পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“তুমি ঐ সীলোকটার সঙ্গে অত বেশী মেলামেশা কর কেন ?” একটা বিরক্তির সবরে সত্যেন্দ্র বলিল—“কার কথা বলছেন ? মিস মজুমদারের কথা বলছেন কি ?” স্ত্রীলোকটা বলিয়া উল্লেখ করায় সত্যেন্দ্রের এই উষ্ণা দেখিয়া, মনে মনে হাসিয়া সরেশবাব বললেন—“হ্যাঁ গো হ্যাঁ। আর কার কথা বলব ? তুমি না কি টমটমে করে ওকে বেড়াতে নিয়ে যাও—সন্ধ্যার পর ওর বাড়ীতে বসে চা খাও-এগুলো কি ভাল ? ఙ్ఞా శా-సౌ কোনও অভিভাবক নেই-দুজনের এত ঘনিষ্ঠতা কি রাপদ ?” শনিয়া সত্যেন্দ্র হা হা করিয়া হাসিয়া উঠিল । —ি“সরেশবাব, আপনি দেখছি একবারে সেকেলে হয়ে পড়েছেন। পর্যুষে পর্যুষে বন্ধত্ব হয় না? ঘনিষ্ঠত হয় না ? সু, লংলা না বল জলি হলরর সঙ্গে আমার বন্ধত্বে, ঘনিষ্ঠতায় দোষ কি ?” সরেশবাব গভীরভাবে বলিলেন—“ভিতরে কোনও দোষ না থাকতে পারে—কিন্তু দশ্যতঃ খারাপ।” “খারাপ দেখতে পারত, যদি মিস মজুমদার একজন অসয"পশা পদানশীনা স্মীলোক হতেন। তা ত উনি মন-উনি শিক্ষিতা স্বাধীনা—কেন খারাপ দেখাবে ? এই যে সাহেবেরা—?” সরেশবাব বাধা দিয়া বলিলেন—“সাহেবদের কথা ছেড়ে দাও। তুমিও সাহেব নও —মস মজুমদারও মেম নন। না হে, অতটা বাড়াবাড়ি কোরো না। কার মনে কি আছে কিছ বলা যায় ?” সত্যেন্দ্র বলিল—“আপনার শেষ কথাটার মানে বুঝলাম না—কার মনে কি আবার থাকবে ?” "ঐ তোমার মিস মজুমদারের মনে কি আছে তুমি কি জান ? উনি ত কাঁচ খাকী নন—তোমার সঙ্গে এতটা মেলামেশা হলে ক্ৰমে ওঁর একটা অখ্যাতি রটে যেতে পারে, তা কি উনি জানেন না ? খুবই জানেন। তা জেনে শনেও যখন এতদর গড়াতে দিচ্ছেন —তখন নিশ্চয়ই ওঁর মনে একটা গঢ় অভিসন্ধি আছে।” “কি অভিসন্ধি ?” “উনি অবিবাহিতা যাবতী—তুমি গহশান্য যুবক, দশটাকা রোজগার করছ, বিবাহ ছাড়া আর কি অন্য অভিসন্ধি হতে পারে? আমার ত বিশ্বাস, উনি তোমায় গথিবীর চেষ্টায় আছেন।” সত্যেন্দু বিরক্তির সবরে বলিল-“আপনাদের কেমন একটা বদ অভ্যাস হয়ে গেছে— স্ত্ৰীলোকমাত্রকেই অবিশ্বাস করা। আমি নিশ্চয় বলতে পারি, মিস মজুমদারের ও রকম কোনও অভিসন্ধি নেই। আর আপনি যে বললেন, আমার সঙ্গে মেলামেশা করে ওঁর একটা অখ্যাতি জন্মাতে পারে এটা উনি বিলক্ষণ জানেন-ঐখানেই আপনার ভুল ; কোনও ভদ্রলোকের সঙ্গে সামাজিকভাবে মেলামেশা করলে কেউ যে সেটাকে কুচক্ষে দেখবেতা তিনি সবপ্নেও জানেন না।" সরেশবাব একটু নীরব থাকিয়া বললেন—“তুমি ছেলেমানযে, তাই ও কথা বলছ । আমার পরামর্শ যদি শোন, ওর সঙ্গে আর মেলামেশা কোরো না। সীলোকের সঙ্গে পরষের বন্ধত্বে-ফন্ধত্ব আমি বকিনে। চাণক্য পণ্ডিতের সেই লোক জান ত ? ঘি আর আগন। ও সব সাহেবিয়ানা ছেড়ে দাও। তুমি এরই মধ্যে ওঁকে যে রকম সোণার চোখে দেখেছ—ওঁর একটা অসম্মান তোমার গায়ে সয় না—কোন দিন তুমি ওঁর সঙ্গে বা প্রেমেই পড়ে যাও, এই আমার ভাবনা। যে গজেব এখন গজবমাত্ৰ—কোন দিন সেটা সত্যি না হয়ে দাঁড়ায়।” সত্যেন্দ্র বলিল—“সে ভয় করবেন,নু। ওঁর সঙ্গে মিশে একটু আমোদ পাই--তাই