পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ੋ শ্রাবণ। বিবাহের আর পাঁচদিন মাত্র বাকী। সীতানাথ টাকাকড়ি লইয়া কলিকাতায় গেলেন। বলিয়া গেলেন, আবশ্যকীয় জিনিষপত্র কিনিয়া সেইখান হইতেই নিজে করিতে যাইবেন। ੋਣ ਯੋਗ ਜਾਂ ਅੰਗਾ। ছোটবড় সকলেই অন্নদার প্রতি একেবারে খড়্গহস্ত। প্রায় দশ বৎসর কাল গহিণীর মৃত্যু হইয়াছে; – ছেলে মেয়ে নাতি পতি ভরা সংসার-সীতানাথ আর দারপরিগ্রহ করেন নাই—লোকেও সে পরামশ দেয় নাই। আজ দশবৎসরকাল বড়বধ ঘরের গহিণী। হঠাৎ নোলকপরা মত্তিমতী উপদ্রবরপিণী একটা কাঁচ মেয়ে আসিয়া তাঁহার হস্ত হইতে গহন্থালীর শাসনদণ্ড কাড়িয়া লইবে, এ কল্পনা মাত্র নিতান্তই যন্ত্রণাদায়ক হইল। বড়বধ আবার কাঁদিতে কাঁদিতে অন্নদাকে মিনতি করিতে আরম্ভ করিলেন—“অন ভাই লক্ষীটি, এখনও সনয় আছে, এখনও বিবাহ কর, নইলে সোণার সংসার ছারেখারে যায় ।” অন্নদা হঠাৎ বলিল—“দেখ বউদিদি, আমি একটা মৎলব সিথর করেছি। শুনলাম তারা বড় গরীব, তাই মেয়েটির বিয়ে হয় না। তোমরা কোন রকমে হাজারখানেক টাকা আমাকে সংগ্রহ করে দাও, আমি সেই টাকা ভূধর চাটয্যেকে দিয়ে বলি আপনি ব্রাহ্মণ, কন্যাদায়গ্রসত, কিঞ্চিৎ সাহায্য করলাম, মনোমত সপাত্র এনে মেয়ের বিবাহ দিন। আমার গহনাগলি ফিরিয়ে দিন। তা তারা দিতে পারে। তারা যে অধ্যমিক নয়, তাদের ব্যবহারে জানা যাচ্ছে। অনায়াসেই ত গহনাগুলির কথা অস্বীকার করতে পারত।” •. কথাটা সকলে মিলিয়া তোলাপাড়া করিয়া বলিল, হাঁ এ পরামর্শ মন্দ নহে। চেটা করিয়া দেখিতে ক্ষতি কি ? *. প্রাণের দায়;—পরিবারস্থ সকলের মধ্যে চাঁদা করিয়া, কিছু ঋণ করিয়া, হাজার টাকা জমা হইল। সকালে সীতানাথ রেলপথে কলিকাতা যাত্রা করিয়াছিলেন, সন্ধার সময় অন্নদার নৌকা চন্দ্রবাটী অভিমুখে রওয়ানা হইল। চতুর্থ পরিচ্ছেদ ॥ একখানি পত্র ২৭শে শ্রাবণ পরম পজেনীয় খ্ৰীযুক্ত পিতাঠাকুর মহাশয় শ্রীচরণকমলেষদ সংখ্যাতীত প্রণামান্তে নিবেদন, আপনি কলিকাতায় রওয়ানা হইবার পরদিবস আমি কাৰ্য্যগতিকে চন্দ্রবাটী গ্রামে উপস্থিত হই। প্রথমেই মহাশয়ের জীবনদাতা বন্ধ শ্রীযুক্ত ভূধরনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সহিত সাক্ষাৎ করি। উক্ত মহাশয় পরম সতজনব্যক্তি —যারপরনাই অাদর অভ্যর্থনায় আমাকে আপ্যায়িত করিয়াছেন। এই পৰ্য্যন্ত আমি তাঁহারই গহে অতিথি। আমার পরিচয় পাইয়া গ্রামের কয়েকটি ভদ্রলোক আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিলেন এবং একজন বিজ্ঞব্যক্তি আমাকে নিজনে লইয়া গিয়া বলিলেন—“বাপ হে, শনিতেছি নাকি তুমি এই ভূধর চট্টোপাধ্যায়ের কন্যাকে বিবাহ করতে প্রস্তুত হইয়াছ ?” আমি সবিনয় প্রতিবাদ করিয়া বলিলাম যে আমি নহি, পরন্তু আমার প্রজনীয় পিতৃদেব উক্স বালিকাটির পাণিপীড়ন করিতে অভিলাষী। কথাটা শুনিয়া বিজ্ঞলোকটি থতমত খাইয়া গেলেন। মনে করিলেন বুঝি আমি তাঁহার সঙ্গে বিদ্রপ করিতেছি। অবস্থা দেখিয়া আমি তাঁহাকে সব কথা বুঝাইয়া বলিলাম। শনিয়া বিজ্ঞভদ্রলোকটি বলিলেন—“সব্বনাশ, ' তোমার পিতাঠাকুর যেন এমন কায না করেন। ও মেয়েটির জাতিকুলের ঠিকানা নাই। ওটি কুড়ানো মেয়ে। বারো তেরো বৎসর পাবেব ঘেবার মহাবারণীযোগে ত্রিবেণীতে লক্ষ ჯ,ჯ,