পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চেয়ে বল না, তোমার এই ছেলেপিলে নাতিনাতিনীদের খাওয়াতে অনেক টাকা বায় হয়ে যাচ্ছে—ওদের একে একে বিক্ৰী করে ফেল।”—এরপ উক্তির পর আর কথা চলে না। হাতীটিকে দেখিয়া মখোপাধ্যায়ের মনে হইল, ইহাকে যদি মধ্যে মধ্যে ভাড়া দেওয়া যায়, তাহা হইলে ত কিঞ্চিৎ অর্থাগম হইতে পারে। তখনই কাগজ কলম লইয়া নিম্নলিখিত বিজ্ঞাপনটি মনসাবিদা করিলেন – হস্তী ভাড়ার বিজ্ঞাপন বিবাহের শোভাযাত্রা, দরিদ্রন্তে গমনাগমন প্রভৃতি কায্যের জন্য নিন স্বাক্ষরকারীর আদরিণী নাম্নী হস্তিনী ভাড়া দেওয়া যাইবে । ভাড়া প্রতি রোজ ৩. মাত্র, হস্তিনীর খোরাকী ১ এবং মাহতের খোরাকী ॥০ একুনে ৪০ ধায্য হইয়াছে। ঘাঁহার তাবশ্যক হইবে, নিন ঠিকানায় তত্ত্ব লইবেন। শ্ৰীজয়রাম মুখোপাধ্যায় (মোস্তার) এই বিজ্ঞাপনটি ছাপাইয়া, সহরের প্রত্যেক ল্যামপপোলেট, পথিগাপবাসঘ বক্ষকাড়ে, এবং অন্যান্য প্রকাশ্য পথানে আটিয়া দেওয়া হইল। বিজ্ঞাপনের ফলে মাঝে মাঝে লোকে হস্তী ভাড়া লইতে লাগিল বটে—কিন্তু তাহাতে ১৫ । ২০ টাকার বেশী আয় হইল না। মুখোপাধ্যায়ের জ্যেষ্ঠ পৌরটি পীড়িত হইরা পড়িল। তাহার জন্য ডাক্টর-খরচ, ঔষধ-পথ্যাদির খরচ প্রতিদিন ৫ ॥৭, টাকার কমে নিববাহ হয় না। মাসখানেক পরে বালকটি কথঞ্চিৎ আরোগ্যলাভ করিল। বড়বধ মেজবধ উভয়েই অন্তঃসত্ত্বা। কয়েক মাস পরেই আর দুইটি জীবের অন্নসংস্থান করিতে হইবে। এদিকে জ্যেঠা পৌত্রী কল্যাণী বাদশবষে পদাপণ করিয়াছে। দেখিতে দেখিতে যেরাপ ডাগর হইয়া উঠিতেছে, শীঘ্রই তাহার বিবাহ না দিলে নয়। নানাসথান হইতে তাহার সম্বন্ধ অসিতেছে বটে, কিন্তু ঘর-বর মনের মতন হয় না। যদি ঘর-বর মনের মতন হইল, তবে তাহদের খাঁই শনিয়া চক্ষস্থির হইয়া যায় । কন্যার পিতা এ সম্বন্ধে একেবারে নিলিপ্ত। সে নেশাভাঙ করিয়া, তাস পাশা খেলিয়া, ফলেট বাজাইয়া বেড়াইতেছে। যত দায় এই ষাট বৎসরের বড়ারই ঘাড়ে। অবশেষে একস্থানে বিবাহের সিথর হইল। পারটি রাজসাহী কলেজে এল-এ পড়িতেছে, খাইবার পরিবার সংস্থানও আছে। তাহারা দই হাজার টাকা চাহে ; নিজেদের খরচ পাঁচ শত—আড়াই হাজার টাকা হইলেই বিবাহটি হয়। কোম্পানীর কাগজের বাডিল দিন দিন ক্ষীণ হইতেছে--তাহা হইতে আড়াই হাজার বাহির করা বড়ই কটকর হইয়া দাঁড়াইল। তার, শুধু ত একটি নহে—আরও নাতিনীরা রহিয়াছে। তাহাদের বেলায় কি উপায় হইবে ? এই সকল ভাবনা-চিন্তার মধ্যে পড়িয়া মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের শরীর কুমে ভগন হইয়া পড়িতে লাগিল। একদিন সংবাদ আসিল, কনিষ্ঠ পত্রটি বি এ পরীক্ষা দিয়াছিল, সেও ফেল করিয়াছে। বন্ধগণ বলিতে লাগিলেন—“মািখয্যে মহাশয়, হাতীটিকে বিক্ৰী করে ফেলন—করে নাতনীর বিবাহ দিন। কি করবেন, বলনে অবস্থা বঝে ত কাজ করতে হয়। আপনি জ্ঞানী লোক, মায়া পরিত্যাগ করন।" - মুখোপাধ্যায় আর কোনও উত্তর দেন না। মাটির পানে চাহিয়া চলান মুখে বসিয়া কেবল চিন্তা কলক মােৰ "সদে