পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৭৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐ বঝি পলিস আসিল। গলির মোড়ে লাল পাগড়ি দেখিলেই কপিয়া উঠি। আপনারা জিজ্ঞাসা করিতে পারেন, জেলকে আমার এত ভয় কেন ? কেন তাহা বলিতেছি। প্রথমতঃ জেলে ধমবিচার নাই, জাতিবিচার নাই। আমি ব্রাহ্মণের ছেলে, ত্রিসন্ধ্যা না করিয়া জলগ্রহণ করি না। জেলে আমি সন্ধ্যা-আহ্নিক করিবার জন্য কুশাসনই বা পাইব কোথায়, একটা গঙ্গাজলই বা আনিয়া দিবে কে ? আমি যাহার তাহার হাতে খাই না। এক, বাড়ীর লোক, কিংবা সপরিচিত ব্যক্তি যে নিঃসন্ধিগধভাবে ব্রাহ্মণ, তাহারই হাতে খাই। জেলে ত সে আব্দারটি আমার খাটিবে না। দ্বিতীয় কারণ-বিধবা হইতে আমার ব্রাহ্মণীর ঘোরতর আপত্তি। দীঘকাল কারাদন্ড হইলে, আমি জীবিত অবস্থায় জেল হইতে যে বাহির হইব না ইহা নিশ্চয়। আমার বয়স হইয়াছে, সবাথাও তেমন ভাল নহে। জেলের অন্ন খাইয়া আমি কয়দিন বাঁচিব বলনে ? আমি মরিয়া গেলে আমার ব্রাহ্মণীর দশাই বা কি হইবে, আর আমার নাবালক পত্রকন্যাগুলিই বা দাঁড়াইবে কোথায় ? এই দুইটি বাধার জন্য জেলে যাওয়া আমার পক্ষে অত্যন্ত অসুবিধা-নচেৎ আমার মনে যে একটা অহেতুকী জেলভীতি আছে, তাহা আমি স্বীকার করি না। ইহা হীন ভয় নহে-সদলভ পরিণামদশিতা। যাহা হউক, রাম রাম বলিয়া ত তিন দিন কাটিয়া গেল, কোনও বিপদ ঘটিল না । খানাতল্লাসী হইবার হইলে এতদিন হইত। মনে কতকটা ভরসা পাইলাম। চতুৰ্থ দিনে অবিনাশ আসিলে বলিলাম, ”কিহ, ক'দিন ছিলে কোথায় ? আসাম যে " অবিনাশ বলিল, “আজে বাড়ীতেই ছিলাম। খানাতল্লাসী-টপ্লাসী কিছ হয়নি ত " “না। সেই ভয়ে আসতে না বুঝি ?” “আঞ্জে, ভয়ে নয়, ভবিষ্যৎ ভেবেই আসিনি। ধরন, যদি পুলিস আসত, আর আপনাকে আমাকে দুজনকেই ধরে নিয়ে যেত, তা হলে আযীশক্তির কি দশা হত বলন দেখি ? কাগজখানি বন্ধ হয়ে যেত, আপনার এত বড় একটা কীিত্তি লোপ হত, বঙ্গাসাহিত্যের সমুহ ক্ষতি হত।" BBBBBBB BBBB BBBBB BBBB BBBB BBBS BBBBBBB BB BBBBB অসাধারণ টান। কিন্তু উপস্থিত ক্ষেত্রে কাগজের প্রতি একট কম এবং আমার প্রতি তাহার একটু বেশী টান দেখিলেই মনটা যেন খসী হইত অবিনাশ মুখখানা হাঁড়ি করিয়া বলিল, “আবার ত একটা গজেব শুনে এলম " “আবার কি শুনলে ?” - “নতন তালিকায় সাহিত্যবিভাগ থেকে তিনটে নমিনেশন যাচ্ছে। একজন বড় কবি, একজন বড় মাসিক-সম্পাদক, আর একজন বড় দৈনিক-সম্পাদককে ডিপোর্ট করা হবে। শেষের নামটি সর্ববাদসম্মতভাবে সিথর হয়ে গেছে। কিন্তু এ দেশে সবচেয়ে বড় কবি কে, এবং সবচেয়ে প্রধান মাসিকপত্র কোনটি, এই নিয়ে কাউন্সিলে মতভেদ উপস্থিত হয়েছে—বাদানবোদ চলছে।” আমি বলিলাম, "তাতে আর আমাদের ভয় কি ? ধরতে হয় কেদার মিত্তিরকে ধরকে । ওদের আকারও আমাদের চেয়ে বড়, ছবিও আমাদের চেয়ে বেশী ছাপে, গ্রাহকসংখ্যাও অনেক বেশী-—প্রায় আমাদের ডবল। কেদার মিত্তিরের ধমকেতুর কাছে কি আমাদের ‘আয"শক্তি ?’ আমাদের ‘আয"শক্তি’কে কেই বা পৌছে ?" অবিনাশ গভীর ভাবে ঘাড় নাড়িতে নাড়িতে বলিল, “সে ত ঠিক কথাই-কিন্তু আমরা যে সাক পিটিয়ে বেড়িয়েছি কিনা যে, আমাদেরই গ্রাহক সবচেয়ে বেশী—প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশী। এটা কতকটা আসামীর স্বীকারোন্তি গোছ হয়ে পড়েছে, বকেছেন না ?” শনিয়া আমার বকের ভিতরটা গরে গরে করিয়া উঠিল। কিন্তু মৌখিক সাহস দেখাইয়া বলিলাম, "বিজ্ঞাপনের কথা ছেড়ে দাও। বিজ্ঞাপনে কে কি না লেখে? এই যে তুমি তোমার কেতাবের বিজ্ঞাপনে ফি মাসে ছাপাচ্ছে—বিষবৃক্ষের পর এমন উপন্যাস আর প্রকাশিত হয় নাই—লোকে ভুলছে ? কেউ ত কিনছে না। গভর্ণমেণ্ট কি আর ১৭৩