পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লোকের সমাগম হইয়াছিল, সেই বৎসর সপরিবারে সেখানে গঙ্গাস্নান করিতে গিয়া চট্টো পাধ্যায় ঐ মেয়েকে কুড়াইয়া পায়। ও মেয়ের বয়স তখন বছর দই আন্দাজ। নিঃসন্তান বলিয়া চট্টোপাধ্যায় মেয়েটিকে কন্যার মত প্রতিপালন করিয়াছে । অনেকবার ও মেয়ের বিবাহের সম্মবন্ধও হইয়াছিল, কিন্তু পাছে কোনও সংকুলীন ব্যক্তির জাতিনাশ হয়, এই আশঙ্কায় আমরা প্রতিবারেই বরপক্ষীয়গণকে সাবধান করিয়া দিয়াছি;—তোমাদিগকেও সাবধান করিয়া দিলাম।” মহাবারণীযোগের সময় ত্রিবেণীর ঘাটে মেয়েটিকে কুড়াইয়া পাওয়া গিয়াছিল শনিয় আমার মনে একটা সন্দেহ উপস্থিত হইয়াছিল। মেয়েটিকে একবার দেখিবার নিতান্ত ইচ্ছা হইল। চট্টোপাধ্যায় মহাশয়কে বললাম, আমার পিতাঠাকুর যখন আপনার কন্যার পাণিগ্রহণাথী হইয়াছেন, তখন মেয়েটিকে একবার দেখা আমার সব্বতোভাবে কত্তব্য চট্টোপাধ্যায় কন্যাকে যথাসাধ্য বসন ভূষণে সাজাইয়া আমার সম্মুখীন করেন। মেয়েটিবে দেখিয়া আমি অত্যন্ত বিস্মিত হই। মুখখানি অবিকল আমাদের পরলোকগতা ছোটবধত্র s "ট্টোপাধ্যায় মহাশয়কে জিজ্ঞাসা করিলাম, মেয়েটির কোনও পথায়ী রকমের ব্যাধি আছে কি না। তিনি প্রথমতঃ কিছতেই স্বীকার করেন না। অনেক জেরা করিয়া বাহির করিলাম যে, মাঝে মাঝে মেয়ের ব্যকে অমলশলের মত একটা বেদনা দেখা যায়, দই দিন কখনও বা তিন দিন বাক যায় বকে যায় শব্দ—তাহার পর ভাল হইয়া যায়। বৎসরে এরপ দই একবার হইয়া থাকে। পবোঁ যাহা সন্দেহ করিয়াছিলাম তাহাই বিশ্বাসে পরিণত হইল। মেয়েটি আমার শালিকা। হিসাব করিয়া দেখিলাম, দ্বাদশ বৎসর পর্বেই আমার শবশঠাকুরাণী মেয়েটিকে রিবেণীর ঘাটে হারাইয়া আসেন। তখন তাহার বয়স দই বৎসর মাত্র। সপ্তাহ ধরিয়া কিবেণীর চতুদিকে অনেক নিস্ফল অনুসন্ধান হয়। মেয়েটির গায়ে অনেক সোণার গহনা ছিল, এই নিমিত্ত সকলে সিদ্ধান্ত করেন যে, গহনার লোভে কেহ তাহাকে হত্যা করিয়া থাকিবে। এ সমস্ত ইতিহাস আপনি অবশ্যই জ্ঞাত আছেন। অলশলের যারামটা—উহাও একটা প্রধান কথা। আমার শবশ্রাঠাকুরাণীর উহা আছে, আমার সন্ত্রীর ছিল, আমার শ্যালকগণও তলপাধিক পরিমাণে ঐ পীড়াকান্ত । যাহা হউক আমি এই তথ্য আবিকার করিয়াই শবশরে মহাশয়কে তারযোগে সংবাদ প্রেরণ করি। অদ্য প্রভাতে তিনি আমার বাশুড়ী ঠাকুরাণীকে সমভিব্যাহারে লইয়া এখানে উপস্থিত হইয়াছেন। মেয়েটি যে তাঁহারই সে বিষয়ে শবশ্বদেবীর আর সংশয়মাত্র ના ! অতঃপর আপনি যদি কন্যাটিকে বিবাহ করেন তাহা হইলে কতকটা সম্পকবিরদ্ধে হয়। এই কারণেও বটে, আর মহাশয়কে এই বয়সে একটা গলগ্ৰহ করিয়া দিয়া (বিশেষতঃ কন্যাটি গাথা) কষ্টে ফেলা উপযুক্ত সন্তানের কত্তব্য কম হয় না ভাবিয়া, আমিই অগত্যা তাহাকে গিলাহ করিতে স্বীকৃত হইয়াছি। অতএব আপনি প্রয়োজনীয় দুব্যাদি লইয়া সত্বর আগমন করবেন। বাড়ীতে দাদামহাশয়গণকে পত্রদ্বারা নিমন্ত্ৰণ করিলাম। নিবেদনমিতি। পমশচ প্লীঅন্নদাচরণ দেবশমমা যদি সময় থাকে তবে আসিবার পর্বে একবার গরদাস চট্টোপাধ্যায়ের প্রস্তকের tধাজ্ঞানে উপস্থিত হইয়। মদ্রচিত "ভগ্নহৃদয়ের মহাশোকাশ্ৰ" নামক কাব্যখানির সমস্ত এৰিষ্কাঁত খণ্ডগলি সঙ্গে আনয়ন করবেন। চট্টোপাধ্যায়ের নামে একখানি পত্র লিখিয়া এই লগে দিলাম, আপনার প্রতি তাঁহার অবিশ্বাসের কোনও কারণ থাকিবে না। তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিয়া আসিবেন, আমি যদি “আত্মজীবন চরিত” নামক একখানি গ্রন্থ প্রণয়ন ক্ষীয়, তবে তিনি সে পাতক নিজবায়ে প্রকাশ করিতে প্রস্তুত আছেন কি না। এই খলিখিত পতেকখানি অতীব মনোরম ও কৌতুকাবহ হইবার সম্ভাবনা -ইতি জssar جهرمجيا