পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বঝিতে পারছিনে, তাও নয়। পৈত্রিক ভিটাতে কবল মুড়ি দিয়ে শয়ে অনশনে প্রাণত্যাগ, ওসব নাটকে নভেলি কথা ছেড়ে দাও । এখন পত্নীপুরষের ভরণপোষণের জনে তোমায় জীবিকার সন্ধানে বেরতে হবে। মনে নেই ? ছেলেবেলা ইসকুলে আমরা পড়তাম —উদ্যোগিনাং পরষসিংহমুপৈতি, লক্ষীঃ—উদ্যোগ' পর্যসিংহ লক্ষয়ীকে প্রাপ্ত হয়। না খেতে পেয়ে মরে যাব, আমার ছেলেমেয়ে মরে যাবে, এসব কি কথা ? তুমি পর্ষমানয—এ কি পরষের কথা ? এ স্ত্রীলোকের কাঁদনি। মনকে দঢ় কর-কোমর বোধে দাঁড়াও। এই কলকাতা সহরে দশলক্ষ লোকের আহার জটছে—তোমার জন্টবে না ? উদ্যোগী হও—কখনই তোমার দী পরকে অনাহারে মরতে হবে না।” এই পৰ্য্যন্ত বলিয়া বিপিনসাব অন্ধমিনিট কাল নীরব হইলেন। তাহার পর সম্বর নামাইয়া বলিলেন—“এ অবস্থায় নতন বাড়ী খঙে সেখানে গিয়ে বসা, মাসে মাসে তার ডাড়া যোগানো—তোমার পক্ষে ভারি অসুবিধাজনক হবে। আমি তোমার কাছে একটা প্রস্তাব করছি। তোমার বসতবাড়ীখানি আমি এক বৎসরের জন্যে তোমায় ছেড়ে দিচ্ছি। তুমি যদি চেণ্টা কর, আমার বিশ্বাস এই এক বছরের মধ্যে তুমি নিজের অবস্থার অন্ততঃ এটকে উন্নতি করে নিতে পারবে, যাতে বাড়ীভাড়া দিয়ে এই কলকাতা সহরে সপরিবরে গরীব গহঙ্গের মত বাস করতে পার। আজ তারিখ থেকে একবৎসর পর্যন্ত তুমি ও বাড়ীতে বাস কর।” - কথা শেষ হইবামা নলিনী উঠিয়া দাঁড়াইল। বাংগাবরে বলিল--"বাল্যবন্ধ ধন্যবাদ । এই অসাধারণ দয়ার জন্যে ধন্যবাদ! পাদ্রীসাহেব, এই অযাচিত উপদেশের জন্য ধন্যবাদ । -दशिझा नलिनौ छाउ दर्शाश्ङ्ग शहैन्ना शाळ। कडू५**ाबद्दछ्न्न কক্ষের বাহির হইয়া বারা দায় নলিনী ঘড়ি দেখিল, বেলা তখন পেলে দশটা। ফটকেঃ বাহির হইয়া হরিশ মাখয্যের স্ট্রীট ধরিয়া দ্বতপদে উত্তরমুখে চলিতে লাগিল। কমে যখন সে ময়দানে আসিয়া পেশছিল তখন তাহাব ললাট ঘৰ্ম্মসিদ্ধ-ক্লান্ত হইয়া পড়িয়ছে। ঝর করে করিয়া মিঠা হাওয়া বাঁহতেছিল। একটা বহৎ বটবক্ষের ছায়ায় নলিনী বিশ্রামাথ দাঁড়াইল । 4. অদরে চৌরঙ্গির অগণ্য সৌধশ্রেণী। ঘণ্টা বাঞ্জাইয়া ছ হা করিয়া অফিসষণীেবোঝাই ট্রামগাড়ী ছটিতেছে। কমকোলাহলের অন্ত নাই। নলিনী দাঁড়াইয়া উদাসনেতে তাহাই দেখিতে লাগিল, আর ভাবিতে লাগিল, এত লোক কমপথানে যাইতেছে-আমারই কোনও কম নাই। যদিও বিপিনবাবরে কথাগুলিকে সে অযাচিত উপদেশ বলিয়া উপহাস করিয়া আসিয়াছে, তথাপি সে উপদেশবাণী তাছার মনের দয়ারে আসিয়া বারবার আঘাত করিতে লাগিল। নলিনী মনে মনে বলিতে লাগিল—“উদ্যোগনাং পরষসিংহমপৈতি লক্ষীঃ” ঠিক কথা। কেন আমি খেতে না পেয়ে মরব ? কেন আমার মন্ত্রীপত্র খেতে না পেয়ে মরবে ? ঠিক কথা—আমি কম্মের সন্ধান করব, যে কোনও কৰ্ম্ম হোক-আমার মান অপমান নেই। একবেলাও যদি আহার পাই, তাহলেও প্রাণধারণ হবে। তাও কি জটেবে না? অবশ্য জটিয়ে নেব! আমায় বাঁচতেই হবে—আমায় স্ত্ৰী ছেলেমেয়েকে বাঁচাতেই হবে। দেখি ভগবান কি করেন।—নলিনী মনে বেশ একটা উত্তেজনা অনুভব করিতে লাগিল । * চৌরঙ্গির একটা ত্রিতল অট্টালিকার উপর, বড় বড় লাল অঞ্চরে এক ইংরাজি দোকানের নাম পড়া যাইতেছিল। নলিনী সেইদিকে পদচালনা করিল। - দোকানের জবারে পেশছিয়া, বারবানের অনেক খোসামোদ করিয়া তিলের উপর বড়সাহেবের আফিসকক্ষে নলিনী নীভ হইল। সাহেব খাতপত্র লইয়া হিসাব পরীক্ষা করিতেছিলেন। লোকটি প্রৌঢ়বয়স্ক—মস্তকে কেশ অত্যন্ত বিরল-গোঁফ দাড়ী কামানো । ১২৩