পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“আমি তোমার বারান্দায় উঠেই বেয়ারার কাছে চিঠি পেলাম। কামিনী লিখেছে।” “হা-কামিনীকে বলেছিলাম চিঠি লিখে তোমায় ডেকে পাঠাতে ” “অস্থা এক কাজ কর—একটু গোলাপজল আর ওড়িকোলন মিশিয়ে মাথায় দাও। আমার একট তাড়াতাড়ি আছে, আমি চললাম।” বলিয়া মস মস করিয়া সত্যেন্দ্র বাহির হইয়া গেল। যথাসাধ্য ক্ষিপ্রচরণে সৱেশবাবর বাংগালায় গিয়া সে দেখিল, তিনি টেবিল চেয়ার প্রভৃতি বাহির করাইয়া বরান্দার নিনে বাগানে বসিয়াছেন। সত্যেন্দ্র হাঁফাইতে হাঁফাইতে বলিল—“সে বেনামী চিঠিখানা বের করন ত।” টেবিলের উপরেই আপিস বাক্স ছিল। সরেশবাব পত্ৰখানি বাহির করিয়া দিলেন। সত্যেন্দ্র দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া সেই চিঠি আর কামিনীর এই চিঠি পাশাপাশি ধরিয়া মিলাইয়া দেখিল। পরে দইখানাই সরেশবাবর সম্মুখে ফেলিয়া বলিল—“দেখন, একহাতের লেখা কি না।” পকেট হইতে রমাল বাহির করিয়া ললাটের ঘন্ম মাছিয়া সত্যেন্দ্র একখানা চেয়ারে উপবেশন করিলা । সুরেশবাব পত্র দুইখানি পরীক্ষা করিয়া, হা হা করিয়া হাসিয়া উঠিলেন। বললেন —“একই হাতের লেখা, বানান ভুল, ভাষার ভুলগুলি পর্যন্ত মিলে যাচ্ছে। দেখলে হে ? বন্ধস্য বচনং—” যাহা যাহা ঘাঁটয়াছিল, সত্যেন্দ্র তখন সমস্তই বণনা করিল। সরেশবাব বলিলেন—“ধমের কল বাতাসে নড়ে গেছে। তিন চার দিন তুমি যাওনি —ওরা ভাবলে, বঝি বা শিকলি কাটলে তুমি। তাই কামিনীকে দিয়ে চিঠি লেখালে, যাতে তুমি মনে কর, আহা বেচারির এত অসুখ করেছে যে নিজে চিঠিখানাও লিখতে পারেনি। বেয়ারাকে নিশ্চয়ই শিখিয়ে দিয়েছিল যে সাহেব যদি জিজ্ঞাসা করেন ত বলিস মেমসাহেব বিছানায় পড়ে ছটফট করছেন। বেয়ারা তোমার বঙ্গলায় যাব—তার পর তুমি আসকে—ইতিমধ্যে তাসের বাজিটে সেরে নিয়ে মেমসাহেব বিছানায় পড়ে ছটফট করতেনও। কিন্তু তুমি যে হরপ করে গিয়ে পড়বে, তা আর কি করে জানবে বল ?” সত্যেন্দ্র বলিল—“আচ্ছা, নিজের নামে অমন বদনাম দিয়ে ঝির দ্বারায় ও রকম বেনামী চিঠি লেখাবার উদ্দেশ্য কি ?” সরেশবাব বলিলেন—“উদ্দেশ্য ত জলের মত পল্ট বোঝা যাচ্ছে। একটা গোলমাল হবে, ধৰ্ম্ম ভেবে ওকে তুমি বিবাহ করতে সম্মত হবে—এই আর কি। যা উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখিয়েছিল—তা সফলও হয়ে উঠেছিল। দেখ তোমার সরলা অবলার কীৰ্ত্তিখানি । উঃ—যে সত্ৰীলোক নিজের নামে অমন কলঙ্ক নিজে হাতে লেপে দিতে পারে, তার কি অসাধ্য কিছ আছে ? এখন তোমার চোখ ফুটেছে ত?” “ফটেছে বইকি।” “উঃ—খব রক্ষে পেয়ে গেছ। নিম্মল জলাশয় ভ্রমে ঐ এদোপ কুরে ত ঝাঁপ দিতে । যাচ্ছিলে ! খুব বেচে গেছ—দগণ দাগ " পরদিন সত্যেন্দ্র তিন মাসের ছটির জন্য দরখাস্ত দিল। ছটি লইয়া বাড়ী গিয়া, মাতৃনিবাচিত সেই সন্দরী ডাগর মেয়েটিকেই বিবাহ করিয়া ফেলিল। [ আশ্বিন, ১৩২০ ] সম্পাদকের আত্মকাহিনী প্রথম পরিচ্ছেদ আমার প্রকৃত নামটি গোপন করিয়া এই কাহিনী উপলক্ষ্যে যে কোনও একটি ছদ্ম-নাম سياوئ S