পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আজ নিশচল—নিম্পন্দ। বন্ধ ছটিয়া গিয়া হস্তিনীর শবদেহের নিকট লাটাইয়া পড়িয়া, তাহার মাখের নিকট মাখ রাখিয়া কাঁদিতে কাঁদিতে বারবার বলিতে লাগিলেন--"অভিমান করে চলে গেলি মা ? তোকে বিক্ৰী করতে পাঠিয়েছিলাম বলে—তুই অভিমান করে চলে গেলি ?” ইহার পর দুইটি মাস মাত্র মুখোপাধ্যায় মহাশয় জীবিত ছিলেন। [ ভদ্র, ১৩২o ] লেডি ডাক্তার প্রথম পরিচ্ছেদ পববঙ্গে, নদীতীরে একটি অনতি-প্রশস্ত বাঙ্গলা-গহের বারান্দায় ঈজিচেয়ারে বসিয়া, ইংরাজি পায়জামা সন্ট পরিহিত পঞ্চবিংশবষীয় একজন সশ্রী যবেক প্রাভাতিক চা পান কারতোছ যবকের নাম সত্যেন্দ্রনাথ ঘোষ। ইনি ডেপটি ম্যাজিস্ট্রেট-এই মহকুমার দ্বিতীয় হাকিম। ইহার পিতা একজন নামজাদা প্রথম গ্রেডের ডেপটি ছিলেন। কম হইতে অবসর গ্রহণ করিবার সময় সাহেবদের ধরিয়া সদ্য বি-এ পাস করা এই জ্যেষ্ঠ পত্রটিকে সে আজ তিন বৎসরের কথা। - ভাদ্র মাস। নদীটি কলে কলে পণ। দরে—তিন চারিখানি জেলেনৌকা দেখা যাইতেছে। আকাশ মেঘভারে সতম্ভিত। নদীর অপর পারে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকিয়া উঠিতেছে । বারান্দার নিমেনই ফলবাগান। শেবত, রক্ত, নীল—নানাবণের দেশী ও বিলাতী ফল ফটিয়া রহিয়াছে। রাত্রে ব্যটির জলে ফলের মধ্য ধহেয়া গিয়াছে, ভ্রমরেরা নিরাশ মনে গন গান সম্বরে বিলপ করিতে করিতে উড়িয়া বেড়াইতেছে। চেরা বাঁশের বেড়া দিয়া বাগানটি ঘেরা। বেড়ার গায়ে গায়ে ঝমকা লতা উঠিয়া বাসা বধিয়াছে। বাগানের শেষে কাঠের ফটক। সত্যেন্দ্রনাথ পরোদস্তুর সাহেব না হইলেও অত্যন্ত সাহেবীভাবাপন্ন—অথাৎ সংক্ষেপে সে একজন “ভাবাপন্ন সাহেব"। বাবা বলিলে সে রাগিয়া উঠে না কিন্তু সাহেব অভিহিত হইলে খাসী হয়। বাড়ীতে ধতি পরিতে বিশেষ আপত্তি নাই কিন্তু পায়জামা সটেই সরচিসঙ্গত মনে করে। পাচক ব্রাহ্মণ আছে, সে যথাশাস্ত্র হিন্দমতেই পাক করে, কিন্তু কখনো খানসামা খলিল মিঞা মাগী রাঁধয়া আনে এবং টেবিলের উপর ছুরি-কাঁটা-চামচ দিয়া খানা সাজাইয়া দেয়। এ বাঙ্গলায় সত্যেন্দ্রনাথ একাকী বাস করে—সে বিপত্নীক । আর কেহ আত্মীয়স্বজনও এখানে নাই। চা-পান শেষ করিয়া সত্যেন্দ্র বেহারাকে ডাকিল। আদেশ অনুসারে সে তাহার পাইপ, তামাকের টিন ও দিয়াশলাই আনিয়া দিল। পাইপ সাজিয়া সত্যেন্দ্র নীরবে বসিয়া ধামপান করিতে লাগিল। পাইপ মুখে করিলে, ইংরাজী কাপড়পরা বাঙ্গলীকে অনেকটা ঠিক সাহেবের মত না হউক অন্ততঃ ফিরিঙ্গির মত দেখায়! তুমি বাংগালী ভদ্রসন্তান—যতই কেন ইংরাজি কাপড় পর না, তোমার মুখের লালিত্যটুকু, বন্ধি ও সৌজন্যের অভাটাকু তোমার বাঙ্গালীত্ব ধরাইয়া দিবে। কিন্তু পাইপটি দাঁতের মধ্যে চাপিলেই মুখভাবের কিঞ্চিৎ পরিবত্তন ঘটে --উহার মধ্যেই একটা কাঠখোট্টা গোছ দেখায়—মনে হয়, অত্যপে কারণেই হয়ত এ ড্যাম বলিয়া গজন করিয়া উঠিবে। তাই বেচার সত্যেন্দ্রনাথ অনেক কটে পাইপ-সেবন অভ্যাস করিয়াছে। যখন প্রথম সাহেবগিরিতে జాగా পাইপ ধরিয়াছিল, সে কি সীমান্য