পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তা হবে না কিন্তু। বড়বাব তাইতেই রাজি হয়েছেন। বলেছেন, কালকে রিপোর্টখানা চেপে রাখবেন-বড়সাহেবের কাছে পাঠাবেন মা। কেমন নলিনীবান্ধ আপনি রাজি ত ? নলিনীর গলা শকাইয়া গিয়াছিল, কস্টে বলিল, “কাল তাপিসে বলব।” বিনোদবাব বললেন, "হাঁ বেশ করে ভেবে দেখলে। আপনিও এই ধনুভঙ্গ পণ ছাড়ন। একদিন একট মদ খেলেই যদি চাকরিটি বজায় থাকে--তা হলে খাওযাই উচিত। আর, আপনি ত ব্রাহ্মণের বিধবা নন যে আপনার পরকাল নট হবে! কলি সন্ধেবেলা আসবেন এখন, দুজনে একসঙ্গে যাওয়া যাবে।” भ्रश्मश्च श्रब्रिट्श्ङ्घ বাড়ী ফিরিয়া, আহারাদি কোনও মতে শেষ করিয়া নলিমী শয্যায় প্রবেশ করিল। অন্যদিন, সারাদিন পরিশ্রমের পর বিছানায় পড়িবা মাত্র ঘুমাইযা যায, আজ আর তাহা হইল না। আজ সে বিষম সমস্যায় পড়িয়া গিয়াছে। প্রতিজ্ঞা রক্ষা করিবে, না চাকরি রক্ষা করিবে ? চাকরিটি যদি যায়, তবে কি হইবে ? নলিনী মনে মনে হিসাব করিয়া দেখিল, যে দিন এ বাড়ীতে বাসের মেয়াদ পর্ণ হইবে, তাহার চারদিন পরেই তাহার চাকরির বংসরও শেষ হইবে। বিপদের উপর বিপদ } বাল্যকালের পাঠ মনে পড়িল-বিপবিপদং সম্পৎ সম্পদং অনবধ্যাতি-বিপদ বিপদকে এবং সম্পদ সম্পদকে অনুধাবন করে। এই দই বিপদ ত তাহদের করাল বদন বিস্তার কবিয়া তাহাকে গ্রাস করিতে আসিতেছে—উহাদের পশ্চাতে না জানি আর কোন কোন বিপদ লুক্কায়িত আছে! হায়, নলিনী কি করিবে ? কেনই বা ভুবনবাবরে সাক্ষাতে ঔষধের শিশির গল্প করিয়াছিল ?—যাক, সে আর ভাবিয়া কি হইবে ?--ভুবনবাব ও নাই যে তাঁহাকে দিয়া বড়বাবরে কাছে সুপারিশ করাইবে। এবার তিন মাসের পলে তিনি আসিতে পারবেন না বলিয়া গিয়াছেন। তাঁহাকে চিঠি লিখিলে বা টেলিগ্রাম করিলে হয় না? সময়ই বা কই ? কল সন্ধ্যা পর্যন্ত বড়বাব অপেক্ষা করিয়া, পরশব মন্তব্য দাখিল করিবেন। দাখিল করিলেই বড়সাহেব তাহাতে সহি করিয়া দিবেন—বস-সব ফসর্ণ। তাহার পর গহ নাই—অন্ন নাই। অন্য কোনও আপিসে কর্মের সুবিধা হইতে পারবে না কি ?-- কিন্তু তাহার প্রধান অন্তর্যয়, ইহারা নলিনীকে যে সার্টিফিকেট দিবে না। যদি বা দেয়, তাহাতে লিখিয়া দিকে-কাযে অপট বলিয়া বৎসরান্তে পদচ্যুত করা গেল। সে সাটিফিকেট কোথাও দেখাইয়া ফল কি ? BBBB BBBS BB BB BD BBB BBB BBB BB BBBBB BBB DDD —আজ হেমাঙ্গিনী সবয়ং বাসন মাজিতেছে-কারণ ঝির জর হইয়াছে। এই পৌষ মাসের শীত, রাত্রে হেমাঙ্গিনীকে স্বহস্তে বাসন মজিতে হইতেছে। অথচ এমন দিন ছিল যখন একটা কেন, দুইটা ঝির একসঙ্গে পীড়া হইলেও বাড়ীর মেয়েদের বাসন মাজতে হইত না। সঙ্গে সঙ্গে নলিনীর ইহাও মনে হইল, বাসনও আর বেশী দিন মাঞ্জিবার আবশ্যকতা থাকিবে না। পথ যখন গহ হইবে, ভিক্ষা যখন জীবিকা হইবে, তখন বাসনও থাকিবে না, বাসনে করিয়া কিছু খাইবারও থাকিবে না। নলিনীর মনশচক্ষের উপর একখানি ছবি যেন ভাসিয়া উঠিল—নলিনী আগে আগে মেয়েটির হাত ধরিয়া, হেমাঙ্গিনী পাছে পাছে ছেলেটি কোলে করিয়া, কলিকাতার পথে ভিক্ষা করিয়া বেড়াইতেছে। যেন শ্যামবাজারের বড়বাবর বাড়ীর বারেই দাঁড়াইয়া আছে। নলিনীর চক্ষ দিয়া আশ্র; ঝরিতে লাগিল । আরও কিয়ৎক্ষণ কাটিলে, গহকায শেষ করিয়া, হেমাঙ্গিনী শয়ন করিতে আসিল শয্যায় প্রবেশ করিয়া কোমলকণ্ঠে বলিল—“তুমি এখনও ঘমোগুনি ?” অশ্রুসিক্তসত্বরে নলিনী বলিল, “না।” $నిగి