পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পোট খাইয়ে দিয়েছিল ?” সত্যেক্ষ্ম এ কথায় একট বিরক্ত হইল। বলিল—“পোর্ট খেয়েই কি আমি ও কাজ করেছি ? অবস্থা ত সব শনলেন-ওকে যদি এখন আমি বিবাহ করতে অস্বীকার করি, সেটা কি আমার পক্ষে ঘোর অন্যায় হয় না ?” সুরেশবাব দঢ়স্বরে বলিলেন—“ন, অন্যায় হয় না। যদি পাশ্চাত্য বিবাহ-নীতি অনুসারেই বিচার করা যায়, তা হলে তুমি ওকে বিবাহ করলেই অন্যায় হয়।” “কেন ?” "কারণ-তুমি ওকে ভালবাস না।" “কি করে জানলেন আমি ভালবাসনে ?" “যদি ভালবাসতে, তা হলে এর অনেক আগেই ওকে বিবাহ করবার ইচ্ছা তোমার হত। এ গন্ডগোলটির জন্যে অপেক্ষা করে থাকতে না। কাল সন্ধ্যার পর আমার কাছ থেকে যখন গেলে, তখন পয্যন্ত ওকে বিবাহ করা তোমার পক্ষে অসম্ভব—আর ঘণ্টা দইয়ের মধ্যেই চার আউন্স পোট আর খানিকটে চোখের জলের প্রভাবেই তোমার হদয়ক্ষেত্র উববর হয়ে প্রেম-তর গজিয়ে উঠল ?” সত্যেন্দ্র নিরক্তের হইয়া বসিয়া রহিল। সরেশবাব বলিলেন—“তোমায় এতটুকু বেলা থেকে দেখছি, তোমার বাপ আমায় বিশেষ স্নেহ করতেন, সেই অধিকারেই এ সকল কথা তোমায় আমি বলছি—তুমি কিছ মনে কোরো না সত্যেন। তুমি ছেলেমানষে—তোমার বন্ধি এখনও কাঁচা। আমার পরামর্শ শোন " “কি বলন।” “হতে পারে মিস মজুমদার খব ভাল লোক, কিন্তু তুমি ওঁকে কতটুকুই বা জান ? অন্য রকম হওয়াও কিছুমাত্র অপচয্য নয়। রাগ কোরো না,-আমার ত সন্দেহ হয় উনি জেনেশনে তোমায় এই জালে জড়িয়েছেন। যদি তাই হয়, তবে তোমার ভবিষ্যৎ জীবনটা নট হয়ে যাবে তা তুমি বুঝতে পারছ না ? জাত যাওয়া-টাওয়ার কথা না হয় ছেড়েই দিলাম। আমি বলি কি, কিছুদিন এখন চোখকাণ খুলে থাক না –রেজিস্ট্রারকে নোটিস দেবার এত তাড়াতাড়ি কি ?” “আমি ওটা কিছুদিন চেপেই রাখব না হয়। আমার রিপোর্ট না পেলে তিনি আসবেন না; আগে দা চারখানা তাগিদ আসক তবে আমি রিপোর্ট পাঠাব। তুমি মাসখানেক কি অন্ততঃ পনেরো দিন সবর কর। বিবাহ-যার ফল আজীবন ভোগ করতে হবেবংশাবলীক্লমে ভোগ করতে হবে—সে কি তাড়াতাড়ি পিথর করে ফেলবার জিনিষ ?” সত্যেন্দ্র একটা চিন্তা করিয়া বলিল—“আচ্ছা, তাই হোক। আমি অপেক্ষা করলাম।” সরেশবাব তাহার ছটির দরখাস্তখানি খণ্ড খণ্ড করিয়া ছিড়িয়া ফেলিলেন। সত্যেন্দ্র প্রস্থান করিল। বাসায় গিয়া দেখিল, সবালার বেহার একখানি চিঠি লইয়া দাঁড়াইয়া আছে। সবালা আজ তাহাকে “প্রিয়তম” পাঠ লিখিয়া, সাধ্যভোজনে নিমন্ত্ৰণ করিয়াছে। স্বাক্ষর করিয়াছে, “তোমার প্রেমাথিনী সবোলা।” চিঠি পড়িয়া সত্যেন্দ্র বেহারাকে বলিল, “যাও পিছে জবাব ভেজেঙ্গে।” কিয়ৎক্ষণ পরে লিখিয়া পঠাইল—তাহার শরীর অসুস্থ, রাত্রে কিছু খাইবে না। বিকালে গিয়ে দেখা করিবে । - বিকালে গিয়া দেখিল সবালা বাগানে দাঁড়াইয়া ফুল তুলিতেছে। হষোংফল্প নয়নে তাহার পানে "চাহিয়া সবালা বলিল-“এস-কেমন আছ ?” “শরীরটা বড় খারাপ।” “কি হয়েছে ?” “বড় মাথা ধরেছে।” 'ఆఫ్రి