পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভূধর চট্টোপাধ্যায় যে আমার প্রথমা পত্নীর অলংকারের কথা বলিয়াছিলেন, এখন বলিতেছেন তাহা সবৈব মিথ্যা। পাছে মহাশয় সেগুলির অপ্রাপ্তিতে নিরাশা-দঃখ অনুভব করেন, তাই এখন অবধি বলিয়া রাখিলাম। আমাকে বিবাহ করিতে কৃতসঙ্কল্প দেখির তিনি এ কথা প্রকাশ করিয়াছেন। এই মিথ্যাচরণের জন্য আমি তাঁহার কৈফিয়ৎ চাহিয়াছিলাম। তিনি বলিলেন—“মািখয্যে মহাশয় সন্বিত পাইয়া যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন বাক্স কোথায়—আমি বিসিমত হইয়াছিলাম ও সত্য বলিয়াছিলাম কোন বাক্স পাই নাই। তাহার পর ডাক্তার আসে, এবং পরামর্শ দেয় ও কথা বলিও না, পীড়া বাড়িবে; বলিও বাক্স আছে; উহাকে ভাল হইতে দাও। আমিও মনে করিলাম এই সযোগে মেয়েটিকে পার করিবার চেষ্টা করি। বাপ হে আমার মেয়ের কিনারা হইতেছিল না। তাই দুইটা মিথ্যা কথা বলিয়াছিলাম। তা সে মিথ্যা কতক্ষণ টিকিত ? বিবাহ হইলেই সমস্ত প্রকাশ হইত। তখন ত আর তোমরা মেয়ে ফিরিযা দিতে পারিতে না।” চট্টোপাধ্যায় মহাশয় যতই বিনয়ী ও অতিথিবৎসল হউন, নীতিজ্ঞান তাঁহার অতি শোচনীয়। এরপ শিথিলনীতি মনুষ্য যে আমার বশীর হইলেন না, ইহাতে আমি নিজেকে নিজে অভিনন্দন করিতেছি। ইতি- - - - - খ্ৰীষ্মঃ fআষাঢ় ১৩০৬ ] পত্নীহারা চাঁচড়ায় গঙ্গাতীরে একটি সন্দের ত্রিতল অট্টালিকা। তাহার একটি সুসজিত কক্ষে সেই গাহের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সপ্তদশবষীয়া যাবতী শ্ৰীমতী সমীতিবালা বসিয়া কবিতা পাঠ করিতেছেন। তাঁহার মুখখানি অতি সন্দর। চোখে এখনও বালিকাসলভ চপলতা পণ্যেমাত্রায় বিরাজ করিতেছে। স্নান সমাপ্ত হইয়াছে; চল এখনও ভাল শকোয় নাই, তাই সেইগলি খোলা অবস্থায় পিঠের কাপড়ের উপর পাঁড়য়া আছে। জানালা দিয়া গঙ্গার বায় আসিয়া সেগুলি শকাইয়া দিবার চেষ্টা করিতেছে। - বেলা ক্ৰমে বাড়িয়া উঠিল, নয়টা বাজিয়া গেল। কাব্য আর সেই সন্দেরী পাঠিকাব মন তেমন বধিয়া রাখতে পারল না। বাহির হইতে পদশব্দের আভাসমাত্র কাণে আসিলেই তিনি চমকিত হইয়া উঠিতে লাগিলেন। গঙ্গার ঘাটে বিস্তর নানাথীর ੋ হইয়াছে, সনীতি মাঝে মাঝে গবাক্ষপথে তাহদের প্রতিও দটিপাত করিতে গলেন। তাহার এই মানসিক চঞ্চলতা শীঘ্রই বিদারিত হইল। একখানি দৈনিক সংবাদপত্র হাতে করিয়া সহস্যমুখে সনৌতির স্বামী প্রবেশ করিলেন। - সনেীতির স্বামীটি সমপণভাবে সনেীতির উপযুক্ত। বিধাতা যোগীকে যোগ্যের সহিতই যোজনা করিয়াছেন;—ইহার অপেক্ষা সবোধচন্দ্রের আর বেশী বর্ণনা নিপ্রয়োজন। কবিতাপুতকখানি পাবস্থ টেবিলের উপর ফেলিয়া সনেীতি জিজ্ঞাসা করিল“অত হাসি কেন ?” সমবোধ হাসিয়া বলিল—“সহ্য হয় না নাকি ?” "ן חב" "কেন ?” - - “তুমি বাইরে থেকে হাসতে হাসতে এসেছ। তা ত হবে না। আমার কাছে এসে আমাকে দেখে তবে তুমি হাসবে।" - . . . . . . . “তুমি কি শুধু ঘরে আছ ? তুমি কি বাইরে নেই ?” ৬৮