পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরদিন প্রভাতে যখন তাহার নিদ্রাভঙ্গ হইল, তখন বেশ রৌদ্র উঠিয়াছে। ঘড়ির পানে চাহিয়া দেখিল, সাতটার কাছাকাছি; তথাপি শয্যাত্যাগ করিবার জন্য তাহার কোনও ত্বরা দেখা গেল না। বিছানায় চপ করিয়া পড়িয়া গত রান্ত্রির ঘটনাপরম্পরা সে চিন্তা করিতে লাগিল। চিন্তা করিতে করিতে তাহার মনে বড় অশান্তি উপস্থিত হইল। ভাবিল—“এ কি করিয়া বসিলাম ! যাহা কোনও দিন কল্পনাও করি নাই, তাহাই করিয়া ফেলিয়াছি যে | কাজটা কি ভাল হইলে ?” “যাহাকে বিবাহ করিতে উদ্যত হইয়াছি—তাহার সম্বন্ধে আমি ত কিছই জানি না বলিলেই হয়। শুধু এই মাত্র জানি, সে ক্যামেবল ইস্কুলে পড়িয়া ডাক্তারি পাস করিয়াছে। উহার পিতা কে তাহা জানি না-মাতা কে জানি মা-কিরুপ বংশ তাহাও অবগত নহি— কি. পারিপাবিক অবস্থার ভিতর ও মানুষ হইয়াছে তাহাও আমায় সম্পণে অজ্ঞাত— হঠাৎ, বিবাহ করিব প্রতিজ্ঞা করিয়া বসিলাম -এ যে অন্ধকারে লাফ দেওয়ার মত ! কাজটা ত ভাল হইল না । - “উহাকে বিবাহ করিলে, পরিণামে যাহাই হউক, এখন ত সদ্য সদ্য তামার জাতি যাইবে। মগীই খাই আর যাই কার—তব ত আমি হিন্দ সমাজের ভিতরে আছি। বিবাহ করিলেই আমার মা, আমার ভাইবোনেরা, আমার আত্মীয়স্বজন—সকলে আমার পর হইয়া যাইবে। আমি এ কি করিলাম ! “কিন্তু এখন আর এসব কথা ভাবিয়া কি হইবে ? ভাবিতে উচিত ছিল প্রতিজ্ঞা যখন-না, আরও পর্বে ভাবিতে উচিত ছিল। অজানা একটি যাবতীর সঙ্গে আমি কেন এত মেলামেশা-এত ঘনিষ্ঠতা করিলাম ! যদি না করিতাম তাহা হইলে ত এ কান্ডটি ঘটিত না। কৰ্ম্মসুত্রের এ জাল স্বহস্তে বয়ন করিয়া কেন নিজেকে জড়াইলাম ? “কিন্তু কথা যখন দিয়াছি—আর ফিরিবার উপায় নাই। ফেরা বোধ হয়, ধম্মতিঃ উচিতও হইবে না। মড়তাবশে সেই সরলা রমণীর মনে প্রণয়-সঞ্চার করিয়াছি। বড়া চাণক্য পড়িত ঠিকই লিখিয়াছিল—ঘি গলিয়াছে। এখন যদি পশ্চাৎপদ হই—বিবাহ না কার—তবে সে বিশ্ববত হদয়খনি ভাঙ্গিয়া যাইবে। শধে তাই নয়—মৃত্যুর অধিক কলঙ্ক তাহার চিরজীবনের সঙ্গী হইবে। সুতরাং এখন আর অন্য চিন্তা নিষ্ফল।” একটি সুগভীর দীঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়া সত্যেন্দ্ৰ শয্যা হইতে উঠিল। মুখাদি প্রক্ষালনের পর, ছোট-হাজার খাইতে খাইতে তাহার মনে পড়িল—বদলির দরখাস্ত দেওয়া সম্বন্ধে কি স্থির করিলাম আজ গিয়া সরেশবাবকে জানাইবার কথা আছে। ভাবিল —যাই, গিয়া একদিন ছটির দরখাস্তখানা দিয়া আসি-আর সকল অবস্থা তহিকে বলিয়াও আস্তিত্ব গিয়া দেখিল, সরেশবাব তাঁহার আপিসরুক্ষে বসিয়া একটি মাকদ্দমার রায় লিখিতেছেন। বলিলেন—“সত্যেন্দ্ৰ—এস। দরখাস্ত লিখে এনেছ দেখছি যে ।” সত্যেন্দ্র বসিয়া, কাগজখানা সরেশবাবর হাতে দিল। পড়িয়া তিনি বললেন—“এ কি ? একদিনের ছটি নিয়ে কি করবে ?” মুখখানি লন করিয়া সত্যেন্দ্র বলিল—“আবার সব ওলট পালট হয়ে গেছে সরেশবাব । আমি মিস মজুমদারকে বিয়ে করব। সদরে গিয়ে রেজিস্ট্রারকে তিন আইন অনসারে নোটস দিয়ে আসব।” - ফ্যাল ফাল করিয়া সত্যেদের মখের পানে চাহিয়া রহিলেন। শেষে বলিলেন—“এই কাল সন্ধেবেলা বললে, ওকে তুমি বিবাহ করবার কল্পনাও করতে পার না; এরই মধ্যে আবার মত পরিবত্তন হবার কারণ কি ?” সত্যেন্দ্র তখন, গত রাত্রির সমস্ত ঘটনা সংক্ষেপে তাঁহার কাছে ফণনা করিল। সমস্ত শনিয়া সরেশবাব বললেন—“তোমায় যেমন ভালমানষেটি পেয়েছে –কতখানি ఆ(t