পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সঙ্গে সঙ্গে বলিল—“অনেক দিন থেকে আপনাকে দেখবার জন্যে উৎসক ছিলাম। আপনি একজন দেশবিখ্যাত লোক। আজ আমার সাপ্রভাত।” আমি বিনয়সচক একটা মদ হাসা করিয়া বলিলাম, "আপনার নাম কি ?” “আমি একজন অখ্যাত অজ্ঞাত লোক। আমার নাম শনলে ত আপনি চিনতে পারবেন না। আমি মফস্বলে থাকি। সম্প্রতি একট কাজে কলকাতায় এসেছিলাম। আয"শক্তিতে আপনার প্রবন্ধ গড়ে আপনার উপর বড়ই শ্রদ্ধা হয়ে গেছে। তাই ভাবলাম, একবার গিয়ে আলাপ করে আসি। আপনি ক্ষণজন্মা পরষ।” - দেখিলাম, গ্রাহক হইবার গতিক নয়। একট ক্ষম হইলাম, তবে তাহার স্তবে তুষ্টও হইলাম। একটা সলজ হাসি হাসিয়া বলিলাম—“আমি অতি সামান্য ব্যক্তি-সামান্য ক্ষমতা।” সে দলিল, “আপনার মত তার দ চার জন সামান্য ব্যক্তি বাঙ্গলাদেশে থাকলে আর ভাবনা ছিল কি ? জনা লোকে কি মনে করে জানি নে, কিন্তু আমার ত বিশ্বাস -এই স্বদেশী আন্দোলনকে আৰ্য্যশক্তিই জাগিয়ে রেখেছে।” আমি বলিলাম, “সাধ্যমত দেশের একট কাজ করতে চেন্টা করে থাকি।” বাবটি বলিল, “আজকাল আৰ্য্যশক্তিই বোধহয় বাঙ্গলার প্রধান মাসিকপত্র ?” একটা বিনয়সচক হাস্য করিয়া বলিলাম—“আমাদের কিছু বলা শোভা পায় না; তবে অনেকেই এখন এ কথা বলছেন রটে । গত সপ্তাহের বঙ্গদত দেখেছেন ?”

  • "না—কি লিখেছে ?”

“আমাদের পুজোর সংখ্যার একটা সমালোচনা করেছে”—বলিয়া দেরাজ হইতে বঙ্গদুতখানি বহির করিয়া বাবটির হস্তে দিলাম। তাহতে ঠিক ঐ কথাই ছিল—আয"শক্তিই এখন বাঙ্গলার সববশ্লেষ্ঠ মাসিকপত্র। তবে ও কথাটি বঙ্গদত বলে নাই—আমি নিজেই বলিয়াছিলাম কারণ, সমালোচনাটি আমারই স্বরচিত। যুবক পাঠাতে কাগজখানি টেবিলের উপর রাখিয়া বলিল, “বাঃ—বেশ লিখেছে। ঠিকই লিখেছে; আচ্ছা মশায়, কোন শ্রেণীর পাঠকের মধ্যে আৰ্য্যশক্তির বেশী প্রচার ?” আমি উৎসাহের সহিত বলিলাম, “দেশের অধিকাংশ গণ্যমান্য পদস্থ লোকেই আমাদের গ্রাহক। এদিকে বর্ণমা থেকে আরম্ভ করে ও-দিকে পেশোয়ার পর্যন্ত্ব—যেখানেই বাঙ্গালী আছে—সেখানেই আমাশক্তির আদর।” কথাটা বিলক্ষণ অতিরঞ্জিণ্ড করিয়াই বলিলাম। আমরা যে কেবল কাগজে ছাপাইয়া বিজ্ঞাপন দিই এমন নহে—সযোগ পাইলে মুখে মুখেও বিজ্ঞাপন প্রচার করিয়া থাকি। লোকটি বলিল, “তা ত হবেই—তা ত হবেই। আমরাও দেখেছি কি না-আৰ্য্যশক্তিতে এক একটা সবদেশী প্রবন্ধ বেরিয়েছে—আর কলেজের ছেলেরা মেতে উঠেছে।” “হ্যাঁ-কলেজের ছেলেদের মধ্যেও আমাদের যথেষ্ট গ্রাহক। আগে তত ছিল না। স্বদেশী প্রবন্ধগুলো যে সময় থেকে বেরতে আরম্ভ করেছে—সেই সময় থেকে কলেজের ছেলেরা খুব গ্রাহক হচ্ছে।” বাবটি পকেট হইতে ঘড়ি খলিয়া দেখিয়া বলিল “আচ্ছা মনতোষবাব, একটি কথা জিজ্ঞাসা করিতে পারি কি ?--আয"শক্তির গ্রাহক কত হয়েছে ?” একটা চিন্তার ভান করিয়া বলিলাম, “ঠিক মনে নেই।” “দশ হাজারের বেশী বোধ হয় ?” ভ্ৰযোিগল কুঞ্চিত করিয়া, যেন মনে মনে কত হিসাব করিতেছি, এরূপ ভাবটা দেখাইয়া । বলিলাম, “নী—দশ হাজার এখনও উঠেনি।” বাসতবিক উঠে নাই। অন্ধেকও উঠে নাই। সিকি উঠিয়াছে কি না সন্দেহ। কিন্তু কেন জানি না, বাবটি ধরিয়া লইল, দশ হাজার পরিতে আর বেশী বিলম্ব নাই। বলিল —“উঃ—ন হাজারের উপর গ্রাহক ! বোধ হয় বাঙ্গলা আর কোন মাসিকপত্রের গ্রাহক ন হাজার উঠেনি ?” ❖ፃ•