পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চৈত্রসংক্লান্তিতে বামনহাটে একটি বড় মেলা হয়। সেখানে বিস্তর গর বাছার ঘোড়া হাত উট বিক্ৰয়াথে আসে। বন্ধগণ বললেন-”হাতীটিকে মেলায় পাঠিয়ে দিন, বিক্ৰী হয়ে যাবে এখন। দ্য হাজারে কিনেছিলেন, এখন হাতী বড় হয়েছে—তিন হাজার টাকা অনায়াসে পেতে পারবেন ।” f কোঁচার খুটে চক্ষ মাছিরা বদ্ধ বলিলেন—“কি করে তোমরা এমন কথা বলছ ?” বন্ধরো বুঝাইলেন—“আপনি বলেন, ও আমার মেয়ের মত। তা মেয়েকেই কি চিরদিন ঘরে রাখা যায় ? মেয়ের বিয়ে দিতে হয়, মেয়ে মবশুরবাড়ী চলে যায়, তার তার উপায় কি? তবে পোষা জানোয়ার, অনেকদিন ঘরে রয়েছে, মায়া হয়ে গেছে, একটু দেখে শুনে কোনও ভাল লোকের হাতে বিক্ৰী করলেই হয় । যে বেশ আদর যত্নে বাখবে, কোনও কট দেবে না—এমন লোককে বিক্ৰী করবেন।" ভাবিয়া চিন্তিয়া জয়রাম বলিলেন—“তোমরা সবাই যখন বলছ তখন তাই হোক। দাও, মেলায় পাঠিয়ে দাও। একজন ভাল খদের ঠিক কর—তাতে দামে যদি দ-পাঁচশো টাকা কমও হয়, সেও স্বীকার ” মেলাটি চৈত্র-সংক্রান্তির-প্রায় পনের দিন পবে আরম্ভ হয়। তবে শেষের চারি-পাঁচদিনই জমজমাট বেশী । সংক্রান্তির এক সপ্তাহ পাবে যাত্রা স্থির হইয়াছে। মাহত ত যাইবেই—মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের মধ্যম পয়েটিও সঙ্গে যাইবে । যাত্রার দিন অতি প্রত্যুষে মুখোপাধ্যায় গাত্ৰোত্থান করিলেন। যাইবার পর্বে হস্তী ভোজন করিতেছে। বাটীর মেয়েরা, বালকবালিকাগণ সজলনেত্রে বাগানে হস্তীর কাছে দাঁড়াইয়া। খড়ম পায়ে দিয়া মুখোপাধ্যায় মহাশয়ও সেখানে গিয়া দাঁড়াইলেন। পবেদিন দই টাকার রসগোল্লা আনাইয়া রাখিয়াছিলেন, ভূত্য সেই হাঁড়ি হাতে করিয়া আসিয়া দাঁড়াইল। ডালপালা প্রভৃতি মামলী খাদ্য শেষ হইলে, মুখোপাধ্যায় মহাশয় স্বহস্তে মঠো মঠা করিয়া সেই রসগোল্লা হস্তিনীকে খাওয়াইলেন। শেষে তাহার গলার নিম্নে হাত বলাইতে বলাইতে ভগ্নকণ্ঠে বলিলেন—“আদর, যাও মা, বামনহাটের মেলা দেখে এস।” —প্রাণ ধরিয়া বিদায়বাণী উচ্চারণ করিতে পারলেন না। উদ্বেল দুঃখে, এই ছলনাটাকুর আশ্রয় লইলেন। হাতী চলিয়া গেল। মখোপাধ্যায় মহাশয় শান্যমনে বৈঠকখানার ফরাস বিছানার উপর গিয়া লাটাইয়া পড়িলেন । অনেক বেলা হইলে, অনেক সাধ্য-সাধনা করিয়া বধ্যরা তাঁহাকে স্নান করাইলেন। নানাতে আহারে বসিলেন বটে, কিন্তু পাতের অন্ন-ব্যঞ্জন অধিকাংশই অভুক্ত পড়িয়া রহিল। বস্ট পরিচ্ছেদ কল্যাণীর বিবাহের সমস্ত কথাবাত্ত পাকা হইয়া গিয়াছে। ১০ই জ্যৈষ্ঠ শুভকায্যের দিন সিথর হইয়াছে। বৈশাখ পড়িলেই উভয় পক্ষে আশীব্বাদ হইবে। হস্তি-বিক্লয়ের . টাকাটা আসিলেই গহনা গড়াইতে দেওয়া হয়। কিন্তু ১লা বৈশাখ সন্ধ্যাবেলা মস মস করিয়া আদরিণী ঘরে ফিরিয়া আসিল । বক্রয় হয় নাই—উপযুক্ত মল্যে দিবার খরিদার জোটে নাই। আদরিণীকে ফিরিতে দেখিয়া বাড়ীতে আনন্দ কোলাহল পড়িয়া গেল। বিক্রয় হয় নাই বলিয়া কাহারও কোনও খেদের চিহ্ন সে সময় দেখা গেল না। যেন হারাধন ফিরিয়া পাওয়া . গিয়াছে—সকলের আচরণে এইরপেই মনে হইতে লাগিল। বাড়ীর লোকে বলিতে লাগিল—“আহা, আদর রোগা হয়েছে। বোধ হয় এ ক'দিন সেখানে ভাল করে খেতে পায়নি। ওকে দিনকতক এখন বেশ করে খাওয়াতে হবে।" আনন্দের প্রথম উচ্ছবাস অপনীত হইলে, পরদিন সকলের মনে হইল-কল্যাণীর Ꮌ8bz