পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একটু তাচ্ছিল্যের হাসি হাসিয়া বলিলাম, ”অধোঁকও নয়।" লোকটি তখন ধীরে ধীরে পকেট হইতে একতাড়া কাগজ বাহির করিল। একট কাসিয়া, একটু হাসিয়া, সঙ্কোচের সহিত বলিল, “আমি দটি স্বদেশী প্রবন্ধ লিখেছি। এ দটি—অাৰ্য্যশক্তিতে ছাপাবার মত হবে কি ?”—বলিয়া কাগজগুলি আমার সম্মুখে वाभिश्ना नििकल । আমি মনে মনে হাসিয়া ভাবিলাম,-"তাই বল!—তোমার উদ্দেশ্যটা এতক্ষণে বোঝা গেল। এত আমড়াগেছে না করে প্রথমে সোজাসাঁজ বললেই হত ! তোমার এ প্রবন্ধ যদি রাবিশ হয়, তুমি আমায় ক্ষণজন্মা পরষ বলেছ বলেই কি আমি ছাপাব ?”—প্রবন্ধ সেনগুপ্ত। বলিলাম—“আচ্ছা, রেখে যান, সময় মত পড়ে দেখব। যদি ছাপাবার উপযুক্ত হয় তবে অবশ্যই ছাপা হবে।" “কাত্তিকে বেরবে কি ?--অবশ্য, যদি মনোনীত হয় ?” “কাত্তি কে ?—কাত্তিকের কাপি ত একরকম ঠিকই হয়ে গেছে। অগ্রহায়ণের আগে আর—” লোকটি দাঁড়াইয়া উঠিয়াছিল। বলিল—“আচ্ছা, দেখবেন। না হয় অগ্রহায়ণেই দেবেন। আজ আপনার সঙ্গে আলাপ হয়ে বাস্তবিকই বড় আনন্দ হল, মনতোষবাব তাপনার অনেকক্ষণ সময় নষ্ট করে দিলাম, কিছ মনে করবেন না। এখন তবে অসি— নমস্কার ।” “নমস্কার—” বলিয়া আমি চেয়ার ছাড়িয়া দুই ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়া আবার বসিলাম। লোকটিও দ্রবারের বাহির হইল—আর সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশ করিল, আমার সহকারী সম্পাদক অবিনাশ। পাজা-সংখ্যার একটা ইংরাজি সমালোচনী লিখিয়া তাহা প্রকাশের জন্য অবিনাশকৈ কেনিও দৈনিক সংবাদপত্রের আপিসে পাঠাইয়াছিলাম। প্রবেশমাত্র তাই তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “কি হল হে ?” প্রফ দেখে দিয়ে এসেছি । ও লোকটা কেন এসেছিল ?” “রাসকবাক ?” "ওর নাম কি রসিকবাব নাকি ? আপনাকে তাই বলেছে ববি ?" “না, মুখে বলেনি, নিজের লেখা বলে এই দটো প্রবন্ধ দিয়ে গেছে—নীচে সই রয়েছে শ্রীরসিকমোহন সেনগুপ্ত।” অবিনাশ উত্তেজিত স্বরে বলিল, “ওর মাথা! ওর চোঁদপুরষেও কার নাম রসিকমোহন সেনগুপ্ত নয়।” iবস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করলাম, “তবে ও কে ?” “ডিটেকটিব। ওর নাম ভুপতি রায় ।” ভীত হইয়া বলিলাম, “ডিটেকটিব ? বল কি ! বোধ হয় ভুল করছ।” অবিনাশ জোরের সহিত বলিল, “হ্যাঁ, ও ডিটেকটিব। আমি ওকে খুব চিনি। পঞ্চাশ দিন ওকে আমি লালবাজারে দেখেছি। কি বললে ?” শনিয়া আমি মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িলাম। একে এই নতন তালিকার গজব —তাহার উপর কতকগলা অযথা মিথ্যা কথা বলিয়া আৰ্য্যাশক্তির প্রতিপত্তি সম্বন্ধে উহার মনে একটা ভ্রান্ত ধারণা জন্মাইয়া দিলাম। ও এখন তাহারও উপর পলিসোচিত রঙ চড়াইয়া কি ভীষণ রিপোটাই যে দাখিল করিবে, তাহা ভাবিয়া হংকল্প উপস্থিত হইল। অবিনাশ আমার মনের ভাব বুঝিতে পারিল। বেষ্টিতে বসিয়া বলিল—“কি সব কথাবাৰ্ত্ত হল, আমায় বলন দেখি।” যতদূর স্মরণ করতে পারলাম, সমস্ত কথা অবিনাশের নিকট ব্যক্ত করলাম। শনিয়া সে গালে হাত দিয়া বসিয়া রহিল। একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিল, "কাজটা ভাল হয়নি। যে দিন-সময়।”—টেবিল হইতে সেই কাগজগলো উঠাইয়া লইয়া পাঠ করতে »ፃ »