পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নালনা আজ ভাল করিয়া আহার করিতে পারল না। কোন মতে আধ-খাওয়া করিয়া, শীর মিনতিসত্ত্বেও উঠিয়া পড়িল। আহারান্তে শয্যায় গিয়া, নলিনী শয়ন করিয়া রহিল। হেমাঙ্গিনী নিজে নানাহার শেষ করিয়া, শয্যায় বসিয়া মবামীর পদসেবা করিতে লাগিল। নলিনীর ঘাম আসিল না। বেলা দইটা অবধি এইরুপ ছটফট করিয়া সে উঠিয়া বসিল। তামাক সাজিবে বলিয়া কলিকা হাতে করিল। হেমাঙ্গিনী তাহার হাত হইতে কলিকা কাড়িয়া লইয়া তামাক সাজিয়া দিল। নলিনী তামাক খাইতে লাগিল, হেমাঙ্গিনী অনতিদরে পাণ সাজিবার সরঞ্জাম সম্মখে রাখিয়া, বসিয়া সপোরি কাটিতে লাগিল। তামাক শেষ করিয়া, দীঘলিশবাসের সহিত নলিনী বলিল-“কই—আজও ত নোটিসটোর্টিস কিছু এল না ? কাল এক বৎসর প্ণ হয়ে গেছে।” হেমাঙ্গিনী বলিল, “তোমার এ বিপদ--চাকরিটি পয্যন্ত গেল, তা কি বিপিনবাব শোনেন নি ? এমন সময় তিনি কখনই বাড়ী ছেড়ে উঠে যেতে বলবেন না। শরীরে একটও ত দয়ামায়া আছে!” নলিনী বলিল, “খবে দয়ামায়া আছে! বোধ হয় কাজের ভিড়ে ভুলে গেছে—আজ কি কাল নোটিস আসবে দেখে নিও।” বেল তিনটা বাজিল। খোকা বলিল, “বাবা, জাতো ছিড়ে গেছে—বলেছিলে যে রবিবারে জমতো কিনে এনে দেব ? আজ ত রবিবার।" - নলিনী খোককে বকে লইয়া বলিল, “আজ নয় বাবা, অন্য এক রবিবারে কিনে এনে দেব।" অভিমানের সরে খোকা বলিল, “যখনই বলি, তখনই ত বল অন্য এক রবিবারে " খকেী আসিয়া বলিল, “ম, পয়সা দাও না, মাড় কিনে আনি, ক্ষিধে পেয়েছে।” হেমাঙ্গিনী বলিল, “আজ আর মড়ি খেওনা মা—সন্ধে হলেই ভাত খেও এখম।" মেয়ে পয়সার জন্য অনেক বাহানা করিল, কিন্তু হেমগিনী আজ কিছতেই পয়সা বাহির করিল না। এখন প্রত্যেক পয়সাটি তাহার কাছে মোহরের মত মহাঘ’ হইয়া ੇ ছে। ঝি আসিয়া বলিল, “বউমা, বেলা যে গেল। বাজার যেতে হবে কি ? আল নেই।” হেমাঙ্গিনী लिळ्, “থাক বি, আজ আর আনতে চলে যাবে এখন ।” হবে না, বেগনে আছে, তাইতেই নলিনী একটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া মনে মনে বলিল--হা ভগবান! এমন সময়, নীচে সদর দরজা হইতে উচ্চ শব্দ আসিল--"বাব-এ নলিনীবাব; ” কে ডাকে ? দী পরিষে উভয়ে জানালায় গিয়া দাঁড়াইল। দেখিল উদিপর একজন চাপরাশি, হস্তে পিয়ন-বক, স্বারে করাঘাত করিতেছে। "কে আবার! বিপিনের চাপরাশি—তাদেরই উদি। নোটিস এসেছে।” কোনও মতে সিড়ি নামিয়া, দবার খালিয়া, পিয়ন-বাকে সহি দিয়া, চিঠি লইয়া নলিনী উপরে আসিল। তাহার মাখ পাংশবেণ ধারণ করিয়াছে, যে হাতে চিঠি ধরিয়া আছে সে হাত ঠক ঠক করিয়া কাঁপিতেছে। চিঠি হাতে করিয়া, নলিনী বিছানায় বসিল। বলিল—“হিম, তুমি যে বলছিলে তার শরীরে দয়ামায়া আছে, দেখ কেমন দয়ামায়া । কিছুদিন সময় দিয়েছে কি আজই উঠে যেতে বলেছে দেখি।"-বলিয়া নলিনী ধীরে ধীরে চিঠিখনি বাহির করিল। ভাঁজ খলিয়া—একি চিঠির সঙ্গে গাঁথা একখানি চেক। নলিনীর নামে চেক—বারো হাজার তিনশো পঞ্চান্ন টাকার চেক। বিপিনবাবরে দস্তখং রহিয়াছে। নলিনী প্রথমে নিজের চক্ষকে বিশ্বাস করিতে পারিল না। তাহার মাথা বন বন করিয়া ঘুরিতে লাগিল। ধীরে ধীরে চক্ষ মাদিত করিয়া বলিল, "হিম আমার মাথায় రి)