পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কল্পনা করিতে লাগিল, কারণ, সহরে যে একটা কাণাকণি চলিতেছে তাহা সে অবগত ष्ळ्ळिल । তা–কাণাকাণির কিঞ্চিৎ কারণ ঘটিয়াছে বইকি! ডাকবাঙ্গলায় সবালা অবস্থানকালীন প্রায়ই বিকালে সত্যেন্দ্র সেখানে গিয়া চা-পান করিত। একদিন রাত্রে সেখানে নাকি সে খানাও খাইয়াছিল। তাহার পর, সবালার বাড়ী ঠিক হইলে মাঝে মাঝে সেখানে গিয়া সত্যেন্দ্র তাহার তত্ত্বাবধান করিয়াছে। এদিকে উপযর্ন্যপাঁর তিন চারিদিন বিকালে স্বালাকে লইয়া টমটমে চড়িয়া সে হাওয়া খাইতে বাহির হইয়াছে। সন্ধ্যার পর ফিরিয়া সবালার বাড়ীতেই নামে, সেখানে দই একপার চা-পান ও গল্পগজব করিয়া রাত্রি নয়টার সময় বাড়ী আসে। সতরাং লোকে গজব তুলিয়া দিয়াছে, ঘোষ সাহেব লেডি-ডাক্তারকে বিবাহ করবেন। আজ কাছারি হইতে ফিরিয়া সত্যেন্দ্র টমটম জাতিতে বলিল না। জলযোগাদির পর ছয়টার সময় সরেশবাবর বাঙ্গলার অভিমুখে পদচালনা করিল। পৌঁছিয়া দেখিল—বাঙ্গলার সম্মখে খোলা জায়গায় চেয়ার টেবিল প্রভৃতি বাহির । করিয়া সরেশবাব বসিয়াছেন। সরকারী ডাক্তারবাব ও মুসলমান সাব-রেজিস্ট্রার সাহেবও সেখানে উপস্থিত। একজন ভূত্য বড় হাতপাখা দলাইয়া সকলকে ব্যজন করিতেছে। সত্যেন্দ্রকে দেখিয়া সাব-রেজিস্ট্রর বলিলেন—“ঘোষ সাহেবকে অনেকদিন পরে এখানে দেখলাম যে ”—বলিয়া ডাক্তারবাবরে পানে চাহিয়া তিনি একটু গোপন হাস্য করলেন। সত্যেন্দ্র এটকু লক্ষ্য করিল এবং রোমে তাহার প্রযে়াগল কুচিত হইয়া উঠিল। যথাসাধ্য আত্মসমবরণ করিয়া বলিল—“হ্যাঁ—কদিন আসতে পারিনি।” সকলের জন্য এক এক পাল চা আসিল। চা-পানান্তে ডাক্তারবাব ও সাব-রেজিস্ট্রার বিদায় লইলেন। তখন অন্ধকার হইয়া আসিতেছে। সরেশবাব ব্যজনকারী ভূতাকে বলিলেন—“রহনে দেও—আভি পাংখাকা জরুরৎ নেহি হায়।”—ভূত্য পাখা লইয়া চলিয়া গেল। নুিজন পাইবামাত্র সরেশবাবু বলিলেন—"ওহে সত্যেন্দ্ৰ—এসব কি শনছি ?” “কি শুনেছেন?” “তুমি নাকি বিবাহ করবে ?” সত্যেন্দ্র হাসিয়া বলিল—“করিই যদি—আমার এমনই কি বেশী বয়স হয়েছে ?—আমার চেয়েও বড়ো বড়ো কত কত লোক ত বিবাহ করে।” : সরেশবাবু বলিলেন—“না, তোমার বিবাহের বয়স গিয়েছে এমন কথা ত আমি বলছিনে। তবে কি না-যদি বিবাহ করিতেই হয়—" সত্যেন্দ্র বলিল—“যদি বিবাহ করিতেই হয়—তা হলে এইবেলা করাই ভাল নয় ? ক্ৰমে বয়স ত আরও বেড়ে যাবে।” - সরেশবাব কয়েক মহত্তে নীরব থাকিয়া বলিলেন— না, হাসির কথা নয়। আসল ব্যাপারটা কি হয়েছে বল দেখি !" “কিসের ব্যাপার ?” می “এই লেডি ডাক্তারের সঙ্গে তোমার বিয়ে, এই যে একটা গজব রটেছে—এর আসল ব্যাপারটা কি ?” “গজেব মাত্র। যাঁরা গজব রটিয়েছেন তাঁদের কল্পনাশক্তির তারিফ করতে হয়।” “তা হলে গজবটা সত্যি নয় ত?” “নিশ্চয়ই নয়। কেন, আপনি কি সত্যি বলে মনে করেছিলেন ?” “আমার ত সেই আশঙ্কা হয়েছিল। যা হোক এটা যে সত্যি নয়, শনে আমার মন থেকে একটা ভাবনার বোঝা নেমে গেল। কিন্তু একটা কথা তোমায় জিজ্ঞাসা করি, তুমি কিছ মনে কোরো না।" “কি ?” Aste