোণার শাঁখা গড়াইয়া লইল। এ এক বৎসরে দালালী ব্যবসায়ে নলিনী কিছ কিছু উপাজন করিয়াছিল বটে—কিন্তু ঋণের একটি পয়সাও পরিশোধ হয় নাই। - পরবৎসরে নলিনীর দালালী ব্যবসায় গলায় পাথরবাঁধা অসহায় বিড়াল শাবকের মত, “আসল” মদ্যের পাথারে ডুবিয়া প্রাণ হারাইল। সে বৎসর শেষে, ব্যবসায়ের মলধনের আর একটি পয়সাও অবশিস্ট রহিল না। - ইহার পর নলিনী কয়েকমাস অথর্ণভাবে “বিদেশী-বজান" করিল। বলিতে লাগিল, বিলাতী অপেক্ষা কাস্ট্রি অনেক ভাল, লিভার খারাপ করে না। কিন্তু স্বদেশীরতে সমান নিষ্ঠা চিরদিন কাহারও থাকে না। সময়ে বিলাতী এবং অসময়ে দেশী চলিতে লাগিল। বাড়াঁ দইখানির ভাড়া হইতে যাহা আসে সংসার খরচ নিবাহের পর আর বড় কিছর থাকে না। সুতরাং মদ্য ও তাহার আনসঙ্গিক ব্যাপারগুলির ব্যয়নিবাহাথ ক্ৰমে নলিনী তাহার আংটী, ঘড়ি-চেন, শাল-জমিয়ার, এমন কি ছড়ি-ছাতার বটি হইতে রপা, খলিয়া বিক্রয় করিতে লাগিল। ক্ৰমে আলমারি, টেবিল, ভাল ভাল ল্যাম্প প্রভৃতিও গেল। এইরপে তৃতীয় বর্ষ শেষ হইল—ঋণ ও তাহার সদে গোকুলে বাড়িতে লাগিল। চতুৰ্থ বৎসরের প্রারম্ভে, স্মীর অলঙ্কারগুলির প্রতি নলিনীর দটি পড়িল। অসহাঘা অবলা আপত্তি করিতে গিয়া মার খাইয়া, চোখের জলে মাটি ভিজাইয়া, একে একে সবগুলি বাহির করিয়া দিতে লাগিল। এইরপে পঞ্চবষ পণ হইল। আজ দই সপ্তাহকাল নলিনী মদ্যপান করে নাই—ঙ্গীর মস্তকে হস্ত রাখিয়া দিব্য করিয়াছে আর জীবনে কখনও করিবে না। মাসের প্রথমে বাড়ীভাড়ীর টাকা আদায় করিয়া মাসের উপযোগী চাউল প্রভৃতি কিনিয়া রাখিত—তাই গত রাত্রেও আহার জটিয়ছে। কিন্তু আজ আর চাউল না আসিলে হাঁড়ি চড়িবে না। গিজার ঘড়িতে ঠং ঠং করিয়া এগারোটা বাজিল। ঝি--এটি পৈত্রিক আমলের পরাতন ঝি, তাই আজিও পলায় নাই—আসিয়া বলিল—“বউমা, কয়লা ধরাব ঝি ? বাব ত এখনও এলেন না " হেমাঙ্গিনী বলিল, “ধয়াও শ্বে ততক্ষণ।" "হ্যাঁ গা, বাব এত দেরী করছেন কেন ? আমি ত বাছা ভাল বঝেছিনে। মলুগা কি কলটোলা দলকোশ দশকোশ নয়—সেই প্রাতঃকালে বেরিয়েছেন, এখনও দেখা নেই। হাতে নগদ টাকা পেয়ে আবার জগন্নাথ শার দোকানে ঢুকলেন নাকি ? তা হলে এখন আর বাড়ী আসছেন না—সেই যার নাম তিনটে " হেমাঙ্গিনীর মনেও এ আশঙ্কা গোপনে জাগিতেছিল—কিন্তু সে মৌখিক বলিল— “মা না, তা যান নি। তিনি এলে তবে খোকা বেদানার রস খাবে, সে কি তিনি জানেন না ?” “খোকা এখন কেমন আছে বউমা ?” "এখন আর গা গরম নেই—মেনুচ্ছে।” "তবে আমি কয়লায় আগন দিয়ে এসে খোকাকে নিই—তুমি তারপর চান করে ফেলে—” খি বলিতে যাইতেছিল, একটা মখে জল দিও,-কিন্তু তাহার স্মরণ হইল ঘরে কিছ: মাই—তাই সে থামিয়া গেল। যত বেলা হইতে লাগিল-হেমাঙ্গিনীর আশংকাও তত বাড়িয়া উঠিল। আক্তে আস্তে খোলাকে তত্ত্বপোষে শোয়াইয়া দিয়া সে স্বয়ং জানালার কাছে গিয়া দাঁড়াইল । অধিকক্ষণ অপেক্ষা করিতে হইল না। দেখিল, টলিতে টলিতে নলিনী আসিতেছে। ৰক্ত রিপ্ত—পশ্চাতে কোনও ঝাঁকামটে নাই। আলোয়ানখানা গায়ে দিয়া প্রভাতে বহির” জীয়াছিল, তাহাও গায়ে নাই। pनाथब्रा दशभञिानौब्र भाथा विभ किय ಕೌಸ್ಥೇಗೆ”! সে পড়িয়া যাইবার ভুয়ে