পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এখন ভবানীপরের বিপিনবাবরে সম্পত্তি, অদ্য হইতে সপ্তাহ পরে যেন বাড়ী সে খালি করিয়া দেয়। সে রায় এই অভাগ্য দপতাঁর যে কি ভাবে কাটিল, তাহার বণনা নিম্প্রয়োজন। পরদিন প্রভাতে হেমাংগনী স্বামীকে বলিল-“দেখ, একবার ভবানীপুরে গিয়ে বিপিনবাবরে সঙ্গে দেখা করলে হয় না ?" নলিনী বলিল—“কি ফল হবে ?” “দেখ, তিনি তোমার ছেলেবেলাকার বন্ধ। তাঁর কাছে পচিশ হাজার টাকা ধার করেছ বলেই যে তিনি এমন করে আমাদের সববনাশ করবেন এ ত সহজে বিশ্ববাস হয় না। আমার বোধ হয়, তোমায় ভয় দেখাবার জন্যে তিনি এমন করেছেন। তুমি গিয়ে একট বললে-কইলেই বোধ হয় সময় আর কিছু বাড়িয়ে দিতে পারেন।” নলিনী ওঠযগেল বক্র করিয়া বিদ্রপের স্বরে বলিল—“হ:–ছেলেবেল্লাকার বন্ধ। তারা হল বিষয়ী লোক,—টাকাই তাদের ধ্যান টাকাই তাদের দেবতা। ছেলেবেলার বন্ধ । যখন পাঁচ বছর আগে তার কাছে ঢাকা ধার করতে গিয়েছিলাম, তখনই সে বন্ধত্বের পরিচয় পেয়েছি। টাকা দেবার নাম শনলেই যেন ঘণীরোগ ধরল, ছটফট করতে লাগল। শেষে যখন কটকবালার কথা বললাম তখন সে স্থির হল। তুমিও যেমন, বিষয় লোকের আবার বন্ধত্ব !" হেমাঙ্গিনী অচিল খুটিতে খাটিতে কিয়ৎক্ষণ চিন্তা করিয়া শেষে সলিল—“লোকে বলে--ছেলেবেলার ভালবাসাই ভালবাসা। তুমি হয়ত তাঁর প্রতি অবিচার করছ।” “হ্যাঁঃ-ভালবাসা !—ছিল ধটে এককালে ভালবাসা। সে ভালবাসা টাকার ব্যতার চাপে ব্ৰাহি ডাক ছেড়ে অনেক দিন মরে গেছে।” হেমাঙ্গিনী নীরবে বসিয়া রহিল। ক্রমে তাহার চক্ষযগল সজল হইয়া উঠিল। ইহা লক্ষা করিয়া নলিনী ব্যথিত হইল। বলিল—”আচ্ছা, তুমি যখন বলছ, তখন যাই, গিয়ে একবার বলে কয়ে দেখি। সময় বাড়িয়ে নেওয়া মিছে। কোথা পাব আমি টাকা যে একবছর কি দুবছর পরে শোধ করব ? দেখি যদি ভাড়াটে বাড়ী দুখানি নিয়েই সে সন্তুষ্ট হয়—এ ধাড়াঁখানি আমায় ছেড়ে দেয়।”—বলিয়া নলিনী যাইতে প্রস্তুত হইল। হেমাঙ্গিনী বলিল--"একট, জল মাখে দিয়ে যাও—কাল রাত্তির থেকে কিছর খাওনি।” —বলিয়া দুইটি সন্দেশ আর এক গেলাস জল আনিয়া দিল। বাক্স খুলিয়া ট্রামের পয়সা বাহির করিতেছিল। নলিনী জিজ্ঞাসা করিল—“আর কত আছে ?” “স-তিন টাকা।" “থাক—গ্রামের পয়সা কাজ মেই—ঠান্ডায় ঠাণ্ডায় হে’টে যাব এখন।" হেমাঙ্গিনী একটি দীঘনিশ্বাস ফেলিয়া বাক্স বন্ধ করিল। নলিনী যখন পদব্রজে ভবানীপরে বিপিনবাবরে ফটকের সম্মুখে উপস্থিত হইল, তখন নয়ট বাজিয়া গিয়াছে। দ্বারবানের নিকট শনিল, বাব বাড়ীতেই আছেন। অনেক সাধ্যসাধনার পর দারোয়ানজি নলিনীর আগমনসংবাদটা জানাইতে স্বীকৃত হইল। ক্রমে नलिनौन्न छाक अफ़िल। বিপিনবাব তখন নীচের তলার বরেন্দার প্রাস্তবতী কক্ষখানিতে, টেবিলের সম্মখে বসিয়া সংবাদপত্র পাঠ করিতেছিলেন। পাবে আধ পেয়ালা ঠাণ্ডা চা পড়িয়াছিল— পেয়ালার কানায় দই তিনটা মাছিঘরিয়া বেড়াইতেছিল। নলিনীকে প্রবেশ করিতে শনিয়াও প্রথমটা বিপিনবাব সংবাদপত্র হইতে চক্ষ উঠাইলেন না। একট অপেক্ষা করিয়া নলিনী বলিল—“বিপিনদা।" - বিপিনবাব তখন চক্ষ তুলিলেন। দেখিলেন, নলিনীর বেশে আর সেপবেকার পারিপাট্য নাই। চলগলো উড়িতেছে। তিন দিন না কামাইয়া দাড়ীগলা খোঁচা খোঁচা হইয়া উঠিয়াছে। গায়ে একটা বৰ্ণবিকৃত কোট, তাহার উপর একখানা পরাতন বালাপোষ। মুখ শাক, চক্ষ দুইটা বসিয়া গিয়াছে, অঙ্গে সে লাবণ্য নাই। S SS