পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্থিত ইংরাজি জানা জনিয়রকে জিজ্ঞাসা করেন—“উনি কি বলছেন ?”—জনিয়র তৎজমা করিয়া তাঁহাকে বঝাইতে বাবাইতে অন্য প্রসংগ উপস্থিত হয়, মুখের জবাব মুখেই রহিয়া যায়—নিম্ফল রোষে তিনি ফুলিতে থাকেন। তাহ ছাড়া, পাবে হাকিমগণ মখেয্যে মহাশয়কে যেরপে শ্রদ্ধার চক্ষে দেখিতেন, এখনকার নব্য হাকিমগণ আর তাহা করেন না। ইহাদের যেন বিশ্বাস, যে ইংরাজি জানে না, সে মনুষ্যপদবাচাই নহে। এই সকল কারণে মুখোপাধ্যয় সিথর রুরিয়াছেন, কম হইতে এখন অবসর গ্রহণ করাই শ্ৰেয়ঃ। তিনি যাহা সঞ্চয় করিয়াছেন, তাহার সদে হইতে কোনও রকমে সংসারযাত্রা নিৰ্বাহ করিবেন। প্রায় ষাট বৎসর বয়স হইল—চিরকালই কি খাটিবেন ? বিশ্রামের সময় কি হয় নাই ? বড় ছেলেটি যদি মানুষ হইত-দুইটাকা যদি রোজগার করিতে পারত-তাহা হইলে এতদিন কোন কালে মখোপাধ্যায় মহাশয় অবসর লইতেন, বাড়ীতে বসিয়া হরিনাম করিতেন। কিন্তু আর বেশী দিন চলে না। তথাপি আজি কালি করিয়া আরও এক বৎসর কাটিল । এই সময় দায়রায় একটি খনী মোকদ্দমা উপস্থিত হইল। সেই মোকদ্দমার আসামী জয়রাম মুখোপাধ্যায়কে নিজ মোক্কার নিযুক্ত করিল। একজন নতেন ইংরাজ জজ আসিয়াছেন—তাঁহারই এজলাসে বিচার। তিনদিন যাবৎ মাকদ্দমা চলিল। অবশেষে মোক্তার মহাশয় উঠিয়া “জজসাহেব বাহাদর ও এসেসার মহোদয়গণ” বলিয়া বক্ততা আরম্ভ করিলেন। বক্তৃতাশেষে এসেসরগণ মুখোপাধ্যায়ের মক্কেলকে নিন্দোষ সাব্যস্ত করিলেন-জ্ঞজসাহেবও তাঁহাদের অভিমত মবীকার করিয়া আসামীকে অব্যাহতি দিলেন। জজসাহেবকে সেলাম করিয়া, মোক্তার মহাশয় নিজ কাগজপত্র বাঁধতেছেন, এমন সময় জজসাহেব পেস্কারকে জিজ্ঞাসা করিলেন--"এ উকিলটির নাম কি ?” পেস্কার বলিল—“উহার নাম জয়রাম মুখাজি । উনি উকিল নহেন, মোক্তার।” প্রসন্নহাস্যের সহিত জজসাহেব জয়রামের প্রতি চাহিয়া বলিলেন—“আপনি মোক্তার ?” জয়রাম বলিলেন—“হাঁ হজর, আমি আপনার তাঁবেদার।” জজসাহেব পাকবাবৎ বলিলেন-এ আপনি মোক্কার! আমি মনে করিয়াছিলাম, আপনি উকিল। যেরপ দক্ষতার সহিত আপনি মোকদম চালাইয়াছেন, আমি ভাবিয়াছিলাম আপনি এখানকার একজন ভাল উকিল।” . এই কথাগুলি শুনিয়া মুখোপাধ্যায়ের সেই ডাগর চক্ষ দইটি জলে পণ্য হইয়া গেল । হাত দটি জোড় করিয়া কম্পিতকণ্ঠে বললেন—“ন্য হজের ; আমি উকিল নহি-আমি একজন মোক্তার মাত্র। তাও সেকালের শিথিল নিয়মের একজন মাখ মোক্কার। আমি ইংরাজি জানি না হজের। আপনি আজ আমার যে প্রশংসা করিলেন আমি জীবনের শেষ দিন অবধি তাহা ভুলিতে পারিব না। এই বড়া ব্রাহ্মণ আশীবাদ করিতেছে, হজর হাইকোটের জজ হউন।” —বলিয়া ঝাকিয়া সেলাম করিয়া মোক্তার মহাশয় এজলাস হইতে বাহির হইয়া আসিলেন। ইহার পর আর তিনি কাছারি যান নাই। পঞ্চম পরিচ্ছেদ ব্যবসায় ছাড়িয়া কায়ক্লেশে মুখোপাধ্যায়ের সংসার চলিতে লাগিল। ব্যয় যে পরিমাণ সঙ্কোচ করবেন ভাবিয়াছিলেন, তাহা শত চেষ্টাতেও হইয়া ওঠে না। সদে সংকুলান হয় মা, মলধনে হাত পড়িতে লাগিল। কোম্পানির কাগজের সংখ্যা কমিতে লাগিল। একদিন প্রভাতে মোক্তার মহাশয় বৈঠকখানায় বসিয়া নিজের অবস্থার বিষয় চিন্তা করিড়েছেন, এমন সময় মাহত আদরিণীকে লইয়া নদীতে সনান করাইতে গেল। অনেক দিন হইতেই লোকে ইহাকে বলতেছিল—“হাতাটি আর কেন, ওকে বিক্ৰী করে ফেলন। মাসে ত্রিশ চল্লিশ টাকা বেচে যাবে।” কিন্তু মল্লখয্যে মহাশয় উত্তর করিয়া থাকেন—“তার ABS • دعمx