পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এ সংবাদে সবালা ভারি কাতর হইয়া পড়িল । বলিল—“এস, তোমার মাথায় ওডিকলোন দিয়ে দিই।” সত্যেন্দ্রর সবালার পশ্চাৎ পশ্চাৎ বসিবার কক্ষে গেল। গোলাপজলের সহিত ওডিকলোন মিশাইয়া সবালা তাহার মস্তকে দিতে লাগিল। সত্যেন্দ্র একটু সন্থ বোধ করিলে সবালা জিজ্ঞাসা করিল—“ছটির দরখাস্ত করেছ?” "וזה" “কেন ?”—সবালার কণ্ঠস্বরে বিলক্ষণ উৎকণ্ঠা প্রকাশ পাইল। "এখন কাজকম বেশী পড়েছে, দিনকতক যাক।” వ్రైక్షాళణా కోణా శాకా একট পরে সত্যেন্দ্র উঠিয়া --"এখন যাই।” স্বালা কাতর বরে বলিল-“এখনি যাবে কেন ?” “হিমটা আজ আর লাগাব না।”—বলিয়া সত্যেন্দ্র বিদায় গ্রহণ করিল। উপযাপরি তিনদিন সত্যেন্ধ আর ও পথ মাড়াইল না; এ তিনদিন সবালা উৎকণ্ঠিত হইয়া তাহাকে অনেকগুলি পত্র লিখিল—নানা অছিলায় তাহাকে ডাকিয়া পাঠাইল-কিন্তু সত্যেন্দ্র একটা না একটা ওজর করিয়া কাটাইয়া দিতে লাগিল । চতুর্থ দিন রবিবার ছিল। অপরাত্নকালে সত্যেন্দ্ৰ ভাবিল, সরেশবাবর সহিত সাক্ষাৎ করিয়া আসি—ফিরিবার পথে সবালাকেও দেখিয়া আসিব। ঘন্টাখানেক সরেশবাবর বাড়ীতে বসিয়া সত্যেন্দ্র গল্পগজব করিল, সেই বেনামী চিঠিখানি বাহির করিয়া, উভয়ে তাহার প্রেরক সম্বন্ধে নানারপ অনুমান করিতে লাগিল। পাঁচটার পর উঠিয়া সত্যেন্দ্র সবালার বাড়ীর দিকে চলিল। বাগান পার হইয়া সম্মুখের বারান্দায় উঠতেই সত্যেন্দ্র দেখিল, সবালার বেহারা একখানা পত্র হাতে করিয়া বাহির হইতেছে। সত্যেন্ত্রকে দেখিবামার সে যেন একটা ভীত হইয়া তাড়াতাড়ি পরখানি নিজ জামার পকেটের মধ্যে লুকাইয়া ফেলিল। ঐ রঙের ঐ প্রকার খামেই সবালা সত্যেন্দ্রকে চিঠি লিখিয়া থাকে। বেহরার অচিরণ ও মুখভাব দেখিয়া সত্যেন্দ্রের ভারি সন্দেহ হইল। জিজ্ঞাসা করিল—“কিসকা চিঠি হায় রে?” বেহারা থতমত খাইয়া বলিল—“চিঠি নেহি হািজর একঠো কাগজ।” সত্যেন্দ্র চক্ষ রাঙাইয়া বলিল—"নিকালো দেখে।” নাম—যদিও সবালার হসন্তাক্ষর নহে। নিমেষমধ্যে খলিয়া পাঠ করিল – প্রিজ:ক্ত ঘোষ সাএব কমলেস পরে মেম সাধবের সরির বরই খারাপ হইয়াছে তিনি সয্যাগত তেনার ওতশিয় মাতা ধরিয়াছে আপনি সিগ্র আসিয়া তেনাকে দেখিবে ওধিক আর কি লিখিব। সিমতি কমিনি দাঁসি চিঠিখানি পড়িবামাত্র একটা কথা বিদ্যুতের মত সত্যেদের মনে প্রবেশ করিল। চিঠি পকেটে রাখিয়া বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করিয়া দেখিল, বারান্দায় বসিয়া সবালা ও কামিনী তাস খেলিতেছে, সবালা তাস হাতে করিয়া উচ্চস্বরে হাসিতেছে। জতার শব্দ পাইয়া, সত্যেন্দ্রকে দেখিবামাত্র তাহারা দুইজনে ধড়মড় করিয়া দাঁড়াইয়া উঠিল। কামিনী তাসগলো কুড়াইয়া লইয়া একটা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল। সত্যেন্দ্র বারান্দায় উঠিয়া দেখিল, সবালার মুখ পাংশবেণ ধারণ করিয়াছে। বিহলকণ্ঠে বলিল—“এস । এতদিন অসিনি কেন ?" সত্যেন্দ্র তাহার পানে কটমট করিয়া চাহিয়া বলিল—“তোমার নাকি মাথা ধরেছে ?” স্বালা মাথা টিপিয়া ধরিয়া বলিল—“হ্যাঁ, ধরেছে বই কি। সেই বেলা তিনটেথেকে ধরেছে। তোমায় কে বললে?” ৭